সংবাদ

বর্ষায় চলাচলের অনুপযোগী ৫ গ্রামের একমাত্র সড়ক


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

বর্ষায় চলাচলের অনুপযোগী ৫ গ্রামের একমাত্র সড়ক
আশাশুনিতে ১২ কিলোমিটার কাঁচা সড়কে হাঁটু সমান কাদা। ছবিঃ সংবাদ

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নে প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা সড়ক সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় ৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।

উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বাঁশতলা ব্রিজ থেকে ঘোলা খেয়াঘাট ও ওয়াবদা হয়ে কাকড়াবুনিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি পিচ্ছিল ও কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, ফলে যান চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, এই সড়কের আশপাশে ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি ফাজিল মাদ্রাসা, ৮টি মসজিদ ও ৩টি খেয়াঘাট রয়েছে। এছাড়া এলাকার অর্থনীতির প্রধান উৎস ৫০ থেকে ৬০টি মুরগির খামার ও কৃষিপণ্য পরিবহনে এই সড়কটিই একমাত্র ভরসা। রাস্তার বেহাল দশার কারণে খামারি ও কৃষকেরা পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় শিক্ষার্থী নাফিজ ও রাজিয়া জানায়, কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে প্রায়ই তাদের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। দুর্ঘটনার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী বর্ষায় বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, “বর্ষাকালে লাঠি ছাড়া এই রাস্তায় হাঁটা যায় না। প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের অবস্থা আরও শোচনীয়।” আরেক বাসিন্দা ফরিদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাগজে-কলমে উন্নয়নের কথা বলা হলেও ইউনিয়নের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা রয়ে গেছে।

শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দীপঙ্কর বাছাড় (দিপু) বলেন, সড়কটি পাকাকরণ করা হলে হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। তবে পরিষদের কাছে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় সরকারি বরাদ্দ ছাড়া এটি করা সম্ভব নয়।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, “সড়কটির বেহাল দশার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। জনভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


বর্ষায় চলাচলের অনুপযোগী ৫ গ্রামের একমাত্র সড়ক

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নে প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা সড়ক সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় ৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।

উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বাঁশতলা ব্রিজ থেকে ঘোলা খেয়াঘাট ও ওয়াবদা হয়ে কাকড়াবুনিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি পিচ্ছিল ও কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, ফলে যান চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, এই সড়কের আশপাশে ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি ফাজিল মাদ্রাসা, ৮টি মসজিদ ও ৩টি খেয়াঘাট রয়েছে। এছাড়া এলাকার অর্থনীতির প্রধান উৎস ৫০ থেকে ৬০টি মুরগির খামার ও কৃষিপণ্য পরিবহনে এই সড়কটিই একমাত্র ভরসা। রাস্তার বেহাল দশার কারণে খামারি ও কৃষকেরা পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় শিক্ষার্থী নাফিজ ও রাজিয়া জানায়, কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে প্রায়ই তাদের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। দুর্ঘটনার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী বর্ষায় বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, “বর্ষাকালে লাঠি ছাড়া এই রাস্তায় হাঁটা যায় না। প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের অবস্থা আরও শোচনীয়।” আরেক বাসিন্দা ফরিদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাগজে-কলমে উন্নয়নের কথা বলা হলেও ইউনিয়নের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা রয়ে গেছে।

শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দীপঙ্কর বাছাড় (দিপু) বলেন, সড়কটি পাকাকরণ করা হলে হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। তবে পরিষদের কাছে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় সরকারি বরাদ্দ ছাড়া এটি করা সম্ভব নয়।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, “সড়কটির বেহাল দশার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। জনভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত