সংবাদ

সোনালি আঁশে ভাগ্যবদল, হাসি ইসলামপুরের কৃষকদের!


প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম

সোনালি আঁশে ভাগ্যবদল, হাসি ইসলামপুরের কৃষকদের!
ছবি : সংগৃহীত

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় নতুন পাট বাজারে উঠতে শুরু করেছে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং বাজারে উচ্চমূল্য পাওয়ায় চলতি মৌসুমে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। গত বছরের তুলনায় এবার মণপ্রতি প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা বেশি দামে পাট বিক্রি হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে লাভের মুখ দেখছেন স্থানীয় পাটচাষিরা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) উপজেলার গুঠাইলসহ বিভিন্ন বড় পাটের হাট ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে নতুন পাট মণপ্রতি ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছরের এই সময়ে পাটের দাম ছিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকার মধ্যে।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, পাটের দাম বাড়লেও এবার উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে শ্রমিক মজুরি গত বছরের ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে এবার ৮০০-৯০০ টাকা হয়েছে। ফলে প্রতি মণ পাট উৎপাদনে খরচ পড়ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকেরা সন্তোষজনক মুনাফা পাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ইসলামপুরে ৭ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে। গত বছর পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কৃষকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়লেও এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় সেই সমস্যা নেই।

সাপধরী ইউনিয়নের কাঁসারিডোবা গ্রামের কৃষক সামিউল চৌধুরী বলেন, "এবার পাটের ফলন ও দাম দুই-ই ভালো। তবে পাটের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে আরও কারিগরি সহযোগিতার প্রয়োজন।"

গুঠাইল হাটের পাট ব্যবসায়ী হাসমত আলী জানান, বাজারে আগাম চাষ করা পাট আসতে শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে বেচাকেনা বেশ জমজমাট। কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় বাজারে পাটের সরবরাহ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।

তবে পাটের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যেতে পারে কি না—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের কৃষক কুদ্দুস মিয়া ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের সালাম হোসেন। তারা পুরো মৌসুমজুড়ে দামের এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দাবি জানান।

ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল আহমেদ বলেন, "আবহাওয়া ও বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় পাটচাষিরা এখন লাভজনক অবস্থায় আছেন। আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহ পর যখন বাজারে পাটের পূর্ণ সরবরাহ শুরু হবে, তখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


সোনালি আঁশে ভাগ্যবদল, হাসি ইসলামপুরের কৃষকদের!

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় নতুন পাট বাজারে উঠতে শুরু করেছে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং বাজারে উচ্চমূল্য পাওয়ায় চলতি মৌসুমে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। গত বছরের তুলনায় এবার মণপ্রতি প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা বেশি দামে পাট বিক্রি হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে লাভের মুখ দেখছেন স্থানীয় পাটচাষিরা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) উপজেলার গুঠাইলসহ বিভিন্ন বড় পাটের হাট ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে নতুন পাট মণপ্রতি ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছরের এই সময়ে পাটের দাম ছিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকার মধ্যে।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, পাটের দাম বাড়লেও এবার উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে শ্রমিক মজুরি গত বছরের ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে এবার ৮০০-৯০০ টাকা হয়েছে। ফলে প্রতি মণ পাট উৎপাদনে খরচ পড়ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকেরা সন্তোষজনক মুনাফা পাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ইসলামপুরে ৭ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে। গত বছর পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কৃষকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়লেও এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় সেই সমস্যা নেই।

সাপধরী ইউনিয়নের কাঁসারিডোবা গ্রামের কৃষক সামিউল চৌধুরী বলেন, "এবার পাটের ফলন ও দাম দুই-ই ভালো। তবে পাটের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে আরও কারিগরি সহযোগিতার প্রয়োজন।"

গুঠাইল হাটের পাট ব্যবসায়ী হাসমত আলী জানান, বাজারে আগাম চাষ করা পাট আসতে শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে বেচাকেনা বেশ জমজমাট। কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় বাজারে পাটের সরবরাহ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।

তবে পাটের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যেতে পারে কি না—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের কৃষক কুদ্দুস মিয়া ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের সালাম হোসেন। তারা পুরো মৌসুমজুড়ে দামের এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দাবি জানান।

ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল আহমেদ বলেন, "আবহাওয়া ও বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় পাটচাষিরা এখন লাভজনক অবস্থায় আছেন। আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহ পর যখন বাজারে পাটের পূর্ণ সরবরাহ শুরু হবে, তখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত