সংবাদ

ত্রয়োদশ সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার একচ্ছত্র অপব্যবহার হচ্ছে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:৫২ এএম

ত্রয়োদশ সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার একচ্ছত্র অপব্যবহার হচ্ছে

​ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালী বিধি ও প্রচলিত সংসদীয় চর্চা লঙ্ঘন করে সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার একচ্ছত্র ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ তুলে ধরে সংস্থাটি সংসদীয় কমিটিগুলোর ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।
​বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭ বিধি অনুযায়ী কোনো মন্ত্রী বিল উত্থাপনের পর সেটি স্থায়ী কমিটি বা বাছাই কমিটিতে পাঠানো কিংবা জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রচারের আহ্বান জানাতে পারেন।
তবে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর ক্ষেত্রে এর কোনোটিই করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটি জনমত যাচাই বা বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবও আমলে নেওয়া হয়নি এবং সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।"
এছাড়া বিল উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে অনুলিপি দেওয়ার প্রচলিত রেওয়াজ থাকলেও এই বিলের কপি উত্থাপনের ঠিক আগমুহূর্তে বিতরণ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
​ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে সংসদে উত্থাপন করা হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, "এভাবে একতরফাভাবে বিল পাসের প্রক্রিয়া আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও সংসদীয় বিধি লঙ্ঘনের শামিল এবং এতে প্রশ্ন উঠেছে, কর্তৃত্ববাদী আমলের সংসদের সঙ্গে বর্তমান সংসদের পার্থক্য কোথায়।"
​সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন নিয়ে আপত্তির বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
একজন মন্ত্রিসভার সদস্য অন্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে তদারকি ও জবাবদিহির আওতায় আনতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নব্বই-পরবর্তী কোনো সংসদে স্থায়ী কমিটি গঠনে এ ধরনের চর্চা দেখা যায়নি।
এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী ২৬ শতাংশ কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


ত্রয়োদশ সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার একচ্ছত্র অপব্যবহার হচ্ছে

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

​ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালী বিধি ও প্রচলিত সংসদীয় চর্চা লঙ্ঘন করে সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার একচ্ছত্র ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ তুলে ধরে সংস্থাটি সংসদীয় কমিটিগুলোর ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।
​বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭ বিধি অনুযায়ী কোনো মন্ত্রী বিল উত্থাপনের পর সেটি স্থায়ী কমিটি বা বাছাই কমিটিতে পাঠানো কিংবা জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রচারের আহ্বান জানাতে পারেন।
তবে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর ক্ষেত্রে এর কোনোটিই করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটি জনমত যাচাই বা বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবও আমলে নেওয়া হয়নি এবং সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।"
এছাড়া বিল উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে অনুলিপি দেওয়ার প্রচলিত রেওয়াজ থাকলেও এই বিলের কপি উত্থাপনের ঠিক আগমুহূর্তে বিতরণ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
​ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে সংসদে উত্থাপন করা হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, "এভাবে একতরফাভাবে বিল পাসের প্রক্রিয়া আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও সংসদীয় বিধি লঙ্ঘনের শামিল এবং এতে প্রশ্ন উঠেছে, কর্তৃত্ববাদী আমলের সংসদের সঙ্গে বর্তমান সংসদের পার্থক্য কোথায়।"
​সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন নিয়ে আপত্তির বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
একজন মন্ত্রিসভার সদস্য অন্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে তদারকি ও জবাবদিহির আওতায় আনতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নব্বই-পরবর্তী কোনো সংসদে স্থায়ী কমিটি গঠনে এ ধরনের চর্চা দেখা যায়নি।
এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী ২৬ শতাংশ কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত