সংবাদ

সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ বদলে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’


দীপক মুখার্জী
দীপক মুখার্জী প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ বদলে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের প্রেক্ষাপটে কলকাতায় বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। পার্ক সার্কাস থেকে কসাইপাড়া লেন পর্যন্ত বিস্তৃত সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউয়ের নাম বদলে রাখা হল ‘গোপাল মুখার্জি রোড’। কলকাতা পুরসভার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া।

কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ, প্রাচীন সেই সড়কের নাম পরিবর্তন করে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট মোড় থেকে ডন বসকো স্কুল পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাস্তার নতুন নামকরণ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে।

এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় কলকাতা পুরসভাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তন নয়, বরং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এতদিন এই সড়কের নাম ছিল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে, যার ভূমিকা বিভাজন ও সাম্প্রদায়িক হিংসার ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত।

মুখ্যমন্ত্রী তার পোস্টে আরও দাবি করেন, গোপাল মুখার্জি ছিলেন সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক, যিনি দাঙ্গার সময় বহু সাধারণ মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। তার মতে, এই নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকৃত ইতিহাসকে সম্মান জানানো হয়েছে এবং প্রকৃত নায়কদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের সমালোচনায় বিরোধী শিবিরের এক নেতা বলেন, “ইতিহাসকে একপাক্ষিকভাবে ব্যাখ্যা করে এভাবে নাম পরিবর্তন করা ঠিক নয়। এতে সমাজে বিভাজনের রাজনীতি আরও উসকে যেতে পারে।”

এক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে, “এই সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক নয়, এর পিছনে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। ইতিহাসের চরিত্রদের নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

”ইতিহাস অনুযায়ী, গোপাল মুখার্জি, যিনি ‘গোপাল পাঁঠা’ নামে পরিচিত ছিলেন, ১৯১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার বৌবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালের ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর সময় তিনি একটি সশস্ত্র দল গঠন করেন এবং দাঙ্গার মধ্যে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ভূমিকা নেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কলকাতা পুরসভায় প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের মেয়র ফিরহাদ হাকিম পদ ছাড়ার পর নতুন পরিস্থিতির মধ্যেই এই নাম পরিবর্তন কার্যকর করা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে আরও প্রতিক্রিয়া সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ বদলে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের প্রেক্ষাপটে কলকাতায় বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। পার্ক সার্কাস থেকে কসাইপাড়া লেন পর্যন্ত বিস্তৃত সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউয়ের নাম বদলে রাখা হল ‘গোপাল মুখার্জি রোড’। কলকাতা পুরসভার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া।

কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ, প্রাচীন সেই সড়কের নাম পরিবর্তন করে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট মোড় থেকে ডন বসকো স্কুল পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাস্তার নতুন নামকরণ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে।

এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় কলকাতা পুরসভাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তন নয়, বরং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এতদিন এই সড়কের নাম ছিল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে, যার ভূমিকা বিভাজন ও সাম্প্রদায়িক হিংসার ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত।

মুখ্যমন্ত্রী তার পোস্টে আরও দাবি করেন, গোপাল মুখার্জি ছিলেন সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক, যিনি দাঙ্গার সময় বহু সাধারণ মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। তার মতে, এই নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকৃত ইতিহাসকে সম্মান জানানো হয়েছে এবং প্রকৃত নায়কদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের সমালোচনায় বিরোধী শিবিরের এক নেতা বলেন, “ইতিহাসকে একপাক্ষিকভাবে ব্যাখ্যা করে এভাবে নাম পরিবর্তন করা ঠিক নয়। এতে সমাজে বিভাজনের রাজনীতি আরও উসকে যেতে পারে।”

এক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে, “এই সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক নয়, এর পিছনে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। ইতিহাসের চরিত্রদের নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

”ইতিহাস অনুযায়ী, গোপাল মুখার্জি, যিনি ‘গোপাল পাঁঠা’ নামে পরিচিত ছিলেন, ১৯১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার বৌবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালের ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর সময় তিনি একটি সশস্ত্র দল গঠন করেন এবং দাঙ্গার মধ্যে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ভূমিকা নেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কলকাতা পুরসভায় প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের মেয়র ফিরহাদ হাকিম পদ ছাড়ার পর নতুন পরিস্থিতির মধ্যেই এই নাম পরিবর্তন কার্যকর করা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে আরও প্রতিক্রিয়া সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত