সংবাদ

মতামত

১৩ সাংসদ হারানোর দাবি ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা!

নরেন্দ্র মোদীর সরকার কি এবার সত্যিই জোটের চাপে পড়তে চলেছে? একদিকে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে সমাজবাদী পার্টির সাফল্য, অন্যদিকে এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ শরিকদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।তবে  টিডিপি এবং জেডিইউ এনডিএ ছেড়ে দিয়েছে, আভাস ভাসলেও  ভেতরের নিশ্চিত খবর এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে দুই শরিক দল জোট ছেড়েছে এবং মোদী সরকার এক ধাক্কায় ১৩ জন সাংসদ হারিয়েছে—এমন দাবি এই মুহূর্তে প্রতিষ্ঠিত নয়!২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম পার্টি এবং নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড। দুই দলের সম্মিলিত সাংসদ সংখ্যা ২৮। এর বাইরে চিরাগ পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-এর পাঁচ সাংসদও এনডিএ-র শক্তির অন্যতম স্তম্ভ।অর্থাৎ, জোটের কোনও গুরুত্বপূর্ণ শরিক সমর্থন প্রত্যাহার করলে তার রাজনৈতিক প্রভাব যথেষ্ট বড় হতে পারে। তবে রাজনৈতিক অসন্তোষ, সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছেড়ে দেওয়া—এই তিনটি বিষয় এক নয়।নাইডুর অবস্থান কতটা গুরুত্বপূর্ণ?চন্দ্রবাবু নাইডুর রাজনৈতিক গুরুত্ব শুধু তাঁর দলের সাংসদ সংখ্যার জন্য নয়। অন্ধ্রপ্রদেশের উন্নয়ন, রাজ্যের আর্থিক সহায়তা এবং কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্ক—এই বিষয়গুলিতে তাঁর অবস্থান এনডিএ-র সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ।অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রতিক বিধান পরিষদ নির্বাচনে বিজেপি ছয়টি এবং সমাজবাদী পার্টি পাঁচটি আসন পেয়েছে। বারাণসী ও লখনউয়ের মতো এলাকায় বিজেপির ধাক্কা রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই ফলাফলের পর উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য বলেছেন, সমাজবাদী পার্টি এমন জায়গায় জিতেছে যেখানে তাদের জেতার কথা ছিল না। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাহলে মোদী সরকারের সামনে আসল সংকট কোথায়?আসল প্রশ্ন, এনডিএ-র শরিকরা কি কেবল নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়াচ্ছে, নাকি জোটের ভিতরেই বড় কোনও পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে?বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্ক এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অসন্তোষের প্রভাব এবার এনডিএ-র শরিকদের উপরেও পড়ছে। তবে শরিকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেই সরকার পড়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় এখনও আসেনি।মোদী সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা—শরিকদের আস্থা ধরে রাখা এবং বিরোধীদের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলানো।আর চন্দ্রবাবু নাইডু যদি ভবিষ্যতে কোনও বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন, তার প্রভাব শুধু অন্ধ্রপ্রদেশে নয়, দিল্লির ক্ষমতার সমীকরণেও পড়তে পারে। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে এখনই জোট ভাঙনের নিশ্চিত খবর account করা যায়না।

১৩ সাংসদ হারানোর দাবি ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা!