সংবাদ

নেছারাবাদে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে লাপা/ত্তা হওয়া বিশ্বজিৎ গ্রেপ্তার


প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

নেছারাবাদে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে লাপা/ত্তা হওয়া বিশ্বজিৎ গ্রেপ্তার
ছবি : সংবাদ

পিরোজপুরের নেছারাবাদে সমবায় সমিতির নামে সাধারণ মানুষের প্রায় ১০০ কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে থাকা বিশ্বজিৎ হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের কটুরাকাঠি এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার বিশ্বজিৎ হালদার আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের বিমল চন্দ্র হালদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই আদালতে পাঁচটি মামলায় সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমবায় সমিতির লাইসেন্স নিয়ে বিশ্বজিৎ এনজিওর আদলে একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। পাঁচছয় বছরে টাকা দ্বিগুণ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করেন। আমানতকারীদের বড় একটি অংশ ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ২০২৩ সালে হঠাৎ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে বিশ্বজিৎ আত্মগোপনে চলে যান।

আমানতকারীদের দাবি, নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১০ থেকে ১২টি শাখা খুলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন বিশ্বজিৎ। পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর ও ঝালকাঠি এলাকাতেও প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শাখা ছিল। প্রতিষ্ঠানের মাঠকর্মী অঞ্জু রানী জানান, শুধু ভরতকাঠি এলাকাতেই প্রায় তিন হাজার মানুষের ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা জমা রয়েছে। হয়রানির আশঙ্কায় তিনিও বর্তমানে এলাকাছাড়া।

ভুক্তভোগী বিনয় ভূষণের পরিবারের দাবি, তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকা জমা ছিল। একইভাবে ১৫ লাখ টাকা জমা রেখেও ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেছেন শামসুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

বিশ্বজিতের গ্রেপ্তারের খবরে আমানতকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও টাকা উদ্ধার নিয়ে সংশয় কাটেনি। ভুক্তভোগীরা শুধু গ্রেপ্তার নয়, বরং লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিশ্বজিৎ হালদারের বিরুদ্ধে আগের একাধিক মামলায় সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নেছারাবাদে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে লাপা/ত্তা হওয়া বিশ্বজিৎ গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পিরোজপুরের নেছারাবাদে সমবায় সমিতির নামে সাধারণ মানুষের প্রায় ১০০ কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে থাকা বিশ্বজিৎ হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের কটুরাকাঠি এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার বিশ্বজিৎ হালদার আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের বিমল চন্দ্র হালদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই আদালতে পাঁচটি মামলায় সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমবায় সমিতির লাইসেন্স নিয়ে বিশ্বজিৎ এনজিওর আদলে একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। পাঁচছয় বছরে টাকা দ্বিগুণ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করেন। আমানতকারীদের বড় একটি অংশ ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ২০২৩ সালে হঠাৎ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে বিশ্বজিৎ আত্মগোপনে চলে যান।

আমানতকারীদের দাবি, নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১০ থেকে ১২টি শাখা খুলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন বিশ্বজিৎ। পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর ও ঝালকাঠি এলাকাতেও প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শাখা ছিল। প্রতিষ্ঠানের মাঠকর্মী অঞ্জু রানী জানান, শুধু ভরতকাঠি এলাকাতেই প্রায় তিন হাজার মানুষের ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা জমা রয়েছে। হয়রানির আশঙ্কায় তিনিও বর্তমানে এলাকাছাড়া।

ভুক্তভোগী বিনয় ভূষণের পরিবারের দাবি, তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকা জমা ছিল। একইভাবে ১৫ লাখ টাকা জমা রেখেও ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেছেন শামসুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

বিশ্বজিতের গ্রেপ্তারের খবরে আমানতকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও টাকা উদ্ধার নিয়ে সংশয় কাটেনি। ভুক্তভোগীরা শুধু গ্রেপ্তার নয়, বরং লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিশ্বজিৎ হালদারের বিরুদ্ধে আগের একাধিক মামলায় সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত