সংবাদ

মালয়েশিয়ায় লালগালিচা সংবর্ধনা পেলেন প্রধানমন্ত্রী: বিকেলেই চীনযাত্রা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম

মালয়েশিয়ায় লালগালিচা সংবর্ধনা পেলেন প্রধানমন্ত্রী: বিকেলেই চীনযাত্রা

​গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দিনের সরকারি সফরে গতকাল রবিবার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি কুয়ালালামপুর পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন।

​কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ও তাঁর সহধর্মিণী। এ সময় ডা. জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা। সেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরে গার্ড অব অনার প্রদানের সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।

​বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রাসহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সফর উপলক্ষে বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত সড়কপথ দুই দেশের জাতীয় পতাকায় সাজানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ অন্যান্যরা রয়েছেন।

​সফরের দ্বিতীয় দিন আজ সোমবার সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এক একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর পরপরই উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।

​সরকার ও ব্যবসায়ীমহলের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শ্রমবাজারকেন্দ্রিক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক এবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, হালাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সহযোগিতার মতো নতুন ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত হবে।

​গতকাল রাতে শাংগ্রি লা হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের সামনে একটি অত্যন্ত সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে। তবে এর জন্য আমাদের পরিশ্রম, কষ্ট এবং সবচেয়ে বড় বিষয় ধৈর্য ধারণ করতে হবে।"

​গত দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "দেশ থেকে একটা গোষ্ঠী নিতে নিতে দেশটিকে একদম ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। এখন আসুন, আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য কী করতে পারি, সেই চিন্তা করি।"

​প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, "আজকে আমাদের কী দাবি আছে সেটা থেকে বেরিয়ে এসে আসুন আমরা চিন্তা করি, দেশের প্রতি আমাদের কী কর্তব্য আছে? দেশ থেকে কী নেব এই মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।" এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশ গঠনে তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনা এবং বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি প্রবাসীদের সামনে তুলে ধরেন।

​মালয়েশিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনে চার দিনের সরকারি সফর শেষে আগামী শুক্রবার রাতে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

​নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির প্রথম বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এই ছয় দিনের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে। বিশেষ করে চীন সফরকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন গতি পাবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


মালয়েশিয়ায় লালগালিচা সংবর্ধনা পেলেন প্রধানমন্ত্রী: বিকেলেই চীনযাত্রা

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

​গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দিনের সরকারি সফরে গতকাল রবিবার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি কুয়ালালামপুর পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন।

​কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ও তাঁর সহধর্মিণী। এ সময় ডা. জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা। সেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরে গার্ড অব অনার প্রদানের সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।

​বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রাসহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সফর উপলক্ষে বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত সড়কপথ দুই দেশের জাতীয় পতাকায় সাজানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ অন্যান্যরা রয়েছেন।

​সফরের দ্বিতীয় দিন আজ সোমবার সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এক একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর পরপরই উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।

​সরকার ও ব্যবসায়ীমহলের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শ্রমবাজারকেন্দ্রিক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক এবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, হালাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সহযোগিতার মতো নতুন ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত হবে।

​গতকাল রাতে শাংগ্রি লা হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের সামনে একটি অত্যন্ত সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে। তবে এর জন্য আমাদের পরিশ্রম, কষ্ট এবং সবচেয়ে বড় বিষয় ধৈর্য ধারণ করতে হবে।"

​গত দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "দেশ থেকে একটা গোষ্ঠী নিতে নিতে দেশটিকে একদম ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। এখন আসুন, আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য কী করতে পারি, সেই চিন্তা করি।"

​প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, "আজকে আমাদের কী দাবি আছে সেটা থেকে বেরিয়ে এসে আসুন আমরা চিন্তা করি, দেশের প্রতি আমাদের কী কর্তব্য আছে? দেশ থেকে কী নেব এই মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।" এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশ গঠনে তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনা এবং বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি প্রবাসীদের সামনে তুলে ধরেন।

​মালয়েশিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনে চার দিনের সরকারি সফর শেষে আগামী শুক্রবার রাতে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

​নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির প্রথম বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এই ছয় দিনের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে। বিশেষ করে চীন সফরকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন গতি পাবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত