আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে গাজীপুরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনার অংশ হিসেবে জেলায় সোমবার (২২ জুন) থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি ও এপিবিএন সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় ঢাকা, গাজীপুরসহ ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই শিল্পনগরী গাজীপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সালমা খাতুন জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ২০০ সেনাসদস্য মাঠে নেমেছেন। তারা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সম্প্রতি যারা বেআইনি মিছিল করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল এবং পুলিশকে হুমকি দিয়েছিল, তাদের ৩৪ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের নাশকতা বা অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।’
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার জানান, মহানগর এলাকায় প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি তিন প্লাটুন বিজিবি ও তিন প্লাটুন এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, জেলা পুলিশের প্রায় ১ হাজার ৬০০ সদস্য সেনাবাহিনী ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে জেলাজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গাজীপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের একটি মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে পুলিশের প্রতি হুমকিসূচক বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। এরপরই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বর্তমানে জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আপনার মতামত লিখুন