সংবাদ

মতামত

রম্যগদ্য: “কিয়ের লেখা, কিয়ের পড়া, বিদেশ যামু লাইনে খাড়া”

হেঁঃ হেঁঃ হাগলনি কোনো, লেহাপড়া ছাড়া বিদেশ গেলে তো, পানি চায়াও খাবা পারবেন না?তুই বললেতো চলবে না! তুই দেখিসনি তোদের সব জেন-জির ছাত্ররা, ধরে ধরে সব শিক্ষকদের জোর করে পদত্যাগ করালো!হ, দেখছিতো। মাস্টার মানুষ মাস্টারি করবেন, পোলাপানরে মানুষ করবেন, আপনে ক্যান সরকারের পা-চাঁটবেন!ওম্মা কচি খোকা, সরকারের কথা না শুনলে এমপিওভুক্ত হবে না, পেনশন পাবে না, নিয়মিত বেতন পাবে না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ পাবে না।শিক্ষকরা যদি বেতনই না পায় তাহলে তোর কথা মতো পোলাপানরে মানুষ করবে কীভাবে?এইসব ফালতু কথা কোয়েন না, পোলাপানরে মানুষ করবে কীভাবে! আপনেরা মিয়া শিক্ষক, আপনেরা ব্যাবাগতে এক লগে, এক হয়া যুদি কন, আমাগো পরবর্তী প্রজন্ম হ্যারাই ভবিষ্যতে আমাগো দেশ চালাইবো, হ্যাগোরে যুদি মানুষ না বানাই তায়লে জন্তু জানোয়ার দিয়া কি দেশ চলবো? কন কন, জন্তু জানোয়ার দিয়া কি দেশ চলবো?বাহ্! তোর কথায় যুক্তি আছে, বুঝলাম। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ওরাই ভবিষ্যতে আমাদের দেশ চালাবে। কিন্তু তোমার শিক্ষদের মাঝেইতো লাল, নীল,সবুজ, হলুদ, ভায়োলেট,অরেঞ্জ কত রকমের রঙের বাহার। তাহলে সব শিক্ষক এক হয়ে একত্রে কাজ করবে কীভাবে!ক্যান মিয়া ভাই রংধনু দ্যাখেন নাই! রংধনুর মইধ্যে সাতটা রং কিন্তু ব্যেবাগতে মিল্লা একটাই রংধনু তো, আপনেগো যত রঙই থাকুক নীতির প্রশ্নে আপোস না করলেইতো আপনেরা পরবর্তী প্রজন্মরে মানুষ করতে পারতেন।বাহ্ আমদের নিজ্স্ব রাজনৈতিক চিন্তাধারা থাকতে পারে না?আপনেরা মিয়া জিন্দেগীতে আর মানুষ হোইবে না! খেলার মইধ্যে রাজনীতি, পড়ার মইধ্যে রাজনীতি, বাথরুমের মইধ্যে রাজনীতি, বাজারের মইধ্যে রাজনীতি, ছেরিগো হলে রাজনীতি, ছ্যারাগো চান্দির মইধ্যে রাজনীতি, এই রাজনীতি করতে করতে বাঙালি জাতিটারে ছ্যারাভ্যারা কোইরালচ্চেন...বুঝলাম বুঝলাম সব ব্যাক্তিস্বার্থে রাজনীতিকে ব্যাবহার করে জাতিটার অবস্থা এমন করেছিস যে এখন কেউ আর তার নিজ মাতৃভূমিতে বসবাস করতে চায় না। সব বিদেশে পালাতে চায়।তো, আগে না আমাগো স্কুলের বাইল্য শিক্ষায় কোইতেন “জননীর জন্মভূমিশ্চঃ স্বর্গাদপী গরিয়সীঃ” মাত্তিভূমি বলে স্বর্গের চায়াও গরিমায় বড়, তো অহন পাবলিকে নিজ মাত্তিভূমি ছাইড়া ভাগবার চায় ক্যালা?“মাত্তিভূমি ছাইড়া ভাগবার চায়...কারণ তোমরা দেশ স্বাধীন করার পর এমন ভাবে দেশ পরিচালনা করছো যে পাবলিক বাপ বাপ বলে মাতৃভূমি ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে।হুনেন আপনেরাই শিক্ষিতরা বৃটিশ আমলে কোইতেন,“স্বদেশের কুকুর পুজা করো বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া।” আর বর্তমানে আপনেগো দেশ পরিচালনার বাহার দেইখ্যা বাংলার ঠাকুররা বিদেশে যায়া সাবেগো কুকুর পাইল্লা জীবন চালাইতেছে।