প্রধানমন্ত্রী অসত্য তথ্য দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের এমন বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে।
রবিবার সংসদের বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনার এক পর্যায়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে (অনির্ধারিত আলোচনা) এই বিতর্ক হয়।
বাজেট আলোচনায় নিজের বক্তব্যের শেষ দিকে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) আজকে এখানে নেই। উনি যখন বিভিন্ন ভাষণে গিয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে বলেন, বিরোধী দল মিছিল করতেছে মদের দাম কেন বৃদ্ধি করা হয়েছে, কেন সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, এ রকম অসত্য তথ্য দিয়ে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন আমরা খুবই আশাহত হই।’
এ সময় সরকারি দল বিএনপির সদস্যরা হইচই করে তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ দাবি করেন, তারা যখন সংসদে ঋণখেলাপি, ইসলামী ব্যাংক দখল নিয়ে কথা বলতে চান তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সবাই জমিদার যারা ঋণ নেন নাই’। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে মূলত প্রধানমন্ত্রী ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করেন।’
এবার হইচই করে প্রতিবাদ জানান সরকারি দলের সদস্যরা।
দেশে চলমান ‘মব কালচার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির এমপি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাসসে মব সৃষ্টি করে কর্মকর্তাদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। সরকার ক্ষমতায় থেকে কেন মবের আশ্রয় নিতে হচ্ছে? নিয়োগ বাতিল করলেই তো হতো।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ্য করে হান্নান মাসউদ বলেন, ‘একজন শিবির নেতার প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে সংসদে বিবৃতি দেওয়া হলেও, তার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজের আসনে (কক্সবাজার-১) মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় তিনি কোন বিবৃতি দেননি, কোন কথাও বলেননি। গত চার মাসে ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ১৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে।’
‘মন্ত্রীরা ভারতীয় ভাষায় কথা বলছেন’
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা এমন এক সংসদে আছি, যেখানে ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করে এসেছি। কিন্তু সীমান্ত হত্যা নিয়ে যেভাবে ভারতের পক্ষে কথা বলা হচ্ছে, যেভাবে আওয়ামী লীগ সরকার ও ফ্যাসিবাদী সরকার বলত, ঠিক একইভাবে এই সংসদের বিভিন্ন মন্ত্রীরাও ভারতীয় ভাষায় কথা বলছেন।’
হান্নান মাসউদ আরো বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে বক্তব্য দিতেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও একইভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, সব সীমান্ত হত্যাকে হত্যা বলা যাবে না। আমরা বলছি, প্রত্যেকটি সীমান্ত হত্যাই হত্যা এবং তা আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।’
এক্সপাঞ্জের দাবি
হান্নান মাসউদের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান বিএনপির এমপি জয়নাল আবদিন ফারুক। তিনি হান্নান মাসউদের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করার দাবি জানিয়ে বলেন, সংসদে কোনো অসত্য বাক্য উত্থাপন করা বা সংসদ নেতাকে (তারেক রহমান) কটূক্তি করা হোক তা তারা চান না।
এরপর বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ফ্লোর নেন। জয়নাল আবদিন ফারুকের দিকে ইঙ্গিত করে ঢাকা-১১ আসনের এমপি নাহিদ বলেন, ‘উনি (ফারুক) কিন্তু ঢালাওভাবে বলে গেলেন যে বক্তব্যে অসত্য কথা বলা হয়েছে। উনাকে তো ফ্যাকচুয়ালি বলতে হবে, কোন ইনফরমেশনটা এখানে ভুল ছিল।’
সমালোচনার অধিকার
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীও ভুল করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকারও বিরোধী দলের আছে।’
বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান করেন উল্লেখ করে এনসিপির এমপি নাহিদ বলেন, ‘কিন্তু তার মানে এই না যে, তাকে নিয়ে কোনো কথাই বলা যাবে না। তার কোনো বক্তব্যের সমালোচনা করা যাবে না। আমরা তো গণতন্ত্রের দিকে যেতে চাচ্ছি। আমরা কোনো ফ্যাসিবাদের দিকে আবার যেতে চাচ্ছি না।’
ফ্যাসিস্ট আচরণ
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিরোধী দলের চিফ হুইপ যা বলেছেন সেটা সঠিক নয়। বিরোধী দলের সদস্য (হান্নান মাসউদ) সুনির্দিষ্টভাবে বলেছেন যে সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন।’
এ সময় বিরোধী দল হইচই শুরু করলে বিএনপির এমপি মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বলতে দিন। আপনারা ফ্যাসিস্টের কথা বলেন, ফ্যাসিস্ট আচরণ তো আপনাদের কাছ থেকে আসছে। আমাদেরকে অবশ্যই বলতে দিতে হবে। আপনারা যখন কথা বলেছেন আমরা কেউ কথা বলিনি।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও হান্নান মাসউদের বক্তব্যে যে অংশটুকু অসত্য আছে, তা এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।
‘এটা শাহবাগ চত্বর নয়’
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পর এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ কিছু বলতে চাইলে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাকে ফ্লোর দেননি।
তারপরও হান্নান মাসউদ মাইক ছাড়া কথা বলতে থাকলে কায়সার কামাল বলেন, ‘এইভাবে সংসদে যখন খুশি তখন দাঁড়াবেন, ইজ নট নরমস, প্লিজ টেক ইউর সিট, মিস্টার হান্নান মাসুদ।’
কায়সার কামাল বারবার বসতে বললেও হান্নান মাসউদ না বসে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং কথা বলতে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এরপর কায়সার কামাল বলেন, ‘হান্নান মাসউদ, এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ। আপনি আপনার সিটে বসুন।’
তবুও হান্নান মাসউদ চেয়ার ছেড়ে দুই হাত উঁচিয়ে সংসদে চিৎকার করতে থাকেন।
এ পর্যায়ে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ফ্লোর নেন। তিনি ডেপুটি স্পিকারকে অনুরোধ করেন যেন সংসদে বাইরের কোনো বিষয়কে টেনে এনে এক্সপাঞ্জ করা বা বক্তব্য দেওয়া কোনোটারই অনুমতি দেওয়া না হয়।
বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘বাইরের জবাব বাইরে দিব, সংসদের জবাব সংসদে হোক। তবে এটা সত্য, এটা অসত্য, এই ঝগড়ায় যদি আমরা যাই, তাইলে অনেক কিছু আমাদের জন্য হয়তোবা লজ্জাজনক হয়ে যাবে।’
পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদকে জানান, সব কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী অসত্য তথ্য দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের এমন বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে।
রবিবার সংসদের বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনার এক পর্যায়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে (অনির্ধারিত আলোচনা) এই বিতর্ক হয়।
বাজেট আলোচনায় নিজের বক্তব্যের শেষ দিকে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) আজকে এখানে নেই। উনি যখন বিভিন্ন ভাষণে গিয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে বলেন, বিরোধী দল মিছিল করতেছে মদের দাম কেন বৃদ্ধি করা হয়েছে, কেন সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, এ রকম অসত্য তথ্য দিয়ে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন আমরা খুবই আশাহত হই।’
এ সময় সরকারি দল বিএনপির সদস্যরা হইচই করে তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ দাবি করেন, তারা যখন সংসদে ঋণখেলাপি, ইসলামী ব্যাংক দখল নিয়ে কথা বলতে চান তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সবাই জমিদার যারা ঋণ নেন নাই’। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে মূলত প্রধানমন্ত্রী ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করেন।’
এবার হইচই করে প্রতিবাদ জানান সরকারি দলের সদস্যরা।
দেশে চলমান ‘মব কালচার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির এমপি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাসসে মব সৃষ্টি করে কর্মকর্তাদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। সরকার ক্ষমতায় থেকে কেন মবের আশ্রয় নিতে হচ্ছে? নিয়োগ বাতিল করলেই তো হতো।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ্য করে হান্নান মাসউদ বলেন, ‘একজন শিবির নেতার প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে সংসদে বিবৃতি দেওয়া হলেও, তার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজের আসনে (কক্সবাজার-১) মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় তিনি কোন বিবৃতি দেননি, কোন কথাও বলেননি। গত চার মাসে ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ১৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে।’
