সংবাদ

সাটুরিয়ায় আশ্রয়ণের ১৭ ঘরেই তালা, কোথায় গেলেন বাসিন্দারা?


প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

সাটুরিয়ায় আশ্রয়ণের ১৭ ঘরেই তালা, কোথায় গেলেন বাসিন্দারা?
ছবি : সংবাদ

সরকারি নথিতে ১৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে মানুষের কোনো কোলাহল নেই। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের খলিশাডহুরা এলাকায় নির্মিত ‘আশ্রয়ণ-২’ প্রকল্পের ১৭টি ঘরের সব কটিতেই এখন ঝুলছে তালা। তদারকির অভাব আর ভুল ব্যক্তিকে ঘর বরাদ্দের কারণে সরকারের এই মানবিক উদ্যোগটি এখন স্থবির হয়ে পড়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে খলিশাডহুরা আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায় এক ভুতুড়ে পরিবেশ। যাতায়াতের রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধা থাকলেও জনমানবের চিহ্ন নেই। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় ঘরের চারপাশ জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। বারান্দাগুলো পরিণত হয়েছে আবর্জনার স্তূপে। দেখভালের অভাবে কোনো কোনো ঘরের দেয়ালে ফাটল ধরতে শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহানাজ (৪৫) বলেন, ‘মানুষ না থাকায় ফাঁকা ঘরের বারান্দায় এলাকার লোকজন এখন ট্রাক্টর রাখছে, কেউ রাখছে গোবর ও খড়। এভাবে চললে ঘরগুলো দ্রুতই নষ্ট হয়ে যাবে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিটি ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে এই ১৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প এলাকার প্রকৃত ভূমিহীনদের ঘর না দিয়ে ১২ কিলোমিটার দূরে বালিয়াটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নামে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দূরত্বের কারণে ওই সব দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিজেদের কর্মস্থল ছেড়ে এখানে এসে থাকতে পারছেন না।

এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, বরাদ্দপ্রাপ্তদের অনেকেই ঘরগুলো চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তা হস্তান্তর বা বিক্রি করা নিষিদ্ধ হওয়ায় তারা ঘরগুলো এভাবে ফেলে রেখেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রমজান আলী বলেন, ‘এ এলাকায় অনেক প্রকৃত ভূমিহীন মানুষ অন্যের জায়গায় কষ্ট করে থাকছে। ঘরগুলো তাদের পুনরায় বরাদ্দ দিতে ইউএনওকে কয়েকবার লিখেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’

সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান মোল্লাহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে সব কটি ঘর তালাবদ্ধ পেয়েছি।’

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘বরাদ্দপ্রাপ্তদের দলিল আইনগতভাবে বাতিল না করা পর্যন্ত অন্য কাউকে ঘর দেওয়া যাচ্ছে না। যারা ঘর ফেলে রেখেছেন, তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে ঘরগুলো পুনর্বণ্টন করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


সাটুরিয়ায় আশ্রয়ণের ১৭ ঘরেই তালা, কোথায় গেলেন বাসিন্দারা?

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

সরকারি নথিতে ১৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে মানুষের কোনো কোলাহল নেই। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের খলিশাডহুরা এলাকায় নির্মিত ‘আশ্রয়ণ-২’ প্রকল্পের ১৭টি ঘরের সব কটিতেই এখন ঝুলছে তালা। তদারকির অভাব আর ভুল ব্যক্তিকে ঘর বরাদ্দের কারণে সরকারের এই মানবিক উদ্যোগটি এখন স্থবির হয়ে পড়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে খলিশাডহুরা আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায় এক ভুতুড়ে পরিবেশ। যাতায়াতের রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধা থাকলেও জনমানবের চিহ্ন নেই। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় ঘরের চারপাশ জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। বারান্দাগুলো পরিণত হয়েছে আবর্জনার স্তূপে। দেখভালের অভাবে কোনো কোনো ঘরের দেয়ালে ফাটল ধরতে শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহানাজ (৪৫) বলেন, ‘মানুষ না থাকায় ফাঁকা ঘরের বারান্দায় এলাকার লোকজন এখন ট্রাক্টর রাখছে, কেউ রাখছে গোবর ও খড়। এভাবে চললে ঘরগুলো দ্রুতই নষ্ট হয়ে যাবে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিটি ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে এই ১৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প এলাকার প্রকৃত ভূমিহীনদের ঘর না দিয়ে ১২ কিলোমিটার দূরে বালিয়াটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নামে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দূরত্বের কারণে ওই সব দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিজেদের কর্মস্থল ছেড়ে এখানে এসে থাকতে পারছেন না।

এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, বরাদ্দপ্রাপ্তদের অনেকেই ঘরগুলো চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তা হস্তান্তর বা বিক্রি করা নিষিদ্ধ হওয়ায় তারা ঘরগুলো এভাবে ফেলে রেখেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রমজান আলী বলেন, ‘এ এলাকায় অনেক প্রকৃত ভূমিহীন মানুষ অন্যের জায়গায় কষ্ট করে থাকছে। ঘরগুলো তাদের পুনরায় বরাদ্দ দিতে ইউএনওকে কয়েকবার লিখেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’

সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান মোল্লাহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে সব কটি ঘর তালাবদ্ধ পেয়েছি।’

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘বরাদ্দপ্রাপ্তদের দলিল আইনগতভাবে বাতিল না করা পর্যন্ত অন্য কাউকে ঘর দেওয়া যাচ্ছে না। যারা ঘর ফেলে রেখেছেন, তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে ঘরগুলো পুনর্বণ্টন করা হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত