সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর, ভারতকে কড়া বার্তা দিল গ্লোবাল টাইমস


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম

প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর, ভারতকে কড়া বার্তা দিল গ্লোবাল টাইমস
তারেক রহমান, নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিং

বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ঐতিহাসিক’ সফর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে। চীনের রাষ্ট্রীয় মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস ভারতীয় গণমাধ্যমের ‘অহেতুক হইচই’ এর সমালোচনা করে জানিয়েছে, বাংলাদেশের এই সফর কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয়- বরং ঢাকা একটি স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে, যাকে বেইজিং স্বাগত জানাচ্ছে।

গ্লোবাল টাইমসের মতে, বাংলাদেশের এই সফর ‘ভারতের জন্য হুমকি’ নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছে বেইজিং।

ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসার পর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকার এই কূটনৈতিক অগ্রাধিকারকে বেইজিং ঐতিহাসিক হিসেবে বিবেচনা করছে। 

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া এবং চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) তাদের প্রধান বুলেটিনগুলোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

চীনা বিশ্লেষকরা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করছেন যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর। বেইজিং মনে করে, প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে ঢাকার নতুন সরকার এই বার্তা দিয়েছে যে- চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

কেবল অবকাঠামো নয়, নজর এবার প্রযুক্তিতে। চীনের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রধান নজর এই সফরে হতে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলোর দিকে। দুই দেশের মধ্যে মেগা অবকাঠামো, শিল্পায়ন, গ্রিন এনার্জি এবং বৈদ্যুতিক যান উৎপাদনসহ অন্তত ১৫টি বড় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

চীনা মিডিয়ার দাবি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই সফরে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের প্রস্তাবিত বৈশ্বিক উন্নয়ন রূপরেখা ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (জিডিআই)-তে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের এই প্রস্তাবে এর আগে ঢাকা কিছুটা ধীরগতিতে এগোলেও, বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বলয়কে আরও বিস্তৃত করবে।

পাশাপাশি চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) এবং বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিশেষ প্রচার ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত মেলবন্ধনের বড় ধাপ হিসেবে দেখছে বেইজিং।

এই সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভূরাজনৈতিক দিকটি উন্মোচন করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় মুখপত্র হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস। তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের উদ্বেগের কড়া সমালোচনা করে একটি বিশেষ সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে।

গ্লোবাল টাইমসের স্পষ্ট বক্তব্য- “বাংলাদেশের এই সফর নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর অহেতুক হইচই করার কোনো কারণ নেই।” চীনা মিডিয়া জোর দিয়ে বলছে, ঢাকা ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক এবং এটি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে বা আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট করার জন্য নয়।

বরং, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে, যাকে চীনের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে। গ্লোবাল টাইমস আরও বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার কোনো নেতা চীন সফর করলেই ভারতের 'অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন' হওয়ার কোনো কারণ নেই।

চীনের মিডিয়াগুলোর প্রতিবেদন ও দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট যে, বেইজিং তারেক রহমানের এই সফরকে কেবল একটি প্রথাগত কূটনৈতিক সফর হিসেবে দেখছে না। তারা এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য অংশীদারের সঙ্গে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করছে।

একইসঙ্গে এই সফর ভারতের প্রভাব বলয়কে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে বলে বিশ্লেষণ করছে চীনা মিডিয়া। বাংলাদেশের জন্য এটি ভারতে 'প্রভাব বলয়' থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখছে গ্লোবাল টাইমস।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর, ভারতকে কড়া বার্তা দিল গ্লোবাল টাইমস

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ঐতিহাসিক’ সফর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে। চীনের রাষ্ট্রীয় মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস ভারতীয় গণমাধ্যমের ‘অহেতুক হইচই’ এর সমালোচনা করে জানিয়েছে, বাংলাদেশের এই সফর কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয়- বরং ঢাকা একটি স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে, যাকে বেইজিং স্বাগত জানাচ্ছে।

গ্লোবাল টাইমসের মতে, বাংলাদেশের এই সফর ‘ভারতের জন্য হুমকি’ নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছে বেইজিং।

ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসার পর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকার এই কূটনৈতিক অগ্রাধিকারকে বেইজিং ঐতিহাসিক হিসেবে বিবেচনা করছে। 

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া এবং চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) তাদের প্রধান বুলেটিনগুলোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

চীনা বিশ্লেষকরা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করছেন যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর। বেইজিং মনে করে, প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে ঢাকার নতুন সরকার এই বার্তা দিয়েছে যে- চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

কেবল অবকাঠামো নয়, নজর এবার প্রযুক্তিতে। চীনের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রধান নজর এই সফরে হতে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলোর দিকে। দুই দেশের মধ্যে মেগা অবকাঠামো, শিল্পায়ন, গ্রিন এনার্জি এবং বৈদ্যুতিক যান উৎপাদনসহ অন্তত ১৫টি বড় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

চীনা মিডিয়ার দাবি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই সফরে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের প্রস্তাবিত বৈশ্বিক উন্নয়ন রূপরেখা ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (জিডিআই)-তে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের এই প্রস্তাবে এর আগে ঢাকা কিছুটা ধীরগতিতে এগোলেও, বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বলয়কে আরও বিস্তৃত করবে।

পাশাপাশি চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) এবং বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিশেষ প্রচার ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত মেলবন্ধনের বড় ধাপ হিসেবে দেখছে বেইজিং।

এই সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভূরাজনৈতিক দিকটি উন্মোচন করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় মুখপত্র হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস। তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের উদ্বেগের কড়া সমালোচনা করে একটি বিশেষ সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে।

গ্লোবাল টাইমসের স্পষ্ট বক্তব্য- “বাংলাদেশের এই সফর নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর অহেতুক হইচই করার কোনো কারণ নেই।” চীনা মিডিয়া জোর দিয়ে বলছে, ঢাকা ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক এবং এটি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে বা আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট করার জন্য নয়।

বরং, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে, যাকে চীনের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে। গ্লোবাল টাইমস আরও বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার কোনো নেতা চীন সফর করলেই ভারতের 'অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন' হওয়ার কোনো কারণ নেই।

চীনের মিডিয়াগুলোর প্রতিবেদন ও দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট যে, বেইজিং তারেক রহমানের এই সফরকে কেবল একটি প্রথাগত কূটনৈতিক সফর হিসেবে দেখছে না। তারা এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য অংশীদারের সঙ্গে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করছে।

একইসঙ্গে এই সফর ভারতের প্রভাব বলয়কে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে বলে বিশ্লেষণ করছে চীনা মিডিয়া। বাংলাদেশের জন্য এটি ভারতে 'প্রভাব বলয়' থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখছে গ্লোবাল টাইমস।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত