সংবাদ

‘সরকার ব্যর্থ হলে লাভ হবে দিল্লির আশ্রিত হাসিনার’

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে যা বললেন ইশরাক


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ পিএম

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে যা বললেন ইশরাক

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি কোনোভাবে ব্যর্থ হয়, তবে তার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হবে পরাজিত ফ্যাসিবাদের দোসররা।

রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, যেকোনো মূল্যে এই অর্জিত স্বাধীনতাকে ধরে রাখতে হবে।

সভায় নিজের বক্তব্যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইশরাক হোসেন বলেন, "বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে দিল্লিতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনা এবং তাকে আশ্রয় দেওয়া আধিপত্যবাদী শক্তি সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। সে কারণে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে হবে।"

তিনি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান। ক্ষমতার মোহ যেন চব্বিশের ছাত্র-জনতার মহৎ অর্জনকে ম্লান করে না দেয়, সেই তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "ক্ষমতার লোভে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না, যেন দেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে। গণতন্ত্র হুমকিতে পড়লে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে পড়বে।"

ফ্যাসিবাদের পতন হলেও তাদের ষড়যন্ত্রের জাল যে এখনো ছিন্ন হয়নি, সেই বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী হুংকার ছেড়ে বলেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, গণঅধিকার পরিষদসহ সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র-জনতা যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে দাঁড়াবে এবং কঠোর জবাব দেবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় political মতভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।"

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পেছনের মূল শক্তিকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ইশরাক হোসেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে এর এক অবিচ্ছেদ্য যোগসূত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল শক্তি ছিল দলীয় পরিচয় ও বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে এক দফার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতাতেই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।"

একই সাথে তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী আচরণের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "১৯৭১ সালে পাকিস্তান যেমন বাংলাদেশকে দাসত্বে রাখতে চেয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালে ভারতের আধিপত্যবাদী শক্তিও বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছিল এবং সেটি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম একটি উপাদান ছিল।"

আলোচনা সভায় উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারাও প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে দেশকে আর কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যেতে দেওয়া যাবে না। সব বিভেদ ভুলে দেশ গড়ার কাজে ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় এই সভা থেকে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে যা বললেন ইশরাক

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি কোনোভাবে ব্যর্থ হয়, তবে তার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হবে পরাজিত ফ্যাসিবাদের দোসররা।

রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, যেকোনো মূল্যে এই অর্জিত স্বাধীনতাকে ধরে রাখতে হবে।

সভায় নিজের বক্তব্যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইশরাক হোসেন বলেন, "বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে দিল্লিতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনা এবং তাকে আশ্রয় দেওয়া আধিপত্যবাদী শক্তি সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। সে কারণে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে হবে।"

তিনি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান। ক্ষমতার মোহ যেন চব্বিশের ছাত্র-জনতার মহৎ অর্জনকে ম্লান করে না দেয়, সেই তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "ক্ষমতার লোভে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না, যেন দেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে। গণতন্ত্র হুমকিতে পড়লে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে পড়বে।"

ফ্যাসিবাদের পতন হলেও তাদের ষড়যন্ত্রের জাল যে এখনো ছিন্ন হয়নি, সেই বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী হুংকার ছেড়ে বলেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, গণঅধিকার পরিষদসহ সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র-জনতা যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে দাঁড়াবে এবং কঠোর জবাব দেবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় political মতভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।"

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পেছনের মূল শক্তিকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ইশরাক হোসেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে এর এক অবিচ্ছেদ্য যোগসূত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল শক্তি ছিল দলীয় পরিচয় ও বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে এক দফার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতাতেই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।"

একই সাথে তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী আচরণের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "১৯৭১ সালে পাকিস্তান যেমন বাংলাদেশকে দাসত্বে রাখতে চেয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালে ভারতের আধিপত্যবাদী শক্তিও বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছিল এবং সেটি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম একটি উপাদান ছিল।"

আলোচনা সভায় উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারাও প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে দেশকে আর কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যেতে দেওয়া যাবে না। সব বিভেদ ভুলে দেশ গড়ার কাজে ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় এই সভা থেকে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত