বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভিত মজবুত করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে এই ঋণ ব্যাংক খাতের চলমান সংকট নিরসন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করবে বলে বুধবার (২৪ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধার কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ এর শেষে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩২ শতাংশের বেশি, যা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় খেলাপি ঋণের (৭.৯ শতাংশ) চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংকিং খাতের মূলধন ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের অনুপাত ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের এই অর্থায়ন মূলত আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বৃদ্ধি, একটি কার্যকর জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল তৈরি এবং সরকারি ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত সংস্কারে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার যে লক্ষ্য বাংলাদেশের রয়েছে, তার জন্য একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অপরিহার্য। তবে দেশের ব্যাংকিং খাত, যা মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণ করে, বর্তমানে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "এ প্রকল্প বাংলাদেশকে এমন কিছু প্রয়োজনীয় হাতিয়ার, ব্যবস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে, যা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের রক্ষা করবে, আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করবে; যেন এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।"
এই প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইসিটি অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, "এ প্রকল্প ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং খাতভিত্তিক ডেটা ও অ্যানালিটিক্সের ঘাটতি দূর করতে সাহায্য করবে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বাড়বে, তথ্যভিত্তিক ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার হবে এবং আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়বে।"
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর স্পেশালিস্ট তোশিয়াকি ওনো।
তিনি জানান, এই প্রকল্প মূলত সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতে এবং ব্যাংকিং খাতের চাপ ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভিত মজবুত করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে এই ঋণ ব্যাংক খাতের চলমান সংকট নিরসন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করবে বলে বুধবার (২৪ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধার কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ এর শেষে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩২ শতাংশের বেশি, যা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় খেলাপি ঋণের (৭.৯ শতাংশ) চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংকিং খাতের মূলধন ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের অনুপাত ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের এই অর্থায়ন মূলত আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বৃদ্ধি, একটি কার্যকর জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল তৈরি এবং সরকারি ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত সংস্কারে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার যে লক্ষ্য বাংলাদেশের রয়েছে, তার জন্য একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অপরিহার্য। তবে দেশের ব্যাংকিং খাত, যা মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণ করে, বর্তমানে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "এ প্রকল্প বাংলাদেশকে এমন কিছু প্রয়োজনীয় হাতিয়ার, ব্যবস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে, যা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের রক্ষা করবে, আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করবে; যেন এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।"
এই প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইসিটি অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, "এ প্রকল্প ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং খাতভিত্তিক ডেটা ও অ্যানালিটিক্সের ঘাটতি দূর করতে সাহায্য করবে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বাড়বে, তথ্যভিত্তিক ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার হবে এবং আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়বে।"
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর স্পেশালিস্ট তোশিয়াকি ওনো।
তিনি জানান, এই প্রকল্প মূলত সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতে এবং ব্যাংকিং খাতের চাপ ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

আপনার মতামত লিখুন