কক্সবাজারে অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট পাহাড়ধস ও বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে নারী ও শিশুসহ আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) পৃথক সময়ে জেলার পেকুয়া, রামু ও সদর উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে জেলায় সাম্প্রতিক দুর্যোগে মোট ২৫ জনের প্রাণহানি হলো।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন–রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের সাজিদুল ইসলাম (১৩), পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২১ মাস বয়সী শিশু মুশফিকুর রহিম এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের গৃহবধূ রোজিনা আক্তার (৩০)।
জানা যায়, বুধবার বিকেলে অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের সময় রামু উপজেলার ফুলেশ্বরী খালে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় কিশোর সাজিদুল। নিখোঁজের ৪ দিন পর শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঈদগাঁও উপজেলার গজালিয়া এলাকার ওই খালে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশের একটি দল গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
একই দিন রাতে পেকুয়া উপজেলার বলিরপাড়া এলাকায় বাড়ির উঠানে জমে থাকা বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় শিশু মুশফিকুর রহিম। সে ওই এলাকার প্রবাসী নাছির উদ্দিনের ছেলে। স্বজনেরা জানান, পরিবারের সবাই যখন রাতের খাবার খাচ্ছিলেন, তখন শিশুটি সবার অগোচরে উঠানে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায়। উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, শনিবার রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার সদরের ঝিরঝিরি পাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে রোজিনা আক্তার নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে রান্নাঘরে কাজ করার সময় হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়লে তিনি মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এবারের বন্যা ও পাহাড়ধসে জেলায় এ পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেই পাহাড়ধসে মারা গেছেন ১৮ জন। বাকি ৭ জন জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
\

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
কক্সবাজারে অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট পাহাড়ধস ও বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে নারী ও শিশুসহ আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) পৃথক সময়ে জেলার পেকুয়া, রামু ও সদর উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে জেলায় সাম্প্রতিক দুর্যোগে মোট ২৫ জনের প্রাণহানি হলো।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন–রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের সাজিদুল ইসলাম (১৩), পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২১ মাস বয়সী শিশু মুশফিকুর রহিম এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের গৃহবধূ রোজিনা আক্তার (৩০)।
জানা যায়, বুধবার বিকেলে অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের সময় রামু উপজেলার ফুলেশ্বরী খালে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় কিশোর সাজিদুল। নিখোঁজের ৪ দিন পর শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঈদগাঁও উপজেলার গজালিয়া এলাকার ওই খালে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশের একটি দল গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
একই দিন রাতে পেকুয়া উপজেলার বলিরপাড়া এলাকায় বাড়ির উঠানে জমে থাকা বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় শিশু মুশফিকুর রহিম। সে ওই এলাকার প্রবাসী নাছির উদ্দিনের ছেলে। স্বজনেরা জানান, পরিবারের সবাই যখন রাতের খাবার খাচ্ছিলেন, তখন শিশুটি সবার অগোচরে উঠানে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায়। উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, শনিবার রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার সদরের ঝিরঝিরি পাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে রোজিনা আক্তার নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে রান্নাঘরে কাজ করার সময় হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়লে তিনি মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এবারের বন্যা ও পাহাড়ধসে জেলায় এ পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেই পাহাড়ধসে মারা গেছেন ১৮ জন। বাকি ৭ জন জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
\

আপনার মতামত লিখুন