সংবাদ

গাজীপুরে শিশুকে হত্যার পর কিশোরীর আত্মসমর্পণ


প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

গাজীপুরে শিশুকে হত্যার পর কিশোরীর আত্মসমর্পণ
থানায় আত্মসমর্পণের পর অভিযুক্ত কিশোরী মীম। ছবি : সংবাদ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে আড়াই বছরের শিশু আরিশা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। শুরুতে একে দুর্ঘটনা মনে করা হলেও পরে এক কিশোরীর স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ‘মা তাকে বেশি ভালোবাসেন’- এমন ঈর্ষা ও বিস্কুট চাওয়ায় বিরক্ত হয়ে শিশুটিকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে ইসরাত জাহান মীম নামের ওই কিশোরী নিজেই কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারের কাছে আত্মসমর্পণ করে। সে সময় সে বলে, “আমি আরিশাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে মেরেছি, আমাকে হাজতে ভরেন।”

নিহত আরিশা রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্ত গ্রামের মো. আলহাজ শেখের মেয়ে। তার বাবা-মা কালীগঞ্জে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের কাজ করেন এবং ওই কিশোরীর বাবার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। অভিযুক্ত মীম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে আরিশাকে টিউবওয়েলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মীম। সেখানে একটি বালতিতে পানি ভরে আরিশার পা ধরে উল্টো করে কয়েক মিনিট চুবিয়ে রাখে সে। এর কিছুক্ষণ আগে মীম তাকে বিস্কুট খেতে দিয়েছিল।

আরিশার মা জানান, তারা ঘরে বসে কাজ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খুঁজতে গিয়ে টিউবওয়েলের পাশে বালতির পানিতে তাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে তারা ভেবেছিলেন এটি দুর্ঘটনা, কিন্তু পরে থানা থেকে জানানো হয় মীম হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে মীম জানায়, তার মা ছোট্ট আরিশাকে খুব স্নেহ করতেন। এ ছাড়া শিশুটি বারবার তার কাছে বিস্কুট চাইছিল। এসব কারণে সে বিরক্ত হয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। অভিযুক্ত কিশোরীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


গাজীপুরে শিশুকে হত্যার পর কিশোরীর আত্মসমর্পণ

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের কালীগঞ্জে আড়াই বছরের শিশু আরিশা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। শুরুতে একে দুর্ঘটনা মনে করা হলেও পরে এক কিশোরীর স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ‘মা তাকে বেশি ভালোবাসেন’- এমন ঈর্ষা ও বিস্কুট চাওয়ায় বিরক্ত হয়ে শিশুটিকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে ইসরাত জাহান মীম নামের ওই কিশোরী নিজেই কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারের কাছে আত্মসমর্পণ করে। সে সময় সে বলে, “আমি আরিশাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে মেরেছি, আমাকে হাজতে ভরেন।”

নিহত আরিশা রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্ত গ্রামের মো. আলহাজ শেখের মেয়ে। তার বাবা-মা কালীগঞ্জে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের কাজ করেন এবং ওই কিশোরীর বাবার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। অভিযুক্ত মীম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে আরিশাকে টিউবওয়েলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মীম। সেখানে একটি বালতিতে পানি ভরে আরিশার পা ধরে উল্টো করে কয়েক মিনিট চুবিয়ে রাখে সে। এর কিছুক্ষণ আগে মীম তাকে বিস্কুট খেতে দিয়েছিল।

আরিশার মা জানান, তারা ঘরে বসে কাজ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খুঁজতে গিয়ে টিউবওয়েলের পাশে বালতির পানিতে তাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে তারা ভেবেছিলেন এটি দুর্ঘটনা, কিন্তু পরে থানা থেকে জানানো হয় মীম হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে মীম জানায়, তার মা ছোট্ট আরিশাকে খুব স্নেহ করতেন। এ ছাড়া শিশুটি বারবার তার কাছে বিস্কুট চাইছিল। এসব কারণে সে বিরক্ত হয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। অভিযুক্ত কিশোরীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত