ফেনীর ফুলগাজীতে চাঞ্চল্যকর কুয়েতপ্রবাসী বিবি কুলসুম কাজল হত্যা মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. আরিফুল ইসলাম, যিনি নিহতের দূরসম্পর্কের ভাগনে। র্যাব জানিয়েছে, মূলত ঋণের টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে মামির ঘরে ডাকাতি করতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান আরিফুল।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ফেনীর র্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. মিজানুর রহমান। এর আগে, আজ সকাল সাতটায় ফুলগাজীর উত্তর ধর্মপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন সন্তানের জননী বিবি কুলসুম কাজল তার দুই বছরের শিশুসন্তান নাহিমকে নিয়ে নিজ বাড়িতে থাকতেন। গত ২৬ জুন গভীর রাতে আরিফুল ঋণের টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে মামির ঘরে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। সেই অনুযায়ী তিনি বাড়ির ছাদের সিঁড়িঘরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে কুলসুম কাজলের সঙ্গে আরিফুলের ধস্তাধস্তি শুরু হলে তিনি ধারালো ও ভারী বস্তু দিয়ে কুলসুমের হাত, পা ও মুখ বেঁধে মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই কুলসুম কাজলের মৃত্যু হয়। তবে ঘরে থাকা তার দুই বছরের শিশুটির কোনো ক্ষতি করা হয়নি।
হত্যাকাণ্ডের পর ভোররাতে স্থানীয় লোকজন যখন ফজরের নামাজ পড়তে বের হন, তখন ঘর থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পান। প্রতিবেশীরা জড়ো হতে শুরু করলে আরিফুল পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ফুলগাজী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর ছায়াতদন্ত শুরু করে র্যাব। ঘটনার ৫০ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত আরিফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৭-এর অধিনায়ক মো. মিজানুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কারও ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত আছে। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফুলগাজী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন