দেশের তথ্য ও সম্প্রচার খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (২২ জুন) সংসদের বৈঠকে নেত্রকোনা-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এ কথা জানান।
মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘দেশের তথ্য ও সম্প্রচার খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সম্প্রচার ও তথ্যসেবায় আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিটিভিতে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল টেরেস্ট্রিয়াল টেলিভিশন (ডিটিটি) সম্প্রচার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ বেতারের ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপভিত্তিক সম্প্রচার সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরকারি তথ্যসেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। মন্ত্রী আরো জানান, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং সক্ষমতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, গণমাধ্যমের বিকাশ এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন, নীতি ও নির্দেশিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।’
জহির উদ্দিন স্বপন সংসদকে আরো জানান, সরকারি তথ্যপ্রবাহকে আরো স্বচ্ছ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে ই-গভর্ন্যান্স ও ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যম প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে দেশের তথ্য ও সম্প্রচার খাতের ধারাবাহিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়।
গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবদুল মান্নানের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, সারাদেশে অনলাইন সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি কাজ করছে। তিনি বলেন, তথ্য অধিদফতরের সদর দপ্তরে এই বিশেষায়িত ‘গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি’ ২৪ ঘণ্টা (সার্বক্ষণিক) কর্মরত রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে এই কমিটির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে সত্যতা নিশ্চিত করে ‘তথ্যবিবরণী’ এবং ‘প্রতিবাদলিপি’ সরকারি ও বেসরকারি সকল গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি জানান, সদর দপ্তরের পাশাপাশি তথ্য অধিদফতরের আওতাধীন বিভাগীয় পর্যায়ে অবস্থিত আঞ্চলিক তথ্য অফিসসমূহ নিজ নিজ অঞ্চলের অনলাইন সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার ওপর নিবিড় নজরদারি করছে।
অপপ্রচার ও সাইবার হয়রানির বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অধিদফতরের ফিচার শাখা থেকে নিয়মিত সচেতনতামূলক বিশেষ নিবন্ধ ও ফিচার তৈরি করে জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালসমূহে প্রকাশের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
দেশের তথ্য ও সম্প্রচার খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (২২ জুন) সংসদের বৈঠকে নেত্রকোনা-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এ কথা জানান।
মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘দেশের তথ্য ও সম্প্রচার খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সম্প্রচার ও তথ্যসেবায় আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিটিভিতে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল টেরেস্ট্রিয়াল টেলিভিশন (ডিটিটি) সম্প্রচার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ বেতারের ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপভিত্তিক সম্প্রচার সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরকারি তথ্যসেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। মন্ত্রী আরো জানান, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং সক্ষমতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, গণমাধ্যমের বিকাশ এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন, নীতি ও নির্দেশিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।’
জহির উদ্দিন স্বপন সংসদকে আরো জানান, সরকারি তথ্যপ্রবাহকে আরো স্বচ্ছ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে ই-গভর্ন্যান্স ও ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যম প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে দেশের তথ্য ও সম্প্রচার খাতের ধারাবাহিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়।
গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবদুল মান্নানের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, সারাদেশে অনলাইন সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি কাজ করছে। তিনি বলেন, তথ্য অধিদফতরের সদর দপ্তরে এই বিশেষায়িত ‘গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি’ ২৪ ঘণ্টা (সার্বক্ষণিক) কর্মরত রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে এই কমিটির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে সত্যতা নিশ্চিত করে ‘তথ্যবিবরণী’ এবং ‘প্রতিবাদলিপি’ সরকারি ও বেসরকারি সকল গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি জানান, সদর দপ্তরের পাশাপাশি তথ্য অধিদফতরের আওতাধীন বিভাগীয় পর্যায়ে অবস্থিত আঞ্চলিক তথ্য অফিসসমূহ নিজ নিজ অঞ্চলের অনলাইন সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার ওপর নিবিড় নজরদারি করছে।
অপপ্রচার ও সাইবার হয়রানির বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অধিদফতরের ফিচার শাখা থেকে নিয়মিত সচেতনতামূলক বিশেষ নিবন্ধ ও ফিচার তৈরি করে জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালসমূহে প্রকাশের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন