পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরিকাঠামো ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যকরের আশ্বাসের পর শিল্পাঞ্চলগুলোর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে অন্তত ১৩০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন জানান, কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকেরা কারখানায় এলেও উৎপাদনকাজে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে ওই কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হন মালিকেরা। তিনি জানান, সাভারের ৭০টি, গাজীপুরের প্রায় ৫০টি এবং নারায়ণগঞ্জের ৮টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে আগের দিনগুলোর মতো বড় ধরনের সড়ক অবরোধ, জমায়েত বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। যদিও গাজীপুরে সড়ক অবরোধের চেষ্টা হয়েছে এবং মোটরসাইকেল থেকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। গাজী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শ্রমিকদের ককটেল নিক্ষেপ করার কথা নয়। এখানে যে অন্যরা জড়িত, তা বেশ স্পষ্ট।’
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান, ‘পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে, তা বলা যাচ্ছে না।’
এদিকে চলমান পোশাক খাতে অস্থিরতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রায় ২২৫টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুটি গোয়েন্দা ইউনিট—কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীসহ শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখছে এনবিআর। এসব প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের সঙ্গে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
যাদের হিসাব জব্দ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সালমান এফ রহমান, আবদুস সালাম মুর্শেদী, টিপু মুনশি, শাহরিয়ার আলম, নসরুল হামিদ, তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের আবদুস সালাম, নিপা গ্রুপের খসরু চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের মোশাররফ হোসেন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচি এবং মণ্ডল গ্রুপের আবদুল মোমিন মণ্ডলসহ অনেকে।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে অন্যদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।’
গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা বাহাউদ্দিন নাছিমসহ আরও কয়েকজন পোশাক খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির তৎপরতা তদারকি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অন্তত ২৫টি গ্রুপ সক্রিয় করা হয় এবং নগদ অর্থ, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করা হয়।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ কর্মীকে পোশাকশিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এনে শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
এদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকারি সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে ৭ নভেম্বর সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছেন মালিকেরা। ফলে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা দুই দিন ছুটি পাচ্ছেন শ্রমিকেরা।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কারখানা মালিকদের ধারণা, টানা দুই দিনের ছুটিতে পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ কিছুটা প্রশমিত হবে।

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরিকাঠামো ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যকরের আশ্বাসের পর শিল্পাঞ্চলগুলোর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে অন্তত ১৩০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন জানান, কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকেরা কারখানায় এলেও উৎপাদনকাজে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে ওই কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হন মালিকেরা। তিনি জানান, সাভারের ৭০টি, গাজীপুরের প্রায় ৫০টি এবং নারায়ণগঞ্জের ৮টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে আগের দিনগুলোর মতো বড় ধরনের সড়ক অবরোধ, জমায়েত বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। যদিও গাজীপুরে সড়ক অবরোধের চেষ্টা হয়েছে এবং মোটরসাইকেল থেকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। গাজী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শ্রমিকদের ককটেল নিক্ষেপ করার কথা নয়। এখানে যে অন্যরা জড়িত, তা বেশ স্পষ্ট।’
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান, ‘পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে, তা বলা যাচ্ছে না।’
এদিকে চলমান পোশাক খাতে অস্থিরতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রায় ২২৫টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুটি গোয়েন্দা ইউনিট—কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীসহ শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখছে এনবিআর। এসব প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের সঙ্গে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
যাদের হিসাব জব্দ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সালমান এফ রহমান, আবদুস সালাম মুর্শেদী, টিপু মুনশি, শাহরিয়ার আলম, নসরুল হামিদ, তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের আবদুস সালাম, নিপা গ্রুপের খসরু চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের মোশাররফ হোসেন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচি এবং মণ্ডল গ্রুপের আবদুল মোমিন মণ্ডলসহ অনেকে।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে অন্যদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।’
গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা বাহাউদ্দিন নাছিমসহ আরও কয়েকজন পোশাক খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির তৎপরতা তদারকি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অন্তত ২৫টি গ্রুপ সক্রিয় করা হয় এবং নগদ অর্থ, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করা হয়।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ কর্মীকে পোশাকশিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এনে শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
এদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকারি সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে ৭ নভেম্বর সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছেন মালিকেরা। ফলে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা দুই দিন ছুটি পাচ্ছেন শ্রমিকেরা।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কারখানা মালিকদের ধারণা, টানা দুই দিনের ছুটিতে পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ কিছুটা প্রশমিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন