সংবাদ

‘আমলাতন্ত্রের কাছে সরকারের আত্মসমর্পণ’ দেখছে টিআইবি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম

‘আমলাতন্ত্রের কাছে সরকারের আত্মসমর্পণ’ দেখছে টিআইবি
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৫০ হাজার টাকা বহাল রাখার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি মনে করছে, বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত একশ্রেণির আমলার অন্যায্য প্রভাবের কাছে সরকার নতি স্বীকার করেছে, যা প্রকারান্তরে আমলাতন্ত্রের কাছে সরকারের ‘অসহায় আত্মসমর্পণের’ বহিঃপ্রকাশ।

রোববার (১৯ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি এসব কথা বলে। বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোন শক্তির প্রভাব কাজ করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং জনগণের অর্থের অপচয় কমাতে সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৫০ হাজার থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে এই সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বাতিলের নীতিগত অবস্থানও ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু সংকীর্ণ স্বার্থে সুবিধাভোগীদের প্রভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সেই সিদ্ধান্ত এখন অকার্যকর হতে যাচ্ছে।

ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, ‘কোন শক্তির প্রভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ব্যয়-কৃচ্ছতার এই নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হচ্ছে? তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি ওই কর্মকর্তাদের সুবিধাবাদী মনস্তত্ত্ব অনুধাবন করা সরকারের জন্য জরুরি।’

টিআইবি উল্লেখ করেছে, শুধু সিভিল সার্ভিসের নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাই নন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারাও এই সুবিধা পেয়ে আসছেন। তবে শুরু থেকেই তথাকথিত প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যে শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে, তা চরম বৈষম্যমূলক। মাত্র ২ হাজার ৪০০ কর্মকর্তার জন্য এই বিশেষ সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে, যা একই ক্যাডার ও সমমর্যাদার অন্য কর্মকর্তাদের জন্য গ্লানিকর। এর ফলে সরকারি চাকরিতে আন্তক্যাডার ভারসাম্য যেমন ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তেমনি কর্মকর্তাদের মধ্যে নির্দিষ্ট পদের জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নিজে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার ও জ্বালানি ব্যয় বহনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও সুবিধাভোগী আমলারা তা থেকে কোনো শিক্ষা নেননি। দেশের চলমান আর্থিক সংকটের মধ্যে একশ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার অসন্তোষের মুখে সরকারের পিছু হটা কোনো স্বাভাবিক দাবি পূরণ নয়। বরং এটি রাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানের বিচ্যুতি।

টিআইবি বলছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় সরকার ইতিমধ্যে সরকারি কর্মচারীদের নিঃশর্ত বেতন বৃদ্ধি করেছে। অথচ কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের যে সুপারিশ টিআইবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে, তা এখনো গ্রহণ করা হয়নি। ফলে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পর জনগণ কতটা দুর্নীতিমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবেন, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে।

টিআইবি আহ্বান জানিয়ে বলছে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জনগণের অর্থের অপচয় রোধে এবং সরকারি চাকরিতে বৈষম্য দূর করতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আগের সিদ্ধান্তেই অটল থাকা উচিত। একশ্রেণির আমলার অন্যায্য প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে সুশাসনের পরিচায়ক। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


‘আমলাতন্ত্রের কাছে সরকারের আত্মসমর্পণ’ দেখছে টিআইবি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৫০ হাজার টাকা বহাল রাখার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি মনে করছে, বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত একশ্রেণির আমলার অন্যায্য প্রভাবের কাছে সরকার নতি স্বীকার করেছে, যা প্রকারান্তরে আমলাতন্ত্রের কাছে সরকারের ‘অসহায় আত্মসমর্পণের’ বহিঃপ্রকাশ।

রোববার (১৯ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি এসব কথা বলে। বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোন শক্তির প্রভাব কাজ করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং জনগণের অর্থের অপচয় কমাতে সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৫০ হাজার থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে এই সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বাতিলের নীতিগত অবস্থানও ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু সংকীর্ণ স্বার্থে সুবিধাভোগীদের প্রভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সেই সিদ্ধান্ত এখন অকার্যকর হতে যাচ্ছে।

ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, ‘কোন শক্তির প্রভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ব্যয়-কৃচ্ছতার এই নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হচ্ছে? তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি ওই কর্মকর্তাদের সুবিধাবাদী মনস্তত্ত্ব অনুধাবন করা সরকারের জন্য জরুরি।’

টিআইবি উল্লেখ করেছে, শুধু সিভিল সার্ভিসের নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাই নন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারাও এই সুবিধা পেয়ে আসছেন। তবে শুরু থেকেই তথাকথিত প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যে শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে, তা চরম বৈষম্যমূলক। মাত্র ২ হাজার ৪০০ কর্মকর্তার জন্য এই বিশেষ সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে, যা একই ক্যাডার ও সমমর্যাদার অন্য কর্মকর্তাদের জন্য গ্লানিকর। এর ফলে সরকারি চাকরিতে আন্তক্যাডার ভারসাম্য যেমন ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তেমনি কর্মকর্তাদের মধ্যে নির্দিষ্ট পদের জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নিজে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার ও জ্বালানি ব্যয় বহনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও সুবিধাভোগী আমলারা তা থেকে কোনো শিক্ষা নেননি। দেশের চলমান আর্থিক সংকটের মধ্যে একশ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার অসন্তোষের মুখে সরকারের পিছু হটা কোনো স্বাভাবিক দাবি পূরণ নয়। বরং এটি রাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানের বিচ্যুতি।

টিআইবি বলছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় সরকার ইতিমধ্যে সরকারি কর্মচারীদের নিঃশর্ত বেতন বৃদ্ধি করেছে। অথচ কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের যে সুপারিশ টিআইবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে, তা এখনো গ্রহণ করা হয়নি। ফলে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পর জনগণ কতটা দুর্নীতিমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবেন, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে।

টিআইবি আহ্বান জানিয়ে বলছে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জনগণের অর্থের অপচয় রোধে এবং সরকারি চাকরিতে বৈষম্য দূর করতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আগের সিদ্ধান্তেই অটল থাকা উচিত। একশ্রেণির আমলার অন্যায্য প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে সুশাসনের পরিচায়ক। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত