রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিকেল ৪টার দিকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ এবং ‘গুরুতর অসুস্থতা’ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপরই স্পিকার সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে, অসুস্থতা বা অনুপস্থিতির কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সংসদীয় পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির পরেই স্পিকারের অবস্থান। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির চেয়েও প্রটোকলে স্পিকারের স্থান ওপরে। সংবিধানের ৭৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে গেলেও পরবর্তী স্পিকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বর্তমান স্পিকার স্বপদে বহাল থাকেন।
চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রোববার ফেরার কথা থাকলেও রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরে তিনি দুই দিন আগেই দেশে ফেরেন।
শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিকেল ৫টায় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশে সর্বশেষ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রয়াত জমির উদ্দিন সরকার। ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তিনি ২১ জুন ২০০২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত ৭৮ দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
শুক্রবার বিকেলে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেন ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতার পাশাপাশি অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগে আক্রান্ত তিনি, যা তাকে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ করে তুলেছে। তার পদত্যাগের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিকেল ৪টার দিকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ এবং ‘গুরুতর অসুস্থতা’ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপরই স্পিকার সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে, অসুস্থতা বা অনুপস্থিতির কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সংসদীয় পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির পরেই স্পিকারের অবস্থান। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির চেয়েও প্রটোকলে স্পিকারের স্থান ওপরে। সংবিধানের ৭৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে গেলেও পরবর্তী স্পিকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বর্তমান স্পিকার স্বপদে বহাল থাকেন।
চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রোববার ফেরার কথা থাকলেও রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরে তিনি দুই দিন আগেই দেশে ফেরেন।
শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিকেল ৫টায় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশে সর্বশেষ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রয়াত জমির উদ্দিন সরকার। ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তিনি ২১ জুন ২০০২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত ৭৮ দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
শুক্রবার বিকেলে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেন ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতার পাশাপাশি অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগে আক্রান্ত তিনি, যা তাকে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ করে তুলেছে। তার পদত্যাগের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আপনার মতামত লিখুন