মঞ্চ প্রস্তুত। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের’ শিরোপার চূড়ান্ত ফয়সালা। বিশ্বজয়ের এক লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। চার বছর আগে কাতারে পাওয়া রাজমুকুট ধরে রাখার এই মিশনে আর্জেন্টিনার রণকৌশল অবশ্য অনেকটাই তৈরি।
তবে ট্রফি জয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামার আগে মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনির সম্ভাব্য একাদশে দুটি পজিশন নিয়ে এখনও রয়ে গেছে বড় ধোঁয়াশা, যা কোটি ভক্তের মনে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই স্কালোনি যেমনটা করে এসেছেন, ফাইনালের আগের দিনগুলোতেও তিনি দলের ছক নিয়ে তেমন কোনো আগাম আভাস দেননি। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচ এবং এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে, শুরুর একাদশে দুটি জায়গায় পরিবর্তন আসতে পারে। সবচেয়ে বড় সংশয় তৈরি হয়েছে রাইট-ব্যাক পজিশনে নাহুয়েল মোলিনা এবং গনজালো মন্টিয়েলকে নিয়ে।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের গোলটি মোলিনার দিক থেকেই আসায় ফাইনালের শুরুর একাদশে জায়গা করে নেওয়ার দৌড়ে মন্টিয়েলই এখন কিছুটা এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে, মাঝমাঠে জুলিয়ানো সিমেওনের জায়গায় নিজের চেনা পজিশন ফিরে পেতে লড়াই করছেন দলের ছোট ইঞ্জিন খ্যাত রদ্রিগো দে পল। শেষ মুহূর্তের অনুশীলনে জিওভানি লো চেলসোকে পরখ করা হলেও তার বদলি হিসেবে নামার সম্ভাবনাই বেশি।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে ওঠা আর্জেন্টিনার এই দলটা কিন্তু কাগজে-কলমে খুব একটা ভারসাম্যপূর্ণ ছিল না। ২০২৫-২৬ ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ত মৌসুমে আর্জেন্টিনার কোনো প্লেয়ারই ইউরোপের শীর্ষ ট্রফিজয়ী দলগুলোতে ছিলেন না। কিলিয়ান এমবাপে বা হ্যারি কেইনদের মতো মহাতারকাদের ভিড়ে আর্জেন্টিনার অধিকাংশ খেলোয়াড়ই ভুগেছেন ফর্মহীনতা আর চোটে।
অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়েও ছিল চরম অনিশ্চয়তা। তাও সব অসম্ভবকে সম্ভব করে আর্জেন্টিনা আজ ফাইনালে। কারণ আলবিসেলেস্তাদের আসল শক্তি তাদের ব্যক্তিগত স্কিল নয়; তাদের আসল শক্তি হলো, টিম স্পিরিট, অবিশ্বাস্য বন্ডিং এবং দেশের প্রতি সর্বোচ্চ পর্যায়ের ডেডিকেশন।
ফরাসি বা পর্তুগিজ স্কোয়াডের গভীরতা আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো হলেও তারা মাঠের কম্বিনেশনের অভাবে বিদায় নিয়েছে। বিপরীতে, প্রতিপক্ষ যখন মেসিকে ফাউল করে, তখন পুরো দলের আগ্রাসী বডি ল্যাঙ্গুয়েজ প্রমাণ করে তাদের একতা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও যেভাবে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতেছিল, কিংবা মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে ছাই থেকে জেগে উঠেছিল, তা কোনো রণকৌশল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর একমাত্র ব্যাখ্যা হলো খেলোয়াড়দের মানসিক জেদ এবং দেশের জন্য জীবন দেওয়ার আকুতি। সেমিফাইনালে যখন আর্জেন্টিনার জাতীয় সংগীত বাজছিল, হুলিয়ান আলভারেজ-লাউতারো মার্তিনেজদের মুখের অভিব্যক্তি দেখে মনে হচ্ছিল একঝাঁক ক্ষুধার্ত যোদ্ধা দেশের জন্য রক্ত দিতে মাঠে নেমেছেন।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের বুটের প্রত্যেকটা স্পর্শে আজ মর্যাদার জন্যই লড়াই করবেন মেসিরা। বিশ্বজয়ের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; গনজালো মন্টিয়েল বা নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; জুলিয়ানো সিমেওনে বা রদ্রিগো দে পল, এনজো ফের্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার; লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজ।

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
