সংবাদ

জামায়াতের উত্থান দেশের জন্য নতুন সংকট: নুর


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২০ পিএম

জামায়াতের উত্থান দেশের জন্য নতুন সংকট: নুর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তঝরা দিনগুলো পেরিয়ে এলেও এখনো কাটেনি ষড়যন্ত্রের কুয়াশা। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সেই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের শেষ মূহূর্তে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল কিছু বিদেশি শক্তি ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থা। ছাত্র-জনতার ত্যাগ আর আকুলতাকে পুঁজি করে তারা আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চেয়েছিল। শুধু তাই নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত এক বিশেষ রাজনৈতিক বলয়, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যতের জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানী জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এমন সব ‘বিস্ফোরক’ দাবি করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপি, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলসমূহ এবং ছাত্র-জনতার সম্মিলিত ত্যাগের ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থান সফল হয়েছিল। তবে এর পেছনে থাকা আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কথা স্মরণ করে নুরুল হক নুর বলেন, "আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে কিছু বিদেশি শক্তি এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আন্দোলনের সময় বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে আমাকে নানান ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।"

কিন্তু তিনি সেই সব প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপরই গুরুত্বারোপ করেছিলেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পর্দার আড়ালের আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পারেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আমি জানতে পারি, আন্দোলনের শেষ কয়েক দিনে একটি বিদেশি মহল ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিছু শিক্ষার্থীকে দূতাবাসে রেখেও যোগাযোগ করা হয়েছিল।"

পরবর্তীতে এই বিদেশি পক্ষগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং ছাত্রদের ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের লোকজনকে নিয়োগ দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নুরুল হক নুর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে জনমত তৈরি করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, "দেশের স্বার্থে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে জামায়াতের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। আজ তারা বাইরে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে, কিন্তু ভেতরে ইতিবাচক আলোচনা করছে। বাইরে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করছে, যার ফলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত যেমন: পুলিশ প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়, জ্বালানি খাত ও বিসিএস ক্যাডারে ছাত্রদের ঢাল বানিয়ে জামায়াতপন্থিদের পদায়ন করা হয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু তরুণ রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ার আগেই জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে যা বিকল্প শক্তি গড়ে ওঠার পথে অন্তরায়। জামায়াতকে সামনে রেখে দেশে উগ্রবাদের একটি বয়ান তৈরি করে ভবিষ্যতে নতুন সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

নুরুল হক নুর তার বক্তব্যে সাফ জানিয়ে দেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অতীত অধ্যায় মাত্র, তাদের কোনো বর্তমান বা ভবিষ্যৎ নেই। তাদের যে কোনো তৎপরতা বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই সাথে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিএনপির নেতৃত্বের ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা এবং প্রবাসী কার্ড চালুর মতো উদ্যোগের অগ্রগতি তিনি নিয়মিত তদারকি করছেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে স্থিতিশীল রাখতে বিএনপির বিকল্প নেই।"

সরকারকে ব্যর্থ করার সস্তা রাজনীতি বর্জন করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, তাই যেকোনো বিদেশি প্রভাব ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


জামায়াতের উত্থান দেশের জন্য নতুন সংকট: নুর

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তঝরা দিনগুলো পেরিয়ে এলেও এখনো কাটেনি ষড়যন্ত্রের কুয়াশা। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সেই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের শেষ মূহূর্তে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল কিছু বিদেশি শক্তি ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থা। ছাত্র-জনতার ত্যাগ আর আকুলতাকে পুঁজি করে তারা আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চেয়েছিল। শুধু তাই নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত এক বিশেষ রাজনৈতিক বলয়, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যতের জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানী জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এমন সব ‘বিস্ফোরক’ দাবি করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপি, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলসমূহ এবং ছাত্র-জনতার সম্মিলিত ত্যাগের ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থান সফল হয়েছিল। তবে এর পেছনে থাকা আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কথা স্মরণ করে নুরুল হক নুর বলেন, "আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে কিছু বিদেশি শক্তি এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আন্দোলনের সময় বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে আমাকে নানান ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।"

কিন্তু তিনি সেই সব প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপরই গুরুত্বারোপ করেছিলেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পর্দার আড়ালের আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পারেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আমি জানতে পারি, আন্দোলনের শেষ কয়েক দিনে একটি বিদেশি মহল ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিছু শিক্ষার্থীকে দূতাবাসে রেখেও যোগাযোগ করা হয়েছিল।"

পরবর্তীতে এই বিদেশি পক্ষগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং ছাত্রদের ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের লোকজনকে নিয়োগ দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নুরুল হক নুর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে জনমত তৈরি করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, "দেশের স্বার্থে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে জামায়াতের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। আজ তারা বাইরে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে, কিন্তু ভেতরে ইতিবাচক আলোচনা করছে। বাইরে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করছে, যার ফলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত যেমন: পুলিশ প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়, জ্বালানি খাত ও বিসিএস ক্যাডারে ছাত্রদের ঢাল বানিয়ে জামায়াতপন্থিদের পদায়ন করা হয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু তরুণ রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ার আগেই জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে যা বিকল্প শক্তি গড়ে ওঠার পথে অন্তরায়। জামায়াতকে সামনে রেখে দেশে উগ্রবাদের একটি বয়ান তৈরি করে ভবিষ্যতে নতুন সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

নুরুল হক নুর তার বক্তব্যে সাফ জানিয়ে দেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অতীত অধ্যায় মাত্র, তাদের কোনো বর্তমান বা ভবিষ্যৎ নেই। তাদের যে কোনো তৎপরতা বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই সাথে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিএনপির নেতৃত্বের ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা এবং প্রবাসী কার্ড চালুর মতো উদ্যোগের অগ্রগতি তিনি নিয়মিত তদারকি করছেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে স্থিতিশীল রাখতে বিএনপির বিকল্প নেই।"

সরকারকে ব্যর্থ করার সস্তা রাজনীতি বর্জন করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, তাই যেকোনো বিদেশি প্রভাব ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত