সংবাদ

ঝুঁকিতে গাইবান্ধার ১৫ কিমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ


প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ এএম

ঝুঁকিতে গাইবান্ধার ১৫ কিমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ
বড় গর্তের কারণে বাঁধে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ। ছবিঃ সংবাদ

দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় গাইবান্ধার ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গাইবান্ধা সদরের কামারজানি থেকে সুন্দরগঞ্জের মওলানা ভাসানী সেতু পর্যন্ত এই বাঁধটির অন্তত ৫০টি স্থানে ধস ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণে এই অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় বর্তমানে বাঁধটি দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাঁধটি ভেঙে গেলে গাইবান্ধার অন্তত ১৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কাপাসিয়া ইউনিয়নের ফুল মিয়ার মোড় থেকে লালচামার পর্যন্ত অংশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের বন্যা হলে পানির স্রোতে বাঁধটি পুরোপুরি ধসে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাপাসিয়ার ফুল মিয়ার বাজার এলাকার ষাটোর্ধ্ব ফরমান আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাঁধটি কবে তৈরি হয়েছে তা মনে নেই। এরপর আর কোনো দিন সংস্কার করতে দেখিনি। বৃষ্টির কারণে এখন বড় বড় গর্ত হয়েছে। দ্রুত মেরামত না করলে বন্যায় আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে।’ একই গ্রামের আব্দুল মতিন জানান, ভাঙনের কারণে এখন আর কোনো গাড়ি চলতে পারছে না।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া বলেন, নির্মাণের পর থেকে মেরামত না করায় টানা বৃষ্টিতে বাঁধটি এখন হুমকির মুখে। এটি ভেঙে গেলে ১৫টি ইউনিয়নের লাখো মানুষ বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান জানান, বাঁধটির অবস্থা বর্তমানে খুবই নাজুক। তবে এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে হওয়ায় তাদের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ভারী বর্ষণে গর্ত তৈরি হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধের বর্তমান অবস্থার বিষয়টি আমরা জানি। সংস্কার ও মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বরাদ্দ চেয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


ঝুঁকিতে গাইবান্ধার ১৫ কিমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় গাইবান্ধার ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গাইবান্ধা সদরের কামারজানি থেকে সুন্দরগঞ্জের মওলানা ভাসানী সেতু পর্যন্ত এই বাঁধটির অন্তত ৫০টি স্থানে ধস ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণে এই অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় বর্তমানে বাঁধটি দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাঁধটি ভেঙে গেলে গাইবান্ধার অন্তত ১৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কাপাসিয়া ইউনিয়নের ফুল মিয়ার মোড় থেকে লালচামার পর্যন্ত অংশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের বন্যা হলে পানির স্রোতে বাঁধটি পুরোপুরি ধসে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাপাসিয়ার ফুল মিয়ার বাজার এলাকার ষাটোর্ধ্ব ফরমান আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাঁধটি কবে তৈরি হয়েছে তা মনে নেই। এরপর আর কোনো দিন সংস্কার করতে দেখিনি। বৃষ্টির কারণে এখন বড় বড় গর্ত হয়েছে। দ্রুত মেরামত না করলে বন্যায় আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে।’ একই গ্রামের আব্দুল মতিন জানান, ভাঙনের কারণে এখন আর কোনো গাড়ি চলতে পারছে না।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া বলেন, নির্মাণের পর থেকে মেরামত না করায় টানা বৃষ্টিতে বাঁধটি এখন হুমকির মুখে। এটি ভেঙে গেলে ১৫টি ইউনিয়নের লাখো মানুষ বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান জানান, বাঁধটির অবস্থা বর্তমানে খুবই নাজুক। তবে এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে হওয়ায় তাদের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ভারী বর্ষণে গর্ত তৈরি হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধের বর্তমান অবস্থার বিষয়টি আমরা জানি। সংস্কার ও মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বরাদ্দ চেয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত