সংবাদ

নির্মাণের আগেই ধস গোয়ালন্দের গাইড ওয়ালে


প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

নির্মাণের আগেই ধস গোয়ালন্দের গাইড ওয়ালে
নির্মাণের কয়েক দিনের মধ্যেই ধসে পড়েছে গাইড ওয়াল। ছবি : সংবাদ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) আওতায় একটি সংযোগ সড়ক ও গাইড ওয়াল নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই গাইড ওয়ালের বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিয়েছে এবং সড়কের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার এই প্রকল্পে সিডিউল বহির্ভূতভাবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নতুনপাড়া এলাকায় পৌরসভার ময়লা ফেলার ডাম্পিং স্টেশনে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই কাজটি পায় ‘বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে স্থানীয়ভাবে রাজবাড়ীর সোবহান নামের এক ঠিকাদার কাজটি তদারকি করছেন। গত এপ্রিলে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো চলছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সরজমিনে দেখা যায়, মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই ঢালাই ও কার্পেটিংয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে গাইড ওয়ালের বেশ কিছু অংশ ধসে পড়েছে এবং ইটের গাঁথুনিতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আরসিসি পোস্ট ও ক্যাপিং বিম দেওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার নামমাত্র ইটের গাঁথুনি দিয়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ করছেন। কার্পেটিংয়ের আগে নিয়ম অনুযায়ী প্রাইম কোট না দিয়ে সামান্য ট্যাক কোট ব্যবহার করায় সড়ক থেকে পিচ উঠে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, "পুরো কাজই দুই নম্বর ও তিন নম্বর সামগ্রী দিয়ে করা হচ্ছে। খোয়া ও বালুর মিশ্রণ ঠিক নেই। প্রতিবাদ করলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভয় দেখানো হয়।" কয়েকজন নারী অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসে সতর্ক করে গেলেও ঠিকাদার কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না।

সিডিউল অনুযায়ী আরসিসি প্যালিসাইডিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদার সোবহান মুঠোফোনে বলেন, "বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলে সমস্যা নেই, ভেঙে গেলে আবার করে দেব। ইঞ্জিনিয়ার যেভাবে বলেছেন, সেভাবেই কাজ করছি।"

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সিডিউলের চেয়ে বেশি কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে গাইড ওয়াল নির্মাণের দূরত্ব কমিয়ে আনার কথা তিনি স্বীকার করেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, "বিষয়টি আমি জানি। এর আগে পরিদর্শনে গিয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


নির্মাণের আগেই ধস গোয়ালন্দের গাইড ওয়ালে

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) আওতায় একটি সংযোগ সড়ক ও গাইড ওয়াল নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই গাইড ওয়ালের বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিয়েছে এবং সড়কের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার এই প্রকল্পে সিডিউল বহির্ভূতভাবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নতুনপাড়া এলাকায় পৌরসভার ময়লা ফেলার ডাম্পিং স্টেশনে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই কাজটি পায় ‘বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে স্থানীয়ভাবে রাজবাড়ীর সোবহান নামের এক ঠিকাদার কাজটি তদারকি করছেন। গত এপ্রিলে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো চলছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সরজমিনে দেখা যায়, মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই ঢালাই ও কার্পেটিংয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে গাইড ওয়ালের বেশ কিছু অংশ ধসে পড়েছে এবং ইটের গাঁথুনিতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আরসিসি পোস্ট ও ক্যাপিং বিম দেওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার নামমাত্র ইটের গাঁথুনি দিয়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ করছেন। কার্পেটিংয়ের আগে নিয়ম অনুযায়ী প্রাইম কোট না দিয়ে সামান্য ট্যাক কোট ব্যবহার করায় সড়ক থেকে পিচ উঠে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, "পুরো কাজই দুই নম্বর ও তিন নম্বর সামগ্রী দিয়ে করা হচ্ছে। খোয়া ও বালুর মিশ্রণ ঠিক নেই। প্রতিবাদ করলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভয় দেখানো হয়।" কয়েকজন নারী অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসে সতর্ক করে গেলেও ঠিকাদার কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না।

সিডিউল অনুযায়ী আরসিসি প্যালিসাইডিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদার সোবহান মুঠোফোনে বলেন, "বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলে সমস্যা নেই, ভেঙে গেলে আবার করে দেব। ইঞ্জিনিয়ার যেভাবে বলেছেন, সেভাবেই কাজ করছি।"

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সিডিউলের চেয়ে বেশি কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে গাইড ওয়াল নির্মাণের দূরত্ব কমিয়ে আনার কথা তিনি স্বীকার করেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, "বিষয়টি আমি জানি। এর আগে পরিদর্শনে গিয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত