সংবাদ

সৌদিকে পরমাণু প্রযুক্তি না ‘অস্ত্র’ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

সৌদিকে পরমাণু প্রযুক্তি না ‘অস্ত্র’ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র একই অঞ্চলের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দিতে যাচ্ছে।

বুধবার (২২ জুলাই) একটি ঐতিহাসিক চুক্তি ঘোষণা করতে পারে ওয়াশিংটন। কিন্তু কেন ইরানকে বাধা দিয়ে সৌদিকে পরমাণু প্রযুক্তি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

মঙ্গলবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এই চুক্তি সই হলে সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্জন করবে, যা এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র কয়েকটি দেশেরই আছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একাধিক কৌশলগত কারণ।

যুক্তরাষ্ট্র চায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হোক। এই পরমাণু চুক্তি ও প্রতিরক্ষা চুক্তি সৌদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি করানোর অন্যতম শর্ত। এর বিনিময়ে সৌদি আরবকে পারমাণবিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন পারমাণবিক শিল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আইসোলেট করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব বাড়াতে সৌদি আরবকে ঘনিষ্ঠ করতে চায়। সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক জোট তৈরি হবে।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের প্রতিবেশী ও প্রতিদ্বন্দ্বী সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করেছিল। বর্তমানে আরব বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘বারাকাহ’ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত। তবে আমিরাতের এখনো নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ উদ্যোগ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচিতে রূপ নিতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটি সম্পূর্ণ বেসামরিক কর্মসূচি।

এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। ইরানকে বাদ দিয়ে সৌদি আরবকে পরমাণু প্রযুক্তি দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক শক্তি ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


সৌদিকে পরমাণু প্রযুক্তি না ‘অস্ত্র’ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র একই অঞ্চলের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দিতে যাচ্ছে।

বুধবার (২২ জুলাই) একটি ঐতিহাসিক চুক্তি ঘোষণা করতে পারে ওয়াশিংটন। কিন্তু কেন ইরানকে বাধা দিয়ে সৌদিকে পরমাণু প্রযুক্তি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

মঙ্গলবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এই চুক্তি সই হলে সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্জন করবে, যা এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র কয়েকটি দেশেরই আছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একাধিক কৌশলগত কারণ।

যুক্তরাষ্ট্র চায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হোক। এই পরমাণু চুক্তি ও প্রতিরক্ষা চুক্তি সৌদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি করানোর অন্যতম শর্ত। এর বিনিময়ে সৌদি আরবকে পারমাণবিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন পারমাণবিক শিল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আইসোলেট করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব বাড়াতে সৌদি আরবকে ঘনিষ্ঠ করতে চায়। সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক জোট তৈরি হবে।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের প্রতিবেশী ও প্রতিদ্বন্দ্বী সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করেছিল। বর্তমানে আরব বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘বারাকাহ’ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত। তবে আমিরাতের এখনো নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ উদ্যোগ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচিতে রূপ নিতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটি সম্পূর্ণ বেসামরিক কর্মসূচি।

এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। ইরানকে বাদ দিয়ে সৌদি আরবকে পরমাণু প্রযুক্তি দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক শক্তি ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত