বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) লোগো ও প্রশাসকের নাম ব্যবহার করে অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়ার একটি ‘ভুয়া’ চার্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ৫ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির কথা বলা হলেও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ছড়িয়ে পড়া ওই চার্টে নগরীর বিভিন্ন রুটের ভাড়া ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে। এতে বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের নামও ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
নগরীর নথুল্লাবাদ, রূপাতলী ও চৌমাথাসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা অভিযোগ করেন, চার্টটি প্রকাশের পর থেকে চালকেরা একতরফাভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। আগে যেখানে ৫ টাকা ভাড়া ছিল, সেখানে এখন ১০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে প্রায়ই চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে।
ইজিবাইক চালকদের দাবি, বিদ্যুৎ ও সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ায় তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি গাড়ির দৈনিক জমার পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ভাড়া বাড়ানো ছাড়া তাদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে নগরবাসী বলছেন, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপে যাতায়াত ভাড়া বৃদ্ধি তাদের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রেজাউল বারী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভাড়ার চার্টটি সিটি করপোরেশনের নয়। বিসিসি থেকে এমন কোনো গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন জানিয়েছেন, আগামী জুলাই থেকে নতুন ভাড়া নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তার আগে নাগরিক প্রতিনিধি, পরিবহন মালিক ও চালকদের সঙ্গে বসে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রশাসক বরিশাল ফেরার পর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
ততদিন পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কোনো অননুমোদিত তালিকাকে সত্য বলে গ্রহণ না করার জন্য নগরবাসীকে আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আপনার মতামত লিখুন