‘মন্ত্রীরা ভারতীয় ভাষায় কথা বলছেন’
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা এমন এক সংসদে আছি, যেখানে ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করে এসেছি। কিন্তু সীমান্ত হত্যা নিয়ে যেভাবে ভারতের পক্ষে কথা বলা হচ্ছে, যেভাবে আওয়ামী লীগ সরকার ও ফ্যাসিবাদী সরকার বলত, ঠিক একইভাবে এই সংসদের বিভিন্ন মন্ত্রীরাও ভারতীয় ভাষায় কথা বলছেন।’
হান্নান মাসউদ আরো বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে বক্তব্য দিতেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও একইভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, সব সীমান্ত হত্যাকে হত্যা বলা যাবে না। আমরা বলছি, প্রত্যেকটি সীমান্ত হত্যাই হত্যা এবং তা আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।’
এক্সপাঞ্জের দাবি
হান্নান মাসউদের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান বিএনপির এমপি জয়নাল আবদিন ফারুক। তিনি হান্নান মাসউদের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করার দাবি জানিয়ে বলেন, সংসদে কোনো অসত্য বাক্য উত্থাপন করা বা সংসদ নেতাকে (তারেক রহমান) কটূক্তি করা হোক তা তারা চান না।
এরপর বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ফ্লোর নেন। জয়নাল আবদিন ফারুকের দিকে ইঙ্গিত করে ঢাকা-১১ আসনের এমপি নাহিদ বলেন, ‘উনি (ফারুক) কিন্তু ঢালাওভাবে বলে গেলেন যে বক্তব্যে অসত্য কথা বলা হয়েছে। উনাকে তো ফ্যাকচুয়ালি বলতে হবে, কোন ইনফরমেশনটা এখানে ভুল ছিল।’
সমালোচনার অধিকার
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীও ভুল করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকারও বিরোধী দলের আছে।’
বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান করেন উল্লেখ করে এনসিপির এমপি নাহিদ বলেন, ‘কিন্তু তার মানে এই না যে, তাকে নিয়ে কোনো কথাই বলা যাবে না। তার কোনো বক্তব্যের সমালোচনা করা যাবে না। আমরা তো গণতন্ত্রের দিকে যেতে চাচ্ছি। আমরা কোনো ফ্যাসিবাদের দিকে আবার যেতে চাচ্ছি না।’
ফ্যাসিস্ট আচরণ
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিরোধী দলের চিফ হুইপ যা বলেছেন সেটা সঠিক নয়। বিরোধী দলের সদস্য (হান্নান মাসউদ) সুনির্দিষ্টভাবে বলেছেন যে সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন।’
এ সময় বিরোধী দল হইচই শুরু করলে বিএনপির এমপি মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বলতে দিন। আপনারা ফ্যাসিস্টের কথা বলেন, ফ্যাসিস্ট আচরণ তো আপনাদের কাছ থেকে আসছে। আমাদেরকে অবশ্যই বলতে দিতে হবে। আপনারা যখন কথা বলেছেন আমরা কেউ কথা বলিনি।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও হান্নান মাসউদের বক্তব্যে যে অংশটুকু অসত্য আছে, তা এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।
‘এটা শাহবাগ চত্বর নয়’
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পর এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ কিছু বলতে চাইলে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাকে ফ্লোর দেননি।
তারপরও হান্নান মাসউদ মাইক ছাড়া কথা বলতে থাকলে কায়সার কামাল বলেন, ‘এইভাবে সংসদে যখন খুশি তখন দাঁড়াবেন, ইজ নট নরমস, প্লিজ টেক ইউর সিট, মিস্টার হান্নান মাসুদ।’
কায়সার কামাল বারবার বসতে বললেও হান্নান মাসউদ না বসে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং কথা বলতে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এরপর কায়সার কামাল বলেন, ‘হান্নান মাসউদ, এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ। আপনি আপনার সিটে বসুন।’
তবুও হান্নান মাসউদ চেয়ার ছেড়ে দুই হাত উঁচিয়ে সংসদে চিৎকার করতে থাকেন।
এ পর্যায়ে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ফ্লোর নেন। তিনি ডেপুটি স্পিকারকে অনুরোধ করেন যেন সংসদে বাইরের কোনো বিষয়কে টেনে এনে এক্সপাঞ্জ করা বা বক্তব্য দেওয়া কোনোটারই অনুমতি দেওয়া না হয়।
বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘বাইরের জবাব বাইরে দিব, সংসদের জবাব সংসদে হোক। তবে এটা সত্য, এটা অসত্য, এই ঝগড়ায় যদি আমরা যাই, তাইলে অনেক কিছু আমাদের জন্য হয়তোবা লজ্জাজনক হয়ে যাবে।’
পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদকে জানান, সব কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন