একটি শিশু স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে পুরস্কার নিতে মঞ্চে উঠেছে। তার হাতে সনদ, মুখে আনন্দের ঝলক। মঞ্চ থেকে নেমে আসার আগে সে একবার দর্শকসারির দিকে তাকায়। সেখানে মা আছেন, শিক্ষক আছেন, আত্মীয়স্বজন আছেন। কিন্তু যে মানুষটিকে সে খুঁজছে, তিনি নেই। হয়তো দূর দেশে কাজ করছেন, হয়তো কর্মব্যস্ততার ভিড়ে হারিয়ে গেছেন, হয়তো কাছেই আছেন কিন্তু সন্তানের জীবনে নেই। এই দৃশ্যটিতেই পিতৃত্বের বহু রূপ লুকিয়ে আছে।
বাংলাদেশে প্রতিদিন হাজার হাজার শিশুর জন্ম হয়। প্রতিটি জন্মের সঙ্গে একটি নতুন পরিচয়ও তৈরি হয়। কেউ না কেউ বাবা হন। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়, সবাই কি পিতা হয়ে উঠতে পারেন?
বছরের একটি দিন আসে, যেদিন আমরা বাবা দিবস পালন করি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে যায় বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার গল্পে। নিঃসন্দেহে একজন ভালো বাবা একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। কিন্তু এই দিনটি শুধু উদযাপনের নয়; আত্মসমালোচনারও দিন। কারণ সমাজের সব শিশুর অভিজ্ঞতা এক নয়, সব বাবার গল্পও এক নয়।
আমরা সাধারণত বাবাকে একটি একক পরিচয়ে দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু বাস্তবে বাবা একটি বহুমাত্রিক চরিত্র। একজন বাবা আছেন, যিনি নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন পূরণ করেন। নিজে ভালো মন্দ না খেয়ে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেন। এমনকি তার মৃত্যুর পর সন্তানদের দুধে ভাতে খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করে রাখেন।
একজন শিশুর জীবনে বাবা সাধারণত প্রথম নায়ক। ছোট্ট শিশুটি বিশ্বাস করে, তার বাবা সব পারেন। এই বিশ্বাস গড়ে ওঠে বাবার উপস্থিতি, স্নেহ এবং দায়িত্ববোধের ওপর। বাবা যখন সন্তানের হাত ধরে রাস্তা পার করেন, স্কুলে নিয়ে যান, ভুল করলে ধৈর্য নিয়ে শেখান কিংবা ব্যর্থতার সময় পাশে দাঁড়ান, তখন তিনি শুধু একটি দায়িত্ব পালন করেন না; তিনি একটি মানুষ গড়ে তোলেন।
বিশ্বজুড়ে গবেষণায় দেখা গেছে, বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ সন্তানের মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক আচরণের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। যে শিশু বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারে, নিজের ভয় ও স্বপ্ন ভাগ করে নিতে পারে, সে জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি প্রস্তুত থাকে।
কিন্তু বাস্তবতা সব সময় এত সুন্দর নয়। আমাদের সমাজে এমন বহু শিশু রয়েছে, যাদের বাবারা জীবিত থাকলেও তাদের জীবনে কার্যত অনুপস্থিত। কেউ কর্মব্যস্ততার অজুহাতে সন্তানের জন্য সময় বের করেন না। কেউ মনে করেন অর্থ উপার্জনই পিতৃত্বের একমাত্র দায়িত্ব। কেউ আবার ব্যক্তিগত স্বার্থ, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা উদাসীনতার কারণে সন্তানদের আবেগিক চাহিদাকে উপেক্ষা করেন।
আবার অন্যদিকে এমন অসংখ্য বাবাও আছেন, যাদের ত্যাগের গল্প খুব কমই আলোচনায় আসে। গ্রামের কৃষক বাবা, যিনি খরার মাঠে দাঁড়িয়ে সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি জোগাড় করেন। রিকশাচালক বাবা, যিনি নিজের নতুন জামা না কিনে সন্তানের বই কেনেন। প্রবাসী বাবা, যিনি হাজার মাইল দূরে শ্রমিক ক্যাম্পে বসে মোবাইলের পর্দায় সন্তানের বড় হয়ে ওঠা দেখেন। তাদের অনেকেই সন্তানের প্রথম হাঁটা, প্রথম স্কুলে যাওয়া কিংবা প্রথম পুরস্কার জেতার মুহূর্তে পাশে থাকতে পারেন না। কিন্তু অনুপস্থিতির ভেতরেও তাদের ভালোবাসা উপস্থিত থাকে।
আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত, বাবা মানেই উপার্জনকারী। ফলে অনেকেই মনে করেন সংসারের খরচ বহন করলেই পিতৃত্বের দায়িত্ব শেষ। অথচ আধুনিক গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, সন্তানের শুধু খাবার, পোশাক ও শিক্ষার প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন সময়, মনোযোগ এবং আবেগিক সংযোগ।
একজন শিশু তার বাবার কাছ থেকে শুধু অর্থ চায় না, সে চায় গল্প, সঙ্গ, প্রশ্রয়, পরামর্শ এবং নিরাপত্তা। সে চায় এমন একজন মানুষ, যার কাছে ব্যর্থতার কথা বলা যায়, ভয় ভাগ করা যায়, স্বপ্নের কথা বলা যায়। আবার অনেক বাবা অর্থ থাকলেও সন্তানদের বিষয়ে বেশ উদাসীন।
অনেক সময় দেখা যায়, একজন বাবা সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করেছেন, কিন্তু সন্তানের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। আবার সীমিত আয়ের একজন বাবা সন্তানের জীবনে এত গভীরভাবে জড়িত থেকেছেন যে তার উপস্থিতিই সন্তানের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ একজন বাবার প্রকৃত মূল্য তার আয় দিয়ে নয়, তার প্রভাব দিয়ে পরিমাপ করা উচিত।
পিতৃত্বের আরেকটি দিক নিয়েও আমাদের কথা বলা দরকার। আমরা বাবাদের কাছ থেকে সব সময় শক্ত থাকার প্রত্যাশা করি। সমাজ তাদের শেখায় কাঁদবে না, দুর্বলতা দেখাবে না, ভেঙে পড়বে না। ফলে অনেক বাবা তাদের উদ্বেগ, ব্যর্থতা, হতাশা কিংবা মানসিক চাপ নিজের ভেতরেই লুকিয়ে রাখেন। পরিবারের সবার জন্য আশ্রয় হতে গিয়ে তারা নিজের জন্য কোনো আশ্রয় খুঁজে পান না।
সমাজে এমন বাবাও আছেন, যাদের সিদ্ধান্ত বা উদাসীনতা সন্তানের জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। কোনো সন্তান তার বাবাকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পায় না। কিন্তু একজন বাবা প্রতিদিন সিদ্ধান্ত নেন তিনি কেমন বাবা হবেন। তিনি কি সন্তানের জীবনে আশ্রয় হয়ে উঠবেন, নাকি অনুপস্থিতির আরেকটি নাম হয়ে থাকবেন সেই সিদ্ধান্ত তার নিজের।
আজ পরিবার কাঠামো বদলাচ্ছে। অভিবাসন বাড়ছে, বিচ্ছেদ বাড়ছে, কর্মজীবনের চাপ বাড়ছে। এই পরিবর্তনের মধ্যেও পিতৃত্বের গুরুত্ব কমে যায়নি; বরং আরও বেড়েছে। কারণ দ্রুত পরিবর্তনশীল এই সমাজে একটি শিশুর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নিরাপদ সম্পর্ক। আর সেই সম্পর্ক গঠনে বাবার ভূমিকা অপরিসীম।
বাবা দিবসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই বাবা হওয়া সহজ, কিন্তু পিতা হয়ে ওঠা কঠিন।
একজন সত্যিকারের পিতা সন্তানের জীবনে শুধু জন্মের কারণ হন না; তিনি হয়ে ওঠেন সাহসের উৎস, নৈতিকতার ভিত্তি, নিরাপত্তার ছায়া এবং ভবিষ্যতের দিশারি। তার উপস্থিতি সন্তানকে শক্তি দেয়, আর তার অনুপস্থিতি অনেক সময় একটি দীর্ঘ শূন্যতা তৈরি করে।
একজন বাবা তার সন্তানের জন্য কত টাকা রেখে গেলেন, ইতিহাস তা মনে রাখে না। কিন্তু তিনি সন্তানের মনে কতটা সাহস, সততা, মানবিকতা এবং নিরাপত্তা রেখে গেলেন, সেটিই প্রকৃত উত্তরাধিকার।
তাই বাবা দিবসে প্রশ্নটি শুধু বাবাদের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য। আমরা কি আগামী প্রজন্মের জন্য দায়িত্বশীল পিতৃত্বের সংস্কৃতি তৈরি করছি, নাকি শুধু জন্মদাতার সংখ্যা বাড়াচ্ছি?
বাবা দিবসে তাই শ্রদ্ধা সেই সব বাবাকে, যারা শুধু সন্তান জন্ম দেননি... মানুষ গড়েছেন।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, কৃষি ও জলবায়ু গবেষক

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
একটি শিশু স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে পুরস্কার নিতে মঞ্চে উঠেছে। তার হাতে সনদ, মুখে আনন্দের ঝলক। মঞ্চ থেকে নেমে আসার আগে সে একবার দর্শকসারির দিকে তাকায়। সেখানে মা আছেন, শিক্ষক আছেন, আত্মীয়স্বজন আছেন। কিন্তু যে মানুষটিকে সে খুঁজছে, তিনি নেই। হয়তো দূর দেশে কাজ করছেন, হয়তো কর্মব্যস্ততার ভিড়ে হারিয়ে গেছেন, হয়তো কাছেই আছেন কিন্তু সন্তানের জীবনে নেই। এই দৃশ্যটিতেই পিতৃত্বের বহু রূপ লুকিয়ে আছে।
বাংলাদেশে প্রতিদিন হাজার হাজার শিশুর জন্ম হয়। প্রতিটি জন্মের সঙ্গে একটি নতুন পরিচয়ও তৈরি হয়। কেউ না কেউ বাবা হন। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়, সবাই কি পিতা হয়ে উঠতে পারেন?
বছরের একটি দিন আসে, যেদিন আমরা বাবা দিবস পালন করি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে যায় বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার গল্পে। নিঃসন্দেহে একজন ভালো বাবা একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। কিন্তু এই দিনটি শুধু উদযাপনের নয়; আত্মসমালোচনারও দিন। কারণ সমাজের সব শিশুর অভিজ্ঞতা এক নয়, সব বাবার গল্পও এক নয়।
আমরা সাধারণত বাবাকে একটি একক পরিচয়ে দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু বাস্তবে বাবা একটি বহুমাত্রিক চরিত্র। একজন বাবা আছেন, যিনি নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন পূরণ করেন। নিজে ভালো মন্দ না খেয়ে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেন। এমনকি তার মৃত্যুর পর সন্তানদের দুধে ভাতে খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করে রাখেন।
একজন শিশুর জীবনে বাবা সাধারণত প্রথম নায়ক। ছোট্ট শিশুটি বিশ্বাস করে, তার বাবা সব পারেন। এই বিশ্বাস গড়ে ওঠে বাবার উপস্থিতি, স্নেহ এবং দায়িত্ববোধের ওপর। বাবা যখন সন্তানের হাত ধরে রাস্তা পার করেন, স্কুলে নিয়ে যান, ভুল করলে ধৈর্য নিয়ে শেখান কিংবা ব্যর্থতার সময় পাশে দাঁড়ান, তখন তিনি শুধু একটি দায়িত্ব পালন করেন না; তিনি একটি মানুষ গড়ে তোলেন।
বিশ্বজুড়ে গবেষণায় দেখা গেছে, বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ সন্তানের মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক আচরণের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। যে শিশু বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারে, নিজের ভয় ও স্বপ্ন ভাগ করে নিতে পারে, সে জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি প্রস্তুত থাকে।
কিন্তু বাস্তবতা সব সময় এত সুন্দর নয়। আমাদের সমাজে এমন বহু শিশু রয়েছে, যাদের বাবারা জীবিত থাকলেও তাদের জীবনে কার্যত অনুপস্থিত। কেউ কর্মব্যস্ততার অজুহাতে সন্তানের জন্য সময় বের করেন না। কেউ মনে করেন অর্থ উপার্জনই পিতৃত্বের একমাত্র দায়িত্ব। কেউ আবার ব্যক্তিগত স্বার্থ, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা উদাসীনতার কারণে সন্তানদের আবেগিক চাহিদাকে উপেক্ষা করেন।
আবার অন্যদিকে এমন অসংখ্য বাবাও আছেন, যাদের ত্যাগের গল্প খুব কমই আলোচনায় আসে। গ্রামের কৃষক বাবা, যিনি খরার মাঠে দাঁড়িয়ে সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি জোগাড় করেন। রিকশাচালক বাবা, যিনি নিজের নতুন জামা না কিনে সন্তানের বই কেনেন। প্রবাসী বাবা, যিনি হাজার মাইল দূরে শ্রমিক ক্যাম্পে বসে মোবাইলের পর্দায় সন্তানের বড় হয়ে ওঠা দেখেন। তাদের অনেকেই সন্তানের প্রথম হাঁটা, প্রথম স্কুলে যাওয়া কিংবা প্রথম পুরস্কার জেতার মুহূর্তে পাশে থাকতে পারেন না। কিন্তু অনুপস্থিতির ভেতরেও তাদের ভালোবাসা উপস্থিত থাকে।
আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত, বাবা মানেই উপার্জনকারী। ফলে অনেকেই মনে করেন সংসারের খরচ বহন করলেই পিতৃত্বের দায়িত্ব শেষ। অথচ আধুনিক গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, সন্তানের শুধু খাবার, পোশাক ও শিক্ষার প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন সময়, মনোযোগ এবং আবেগিক সংযোগ।
একজন শিশু তার বাবার কাছ থেকে শুধু অর্থ চায় না, সে চায় গল্প, সঙ্গ, প্রশ্রয়, পরামর্শ এবং নিরাপত্তা। সে চায় এমন একজন মানুষ, যার কাছে ব্যর্থতার কথা বলা যায়, ভয় ভাগ করা যায়, স্বপ্নের কথা বলা যায়। আবার অনেক বাবা অর্থ থাকলেও সন্তানদের বিষয়ে বেশ উদাসীন।
অনেক সময় দেখা যায়, একজন বাবা সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করেছেন, কিন্তু সন্তানের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। আবার সীমিত আয়ের একজন বাবা সন্তানের জীবনে এত গভীরভাবে জড়িত থেকেছেন যে তার উপস্থিতিই সন্তানের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ একজন বাবার প্রকৃত মূল্য তার আয় দিয়ে নয়, তার প্রভাব দিয়ে পরিমাপ করা উচিত।
পিতৃত্বের আরেকটি দিক নিয়েও আমাদের কথা বলা দরকার। আমরা বাবাদের কাছ থেকে সব সময় শক্ত থাকার প্রত্যাশা করি। সমাজ তাদের শেখায় কাঁদবে না, দুর্বলতা দেখাবে না, ভেঙে পড়বে না। ফলে অনেক বাবা তাদের উদ্বেগ, ব্যর্থতা, হতাশা কিংবা মানসিক চাপ নিজের ভেতরেই লুকিয়ে রাখেন। পরিবারের সবার জন্য আশ্রয় হতে গিয়ে তারা নিজের জন্য কোনো আশ্রয় খুঁজে পান না।
সমাজে এমন বাবাও আছেন, যাদের সিদ্ধান্ত বা উদাসীনতা সন্তানের জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। কোনো সন্তান তার বাবাকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পায় না। কিন্তু একজন বাবা প্রতিদিন সিদ্ধান্ত নেন তিনি কেমন বাবা হবেন। তিনি কি সন্তানের জীবনে আশ্রয় হয়ে উঠবেন, নাকি অনুপস্থিতির আরেকটি নাম হয়ে থাকবেন সেই সিদ্ধান্ত তার নিজের।
আজ পরিবার কাঠামো বদলাচ্ছে। অভিবাসন বাড়ছে, বিচ্ছেদ বাড়ছে, কর্মজীবনের চাপ বাড়ছে। এই পরিবর্তনের মধ্যেও পিতৃত্বের গুরুত্ব কমে যায়নি; বরং আরও বেড়েছে। কারণ দ্রুত পরিবর্তনশীল এই সমাজে একটি শিশুর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নিরাপদ সম্পর্ক। আর সেই সম্পর্ক গঠনে বাবার ভূমিকা অপরিসীম।
বাবা দিবসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই বাবা হওয়া সহজ, কিন্তু পিতা হয়ে ওঠা কঠিন।
একজন সত্যিকারের পিতা সন্তানের জীবনে শুধু জন্মের কারণ হন না; তিনি হয়ে ওঠেন সাহসের উৎস, নৈতিকতার ভিত্তি, নিরাপত্তার ছায়া এবং ভবিষ্যতের দিশারি। তার উপস্থিতি সন্তানকে শক্তি দেয়, আর তার অনুপস্থিতি অনেক সময় একটি দীর্ঘ শূন্যতা তৈরি করে।
একজন বাবা তার সন্তানের জন্য কত টাকা রেখে গেলেন, ইতিহাস তা মনে রাখে না। কিন্তু তিনি সন্তানের মনে কতটা সাহস, সততা, মানবিকতা এবং নিরাপত্তা রেখে গেলেন, সেটিই প্রকৃত উত্তরাধিকার।
তাই বাবা দিবসে প্রশ্নটি শুধু বাবাদের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য। আমরা কি আগামী প্রজন্মের জন্য দায়িত্বশীল পিতৃত্বের সংস্কৃতি তৈরি করছি, নাকি শুধু জন্মদাতার সংখ্যা বাড়াচ্ছি?
বাবা দিবসে তাই শ্রদ্ধা সেই সব বাবাকে, যারা শুধু সন্তান জন্ম দেননি... মানুষ গড়েছেন।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, কৃষি ও জলবায়ু গবেষক

আপনার মতামত লিখুন