বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে আয়োজিত এক সেমিনারে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সেবায় নিয়োজিত মানবিক কার্যক্রমে স্থানীয় সংস্থাগুলোর নেতৃত্ব ও সরাসরি তহবিল নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী এই মানবিক সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ জানান তাঁরা।
সেমিনারে জানানো হয়, ২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) অনুযায়ী ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা চাওয়া হলেও এ পর্যন্ত অর্ধেক অর্থও পাওয়া যায়নি। বক্তারা অভিযোগ করেন, তহবিলের ৯২ শতাংশ সরাসরি জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর কাছে এবং ৮ শতাংশ আন্তর্জাতিক এনজিওর কাছে যায়। স্থানীয় সংস্থাগুলো সরাসরি কোনো তহবিল পায় না। এ অবস্থায় তহবিলের অন্তত ৭০ শতাংশ স্থানীয় ও জাতীয় সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য ‘জয়েন্ট রেপ্যাট্রিয়েশন প্ল্যান ২.০’ নামের একটি নতুন কাঠামোর প্রস্তাব দেন। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সরকার, জেলা প্রশাসন ও আরআরআরসি কার্যালয়ের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. ইকবাল উদ্দিন। সিসিএনএফের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ইউএনএইচসিআরের মার্সেল গ্রোগান, রোহিঙ্গা সমন্বয় প্ল্যাটফর্মের প্রধান ডেভিড বাগডেন, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা কক্সবাজার ও টেকনাফ অঞ্চলের পরিবেশ বিপর্যয়, সুপেয় পানির অভাব এবং অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে কঠোর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তার বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান।
আপনার মতামত লিখুন