গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট ও ব্রিজের মুখ বন্ধ করে বসতবাড়ি ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় সর্বত্র তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, পুকুর, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন তিস্তার চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় অন্তত দেড় শতাধিক কালভার্ট ও ব্রিজের মুখ বন্ধ করে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না। পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল না থাকায় বিভিন্ন মহল্লার সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গ্রামগঞ্জের কাঁচা সড়কগুলো কর্দমাক্ত ও নিমজ্জিত হওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
শান্তিরাম ইউনিয়নের সমাজসেবক ছামিউল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তাগুলো নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়। বিশেষ করে ফোরকানিয়া থেকে ক্ষুদিরাম এবং ভাটিয়াপাড়ার মোড় থেকে ঝিনিয়া সড়ক এখন পানির নিচে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতে পারছে না।’
চণ্ডিপুর ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সফিকুল ইসলাম রাজা বলেন, ‘কেবল জনপ্রতিনিধি নয়, সাধারণ মানুষেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কালভার্টের মুখ বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণের কারণেই আজ হাজারো মানুষকে ভুগতে হচ্ছে।’
হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহারুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা ডুবে বহু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘এটি বন্যা নয়, জলাবদ্ধতা। চেয়ারম্যানদের পানিবন্দী পরিবারের তালিকা করতে বলা হয়েছে।’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘কালভার্টের মুখ বন্ধ করার কারণেই মূলত এই জলাবদ্ধতা। এই সংকট নিরসনে সবার সচেতনতা ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট ও ব্রিজের মুখ বন্ধ করে বসতবাড়ি ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় সর্বত্র তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, পুকুর, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন তিস্তার চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় অন্তত দেড় শতাধিক কালভার্ট ও ব্রিজের মুখ বন্ধ করে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না। পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল না থাকায় বিভিন্ন মহল্লার সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গ্রামগঞ্জের কাঁচা সড়কগুলো কর্দমাক্ত ও নিমজ্জিত হওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
শান্তিরাম ইউনিয়নের সমাজসেবক ছামিউল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তাগুলো নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়। বিশেষ করে ফোরকানিয়া থেকে ক্ষুদিরাম এবং ভাটিয়াপাড়ার মোড় থেকে ঝিনিয়া সড়ক এখন পানির নিচে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতে পারছে না।’
চণ্ডিপুর ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সফিকুল ইসলাম রাজা বলেন, ‘কেবল জনপ্রতিনিধি নয়, সাধারণ মানুষেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কালভার্টের মুখ বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণের কারণেই আজ হাজারো মানুষকে ভুগতে হচ্ছে।’
হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহারুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা ডুবে বহু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘এটি বন্যা নয়, জলাবদ্ধতা। চেয়ারম্যানদের পানিবন্দী পরিবারের তালিকা করতে বলা হয়েছে।’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘কালভার্টের মুখ বন্ধ করার কারণেই মূলত এই জলাবদ্ধতা। এই সংকট নিরসনে সবার সচেতনতা ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’

আপনার মতামত লিখুন