মঞ্চ প্রস্তুত। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের’ শিরোপার চূড়ান্ত ফয়সালা। বিশ্বজয়ের এক লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। চার বছর আগে কাতারে পাওয়া রাজমুকুট ধরে রাখার এই মিশনে আর্জেন্টিনার রণকৌশল অবশ্য অনেকটাই তৈরি।
তবে ট্রফি জয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামার আগে মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনির সম্ভাব্য একাদশে দুটি পজিশন নিয়ে এখনও রয়ে গেছে বড় ধোঁয়াশা, যা কোটি ভক্তের মনে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই স্কালোনি যেমনটা করে এসেছেন, ফাইনালের আগের দিনগুলোতেও তিনি দলের ছক নিয়ে তেমন কোনো আগাম আভাস দেননি। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচ এবং এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে, শুরুর একাদশে দুটি জায়গায় পরিবর্তন আসতে পারে। সবচেয়ে বড় সংশয় তৈরি হয়েছে রাইট-ব্যাক পজিশনে নাহুয়েল মোলিনা এবং গনজালো মন্টিয়েলকে নিয়ে।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের গোলটি মোলিনার দিক থেকেই আসায় ফাইনালের শুরুর একাদশে জায়গা করে নেওয়ার দৌড়ে মন্টিয়েলই এখন কিছুটা এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে, মাঝমাঠে জুলিয়ানো সিমেওনের জায়গায় নিজের চেনা পজিশন ফিরে পেতে লড়াই করছেন দলের ছোট ইঞ্জিন খ্যাত রদ্রিগো দে পল। শেষ মুহূর্তের অনুশীলনে জিওভানি লো চেলসোকে পরখ করা হলেও তার বদলি হিসেবে নামার সম্ভাবনাই বেশি।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে ওঠা আর্জেন্টিনার এই দলটা কিন্তু কাগজে-কলমে খুব একটা ভারসাম্যপূর্ণ ছিল না। ২০২৫-২৬ ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ত মৌসুমে আর্জেন্টিনার কোনো প্লেয়ারই ইউরোপের শীর্ষ ট্রফিজয়ী দলগুলোতে ছিলেন না। কিলিয়ান এমবাপে বা হ্যারি কেইনদের মতো মহাতারকাদের ভিড়ে আর্জেন্টিনার অধিকাংশ খেলোয়াড়ই ভুগেছেন ফর্মহীনতা আর চোটে।
অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়েও ছিল চরম অনিশ্চয়তা। তাও সব অসম্ভবকে সম্ভব করে আর্জেন্টিনা আজ ফাইনালে। কারণ আলবিসেলেস্তাদের আসল শক্তি তাদের ব্যক্তিগত স্কিল নয়; তাদের আসল শক্তি হলো, টিম স্পিরিট, অবিশ্বাস্য বন্ডিং এবং দেশের প্রতি সর্বোচ্চ পর্যায়ের ডেডিকেশন।
ফরাসি বা পর্তুগিজ স্কোয়াডের গভীরতা আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো হলেও তারা মাঠের কম্বিনেশনের অভাবে বিদায় নিয়েছে। বিপরীতে, প্রতিপক্ষ যখন মেসিকে ফাউল করে, তখন পুরো দলের আগ্রাসী বডি ল্যাঙ্গুয়েজ প্রমাণ করে তাদের একতা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও যেভাবে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতেছিল, কিংবা মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে ছাই থেকে জেগে উঠেছিল, তা কোনো রণকৌশল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর একমাত্র ব্যাখ্যা হলো খেলোয়াড়দের মানসিক জেদ এবং দেশের জন্য জীবন দেওয়ার আকুতি। সেমিফাইনালে যখন আর্জেন্টিনার জাতীয় সংগীত বাজছিল, হুলিয়ান আলভারেজ-লাউতারো মার্তিনেজদের মুখের অভিব্যক্তি দেখে মনে হচ্ছিল একঝাঁক ক্ষুধার্ত যোদ্ধা দেশের জন্য রক্ত দিতে মাঠে নেমেছেন।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের বুটের প্রত্যেকটা স্পর্শে আজ মর্যাদার জন্যই লড়াই করবেন মেসিরা। বিশ্বজয়ের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; গনজালো মন্টিয়েল বা নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; জুলিয়ানো সিমেওনে বা রদ্রিগো দে পল, এনজো ফের্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার; লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজ।

আপনার মতামত লিখুন