খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু সবার খাবারের থালায় সমান পুষ্টি থাকে না। আয়, পেশা, বসবাসের পরিবেশ ও সামাজিক অবস্থানের কারণে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পার্থক্য তৈরি হয়। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, দলিত, বঞ্চিত ও দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের খাদ্যতালিকা অনেকটাই নির্ভর করে তাদের আয় ও চারপাশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর। তাদের খাবারে পুষ্টির নানা উপাদান থাকলেও দারিদ্র্যরে কারণে প্রয়োজনীয় ও বৈচিত্র্যময় খাবার নিয়মিত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। তাদের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসও এক রকম নয়। পাহাড়, বন, নদী, হাওর কিংবা সমতলের পরিবেশের সঙ্গে তাদের খাদ্যসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। অনেকেই স্থানীয় বনজ ফল, শাকপাতা, কন্দ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাদ্য সংগ্রহ করে থাকেন। কলমিশাক, কচুশাক, সজনে পাতা, বুনো ওল, বিভিন্ন লতাপাতা এবং কচি বাঁশের ডগা তাদের খাবারের পরিচিত উপকরণ। এসব খাবারে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কেউ কেউ মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তা বিক্রি করেও জীবিকা নির্বাহ করেন।
নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয় থেকেও প্রান্তিক মানুষ খাবার সংগ্রহ করেন। ছোট মাছ, চিংড়ি ও শুঁটকি তাদের খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বড় মাছ বা মাংস নিয়মিত কেনার সামর্থ্য না থাকলেও এসব ছোট মাছ থেকে তারা প্রোটিনসহ নানা পুষ্টি উপাদান পান। একসময় অনেক পরিবার খাসির পায়ের মতো অপেক্ষাকৃত সস্তা অংশও যত্ন করে রান্না করে খেত। এসব খাবার তাদের খাদ্যসংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে ছিল।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, দলিত ও দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের খাবারের তালিকায় ভাত, ডাল ও আলুভর্তারও বিশেষ জায়গা রয়েছে। পান্তাভাত তাদের অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ। পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, লবণ ও সরিষার তেল দিয়ে পান্তাভাত খাওয়ার চল দীর্ঘদিনের। সামান্য উপকরণে তৈরি এই খাবার অনেকের কাছে তৃপ্তির হলেও এর পেছনে রয়েছে সীমিত আয়ের বাস্তবতা। এমন পরিবারও আছে, যাদের কাছে নিয়মিত প্রয়োজনীয় খাবার কেনার অর্থ থাকে না। ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’—প্রবাদটি তাদের জীবনের কঠিন বাস্তবতাকেই তুলে ধরে।
দরিদ্র মানুষের খাদ্যাভ্যাসের আরেকটি দিক হলো খাবারের অপচয় না করা। অনেক সচ্ছল পরিবার যে সবজি বা খাবারের অংশ ফেলে দেয়, দরিদ্র পরিবার তা দিয়েই নতুন পদ তৈরি করে। যেমন পটলের খোসা ফেলে না দিয়ে ভর্তা বা অন্য খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সামান্য খাবারও কাজে লাগানোর এই অভ্যাস তাদের জীবনসংগ্রামের পরিচয় বহন করে। তবে সীমিত উপকরণ দিয়ে খাবার তৈরি করতে পারা আর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া এক বিষয় নয়। দারিদ্র্যরে কারণে অনেক পরিবার পর্যাপ্ত আমিষ, ফল, দুধ, ডিম ও শাকসবজি কিনতে পারে না। ফলে শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক মানুষের অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ে।
শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবার অপরিহার্য। অপুষ্টির কারণে শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ীও হতে পারে। কোনো শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি কম হওয়ার পেছনে অপুষ্টির পাশাপাশি বংশগত ও হরমোনজনিত কারণসহ নানা বিষয় থাকতে পারে। তাই বিষয়টি অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।
দেশের নদীভাঙনকবলিত এলাকা, চরাঞ্চল, হাওর এবং শহরের বস্তিতে বসবাসকারী বহু মানুষ দারিদ্র্যরে মধ্যে জীবনযাপন করেন। তাদের অনেকেরই নিয়মিত ও পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই। এর প্রভাব পড়ে পরিবারের শিশুদের ওপর। অথচ শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়; রাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। খাদ্য, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির সুযোগ থেকে কোনো শিশু যেন বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এ অবস্থায় সরকারকে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবতে হবে। প্রথমত, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, দলিত, দরিদ্র শ্রমজীবী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে একটি নির্ভুল তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। সেই তালিকার ভিত্তিতে তাদের জন্য স্বল্পমূল্যে খাদ্য সরবরাহ, রেশন কার্ড কিংবা পরিবারভিত্তিক সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সহায়তা যেন প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, গর্ভবতী মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া দরকার। মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা, পুষ্টি পরামর্শ ও বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করতে হবে। গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার সুযোগও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুষ্টি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
তৃতীয়ত, প্রান্তিক মানুষের খাদ্যসংস্কৃতি ও স্থানীয় খাদ্যসম্পদকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের পরিচিত ও সহজলভ্য শাকসবজি, ছোট মাছ, ডাল, ফলমূলসহ পুষ্টিকর খাবারের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়ানো যেতে পারে। এতে একদিকে পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতিও টিকে থাকবে।
বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু খাদ্যের উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; সবার জন্য পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্যও তৈরি করতে হবে। দরিদ্র মানুষের খাবার নিয়ে কৌতূহল বা প্রশংসা নয়, তাদের পুষ্টির অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য। একটি শিশুও যেন দারিদ্র্যরে কারণে অপুষ্টিতে বেড়ে না ওঠে। রাষ্ট্রের নীতি ও সামাজিক উদ্যোগের কেন্দ্রে এই মানবিক দায়িত্বকে স্থান দিতে হবে।
[লেখক: আইনজীবী, জজ কোর্ট, জয়পুরহাট]

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু সবার খাবারের থালায় সমান পুষ্টি থাকে না। আয়, পেশা, বসবাসের পরিবেশ ও সামাজিক অবস্থানের কারণে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পার্থক্য তৈরি হয়। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, দলিত, বঞ্চিত ও দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের খাদ্যতালিকা অনেকটাই নির্ভর করে তাদের আয় ও চারপাশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর। তাদের খাবারে পুষ্টির নানা উপাদান থাকলেও দারিদ্র্যরে কারণে প্রয়োজনীয় ও বৈচিত্র্যময় খাবার নিয়মিত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। তাদের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসও এক রকম নয়। পাহাড়, বন, নদী, হাওর কিংবা সমতলের পরিবেশের সঙ্গে তাদের খাদ্যসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। অনেকেই স্থানীয় বনজ ফল, শাকপাতা, কন্দ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাদ্য সংগ্রহ করে থাকেন। কলমিশাক, কচুশাক, সজনে পাতা, বুনো ওল, বিভিন্ন লতাপাতা এবং কচি বাঁশের ডগা তাদের খাবারের পরিচিত উপকরণ। এসব খাবারে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কেউ কেউ মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তা বিক্রি করেও জীবিকা নির্বাহ করেন।
নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয় থেকেও প্রান্তিক মানুষ খাবার সংগ্রহ করেন। ছোট মাছ, চিংড়ি ও শুঁটকি তাদের খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বড় মাছ বা মাংস নিয়মিত কেনার সামর্থ্য না থাকলেও এসব ছোট মাছ থেকে তারা প্রোটিনসহ নানা পুষ্টি উপাদান পান। একসময় অনেক পরিবার খাসির পায়ের মতো অপেক্ষাকৃত সস্তা অংশও যত্ন করে রান্না করে খেত। এসব খাবার তাদের খাদ্যসংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে ছিল।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, দলিত ও দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের খাবারের তালিকায় ভাত, ডাল ও আলুভর্তারও বিশেষ জায়গা রয়েছে। পান্তাভাত তাদের অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ। পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, লবণ ও সরিষার তেল দিয়ে পান্তাভাত খাওয়ার চল দীর্ঘদিনের। সামান্য উপকরণে তৈরি এই খাবার অনেকের কাছে তৃপ্তির হলেও এর পেছনে রয়েছে সীমিত আয়ের বাস্তবতা। এমন পরিবারও আছে, যাদের কাছে নিয়মিত প্রয়োজনীয় খাবার কেনার অর্থ থাকে না। ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’—প্রবাদটি তাদের জীবনের কঠিন বাস্তবতাকেই তুলে ধরে।
দরিদ্র মানুষের খাদ্যাভ্যাসের আরেকটি দিক হলো খাবারের অপচয় না করা। অনেক সচ্ছল পরিবার যে সবজি বা খাবারের অংশ ফেলে দেয়, দরিদ্র পরিবার তা দিয়েই নতুন পদ তৈরি করে। যেমন পটলের খোসা ফেলে না দিয়ে ভর্তা বা অন্য খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সামান্য খাবারও কাজে লাগানোর এই অভ্যাস তাদের জীবনসংগ্রামের পরিচয় বহন করে। তবে সীমিত উপকরণ দিয়ে খাবার তৈরি করতে পারা আর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া এক বিষয় নয়। দারিদ্র্যরে কারণে অনেক পরিবার পর্যাপ্ত আমিষ, ফল, দুধ, ডিম ও শাকসবজি কিনতে পারে না। ফলে শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক মানুষের অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ে।
শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবার অপরিহার্য। অপুষ্টির কারণে শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ীও হতে পারে। কোনো শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি কম হওয়ার পেছনে অপুষ্টির পাশাপাশি বংশগত ও হরমোনজনিত কারণসহ নানা বিষয় থাকতে পারে। তাই বিষয়টি অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।
দেশের নদীভাঙনকবলিত এলাকা, চরাঞ্চল, হাওর এবং শহরের বস্তিতে বসবাসকারী বহু মানুষ দারিদ্র্যরে মধ্যে জীবনযাপন করেন। তাদের অনেকেরই নিয়মিত ও পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই। এর প্রভাব পড়ে পরিবারের শিশুদের ওপর। অথচ শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়; রাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। খাদ্য, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির সুযোগ থেকে কোনো শিশু যেন বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এ অবস্থায় সরকারকে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবতে হবে। প্রথমত, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, দলিত, দরিদ্র শ্রমজীবী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে একটি নির্ভুল তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। সেই তালিকার ভিত্তিতে তাদের জন্য স্বল্পমূল্যে খাদ্য সরবরাহ, রেশন কার্ড কিংবা পরিবারভিত্তিক সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সহায়তা যেন প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, গর্ভবতী মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া দরকার। মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা, পুষ্টি পরামর্শ ও বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করতে হবে। গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার সুযোগও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুষ্টি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
তৃতীয়ত, প্রান্তিক মানুষের খাদ্যসংস্কৃতি ও স্থানীয় খাদ্যসম্পদকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের পরিচিত ও সহজলভ্য শাকসবজি, ছোট মাছ, ডাল, ফলমূলসহ পুষ্টিকর খাবারের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়ানো যেতে পারে। এতে একদিকে পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতিও টিকে থাকবে।
বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু খাদ্যের উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; সবার জন্য পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্যও তৈরি করতে হবে। দরিদ্র মানুষের খাবার নিয়ে কৌতূহল বা প্রশংসা নয়, তাদের পুষ্টির অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য। একটি শিশুও যেন দারিদ্র্যরে কারণে অপুষ্টিতে বেড়ে না ওঠে। রাষ্ট্রের নীতি ও সামাজিক উদ্যোগের কেন্দ্রে এই মানবিক দায়িত্বকে স্থান দিতে হবে।
[লেখক: আইনজীবী, জজ কোর্ট, জয়পুরহাট]

আপনার মতামত লিখুন