দ্যেখ পৃথিবীতে কেউ তার মাতৃভূমি ছেড়ে কোথাও থেকে শান্তি পায় না। ওই যে সারমেয়রা পর্যন্ত তুই বাড়ি থেকে যত দূরেই ছেড়ে দিয়ে আসিস ওরা ঠিকই আবার নিজ বাড়িতে ফিরে আসে। নাড়ীর টান তুই বুঝবি না।হ হ বুঝুম না ক্যালা, ভারত পাকিস্তান ভাগ হওনের সময় কত্ত লুকের কান্দন, তাগো চুক্ষের পানি শুকাইতে না শুকাইতে আপনেরা আবার ইস্ট-পাকিস্তান ওয়েস্ট-পাকিস্তান ভাগ হয়া গেলেন! আবার কত্ত পাবলিকের কান্দন, তাগো চুক্ষের পানি শুকাইতে না শুকাইতে আপনেরা আবার দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল বানায়া আবার মাইরপিট, মারামারি, ফাটাফাটি লাগায়া রাখছেন! কী করবি বল, তোরা কিছু ব্যাক্তি কেবল মাত্র নিজেদের জাগতিক সুখের জন্য, টাকা টাকা করে পুরো বাঙালি জাতিটার বারটা বাজাচ্ছিস।এই যে কন ট্যাকা ট্যাকা, অহন তো দেখলেন, ট্যাকা ট্যাকা কোইরা যা করলেন, পাবলিকে আপনেগো ঘরের চৌকাঠভি খুইল্লা লয়া গেছে, ট্যাকা কি কব্বরে লোইবেন!এখন ওই টাকায় ওদের বিদেশে আরামে রাখছে আর নিজের দেশের আম পাবলিকের জীবন ত্রাহি মধূসুদন ত্রাহি মধূসুদন করছে।ভাইনা ভালা, আপনেরা এবার নতুন প্রজন্ম জেন-জি’রে কন ভাই তুরা যেন ট্যাকার কাছে নিজেরে না বেইচ্চা দেশটারে একটু মানুষের মতো মানুষ কর। আমি কি বলবো বল, কে যেন লিখেছিলো,“ টাকা কড়ির টানটা প্রবল/ গতিটা তার রকেট/ ভুলেই বসেন সব মহাজন/ কাফনের নাই পকেট।”বুঝলেন চুরে শুনে না ধর্মের কাহিনি, এইসব ছড়া মড়া দিয়া কাম হোইবো না। আপনেরা যুদি আইণ কড়া করার না পারেন, ব্যাংক লুটেরাগো ধইরা বাইন্দা না পিটান, তায়লে কুনো দিনও বাঙালি আর তার মাত্তিভূমিতে থাকতে চাইবো না! আমাগো পোলাপান ব্যেবাকতে আবার বৃটিশ আমলের মতুন বিদেশিগো চাকর হয়া জীবন পার করবো। এই ভারত বর্ষের স্বাধীনতা, স্বাধীন ভারত, স্বাধীন পাকিস্তান, স্বাধীন বাংলাদেশ ব্যেবাগ স্বাধীন পাবলিক আবার বিদেশি গো পাচাঁটবো। কোন কবি না কোইছিলো, “এই জীবন চেয়েছিলে বুঝি...!!কবির কথায় যখন তুললি, তাহলে কবি কিশোর সুকান্তের কবিতা শোন“ছাড়পত্র”...কন হুনি কবি কিশোর সুকান্তের“ছাড়পত্ত”...খালি কথার মাঝে কথা!ঠিক আছে ঠিক আছে কন হুনি, “ছাড়পত্ত”“ছাড়পত্র” কবি কিশোর সুকান্তের কবিতা“ছাড়পত্র” ...এসেছে নতুন শিশু/ তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান/ চলে যাবো/ তবু যতক্ষণ/ দেহে আছে প্রাণ/ প্রণপনে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল/ এ’বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি/ নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার...ভাইডি বিশ্ব লাগবো না, আপনে খালি বাংলাদেশকে এই শিশুর বাসযোগ্য কোইরা দ্যান তায়লে কেউ আর বিদেশ যায়া মরবো না...ঠিক আছে,বাংলাদেশকে এই শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি, এই হোক আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার...   [লেখক: চলচ্চিত্রকার]

রম্যগদ্য: “কিয়ের লেখা, কিয়ের পড়া, বিদেশ যামু লাইনে খাড়া”