বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
অবরুদ্ধ সময়ের সূর্যমুখী স্মারক
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
‘নীড়সন্ধানী’ লেখক আনোয়ার পাশার রক্তাক্ত হৃদয়ের আরেক নাম— ‘রাইফেল, রোটি, আওরাত’। কোনো কোনো গবেষক এটিকে মুক্তিযুদ্ধের ‘আনাফ্রাঙ্কের ডায়েরি’ও বলে থাকেন। আবার অনেকে ইলিয়া এরেনবুর্গের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাহিনি নিয়ে লেখা ‘ফল অব প্যারিস’ বা স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধ নিয়ে আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘ফর হোম দ্য বেল’— এর সাথে তুলনা করে থাকেন। তবে এটি যে ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট গণহত্যার জীবন্ত দলিল, তা দ্বিধাহীন কণ্ঠেই বলা যায়। রাইফেল, রোটি, আওরাত মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস। বইটি পড়তে পড়তে বোঝাই যায়— লেখক অধ্যাপক আনোয়ার পাশা যেন মৃত্যুর মিছিলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে লিখেছেন এই অমর আখ্যান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক সুদীপ্ত শাহীন উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র। মূলত এই চরিত্রের মধ্যেই আনোয়ার পাশা নিজেই নিজেকে এঁকেছেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক পাক-হানাদার বাহিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তা লেখকের মস্তিষ্কে এক বেদনাবিধূর মর্মযাতনার জন্ম দেয়। আর তাইতো লেখক রক্তের অক্ষরে লিখলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের এক অমর আকরগ্রন্থ— রাইফেল, রোটি, আওরাত।
আমরা গ্রন্থটি সম্পর্কে জানতে পারি— এটি ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে লেখা হয়। ২৫ মার্চ বিভীষিকাময় রাত থেকে শুরু হয়ে ২৮ মার্চ গভীর রাত পর্যন্ত এ উপন্যাসের কাহিনি বিস্তৃত। ২৫ মার্চের কালরাতে বর্বর পাকবাহিনী এদেশের শান্ত-শিষ্ট-নিরীহ জনতার ওপর অমানুষিক হত্যাযজ্ঞ চালায়। লেখক উপন্যাসের প্রথম বাক্যটি সেই ২৫ মার্চের ভোরের বর্ণনা দিয়েই শুরু করেছেন— “বাংলাদেশে নামলো ভোর”। এই বাক্যটি দিয়ে উপন্যাসটির শুরু হলেও মূলত এই বাক্যটিই যেন সমগ্র উপন্যাসের অস্তিত্ব ও মর্যাদার অহংকার হয়ে ওঠে। আর এ কারণেই উপন্যাসটির প্রতিটি পৃষ্ঠায় উজ্জীবিত হতে দেখি— স্বাধীনতার সূর্য গোলাপের রক্তিম চিহ্ন। এটি কেবল যুদ্ধের বীরত্বগাথা নয় বরং যুদ্ধের ভেতরে আটকেপড়া সাধারণ মানুষের অস্তিত্ব সংকট, নৈতিক দ্বন্দ্ব, শ্রেণিবিভক্ত সমাজ ব্যবস্থা ও নারীর অব্যক্ত যন্ত্রণার বলিষ্ঠ উচ্চারণ। এখানে লেখক মুক্তিযুদ্ধকে দেখেছেন আদর্শিকতার বাইরে, বাস্তবতার কঠোর নিরীক্ষায়।
উপন্যাসটির চরিত্র বিশ্লেষণ করতে গেলে চিত্রশিল্পী আব্দুল্লাহ মনসুর ওরফে আপন ও তার স্ত্রী পলির মধ্যে পেয়ে যাই এক নতুন বাংলাদেশ— যা যেকোনো পাঠকের শির উন্নত হয়ে উঠবে।
চিত্রশিল্পী আব্দুল্লাহ মনসুর ওরফে আপন দম্পতির পাঁচ বছরের ছেলে আর তিন বছরের মেয়েকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে পাষণ্ড পাক-সৈনিকেরা। চিত্রশিল্পী আপন ও তার স্ত্রীর বারুদমাখা উন্মাদ দৃষ্টি যেন প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত হয়ে ওঠে। তাদের শরীরের প্রতিটি রক্ত বিন্দুতে উত্তাল ঢেউ জাগে। চিত্রশিল্পী আপন যখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে “হাম গোলি করে গা, গোলি খায়েগা” উচ্চারণ করতে করতে পাক হানাদারদের গাড়ি লক্ষ্য করে আধখানা ইট ছুড়ে মারতে উদ্যত হলো, তখন তাকে একজন পাক সৈনিক গুলি করে হত্যা করে। তার হাতের আধখানা ইট ছিটকে পড়লো তারই নাকের কাছে। সুদীপ্ত শাহিনের চোখের সামনে সেই ইটের টুকরো হয়ে উঠল আস্ত কামানের গোলা। আর চিত্রশিল্পী আমনের স্ত্রী পলি যখন মাইন বুকে বেঁধে পাকসেনা ভর্তি ট্রাকের সামনে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, তখন ২০/২৫ জন পাকসেনা নিহত হয়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে পলির এই সাহস আর আত্মত্যাগের দৃশ্য যেন হয়ে উঠলো ১৩শত নদীর উত্তাল অগ্নিবান।
উপন্যাসের অন্যান্য নারী চরিত্রের মধ্যে সুদীপ্ত শাহিনের স্ত্রী আমিনা, ফিরোজের স্ত্রী মিনাক্ষী নাজমা, হামিদা নামক একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী স্বল্প পরিসরে হলেও স্ব স্ব বৈশিষ্ট্যে ধ্রুবতারার মতো বাংলার আকাশে জ্বলজ্বল করছে। উপন্যাসের প্রায় শেষ মুহূর্তে বুলাদি নামক একজন দেশপ্রেমিক নারীর সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি গোপনে কমিউনিস্ট পার্টির একজন সদস্য হলেও প্রকাশ্যে জামায়াতে ইসলামির সমর্থক। তার আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, অসাধারণ দায়িত্ববোধ, বুদ্ধিদীপ্ত বাক্যালাপ যেকোনো বাঙালিকে দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম। উপন্যাসটির পুরুষ চরিত্রের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে যুদ্ধ করা হাসিম শেখ, রাজনীতিবিদ ফিরোজ, দলপতি জামাল যেন হয়ে উঠেছে স্বাধীনতার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তাছাড়া পাক-হানাদার বাহিনী কর্তৃক ২৫ মার্চ কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য দেশপ্রেমিক শিক্ষকদেরকে স্বপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করবার চিত্র যেমন উঠে এসেছে, তেমনি পাকিস্তানপন্থী কিছু শিক্ষকের নগ্ন চরিত্রের কপটতাও স্পষ্ট হয়েছে। গাজী মাসউদ-উর-রহমানের মতো এদেশীয় পাকদোসরদের ভয়ংকর চরিত্রও উপন্যাসটিতে তুলে ধরা হয়েছে। গাজী মাসউদ-উর-রহমানের আশ্রয়ে থাকা রাজারবাগ পুলিশ লাইনের তিনজন দেশপ্রেমিক পুলিশকে পাকসেনাদের হাতে তুলে দেয়া তিনি দায়িত্ব মনে করেছেন। এ ঘটনা ফিরোজ ও সুদীপ্ত শাহিনের ভেতর জন্ম দেয় এক নতুন অধ্যায়। তারা বুঝতে পারে- এই লোকটি তাদের যতো আপন হোক না কেন, সে তাদেরও ছাড় দেবে না। এছাড়াও উপন্যাসটিতে বর্ণিত হয়েছে ‘৪৭ থেকে ’৭১ পর্যন্ত পাকিস্তানিদের শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন আর অপশাসনের চিত্রসহ বাঙালিদের প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, উনসত্তরে অধ্যাপক শামসুজ্জোহার আত্মোৎসর্গ ও ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠ এবারের সংগ্রাম...।
উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক। তিনি সপরিবারে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স কোয়ার্টারের ২৩ নাম্বার বিল্ডিংয়ে থাকতেন। ২৫ মার্চ পাক-হানাদার বাহিনীর আক্রমণে ২৩ নাম্বার বিল্ডিংয়ের সবাই নিহত হলেও তিনি ও তার পরিবার কাকতালীয়ভাবে বেঁচে যান। তিনি সবই চাক্ষুষ অবলোকন করলেন আর হয়ে উঠলেন সময়ের অমোঘ অগ্নিসাক্ষী। মূলত উপন্যাসের প্রধান চরিত্র সুদীপ্ত শাহিনের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার সূত্রে আমরা খণ্ড খণ্ড অনেক ঘটনা জানতে পারি। আর এসব ঘটনার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এক জীবন্ত দলিল— “রাইফেল, রোটি, আওরাত”। আমরা জানি— দেশভাগের শুরুতেই পাক সরকারের চরম চক্ষুশীল ছিল আমাদের বাংলা ভাষা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ। এটিও লেখক উপন্যাসটিতে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছেন।
আমরা বলতে পারি— বাঙালির ওপর নেমে আসা নির্মম-নিপীড়ন-নির্যাতন এবং ধীরে ধীরে সেই বাঙালির প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের আগুনে ঝলসে ওঠার শক্তি এমন একটি সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়, যা হয়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধেরই এক মনস্তাত্ত্বিক জীবন ভাষ্য।
“রাইফেল, রোটি, আওরাত” উপন্যাসটির নামকরণের ক্ষেত্রে লেখকের গভীর চিন্তাশক্তি ও প্রাজ্ঞতার পরিচয় পাই।
উপন্যাসটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই— ‘রাইফেল’ কেবল অস্ত্র নয়, তা একদিকে ক্ষমতা, দমন-পীড়ন ও সামরিক আগ্রাসনের প্রতীক। অর্থাৎ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতা, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং বন্দুকের নলের সামনে অসহায় মানুষের জীবনের অনিশ্চয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘রাইফেল’ এখানে ভয় ও মৃত্যুর ভাষা। যা মানবিক মূল্যবোধকে স্তব্ধ করে দেয়। আবার অন্যদিকে ‘রাইফেল’ হয়ে উঠেছে বাঙালির প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। অর্থাৎ ‘রাইফেল’ এখানে স্বাধীনতা ও মুক্তি। আর স্বাধীনতা ও মুক্তির এ আকাঙ্ক্ষাই উপন্যাসটির নামকরণের অধিক তাৎপর্য বাড়িয়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়।
‘রোটি’ মূলত ক্ষুধা নিবারণের বস্তু। যা মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় লড়াই। অর্থাৎ ‘রোটি’ প্রতীক হয়ে উঠেছে মানুষের মৌলিক বেঁচে থাকার লড়াইয়ের। যুদ্ধ শুধু প্রাণ কেড়ে নেয় না। কেড়ে নেয় খাদ্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনের অধিকার। এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়— যুদ্ধের সময় ক্ষুধা হয়ে ওঠে সবচেয়ে নীরব নির্মম সহিংসতা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের জীবনেও এই লড়াই হয়ে উঠেছিল অর্থনৈতিক নিপীড়ন ও মানবিক সংকটের প্রতীক।
‘আওরাত’— বলতে সাধারণত আমরা নারীকে বুঝে থাকি। অর্থাৎ এই শব্দটি নারীকে নির্দেশ করলেও এর ব্যঞ্জনা বহুমাত্রিক। নারী এখানে কেবল ব্যক্তি নয়, সে জন্মদায়িনী সত্তা, সম্ভ্রম, মানবিকতার শেষ আশ্রয়। তবে, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভ হতেই এ নারী যেন পাক-হানাদার বাহিনীর নিঃশব্দ শিকার হয়ে ওঠে। লেখক আনোয়ার পাশার বয়ানে ‘আওরাত’ শব্দটি হয়ে ওঠে বাংলার মানচিত্র।
যাহোক, আমরা যদি ‘রাইফেল, রোটি, আওরাত’ উপন্যাসের নামকরণের চূড়ান্ত বিশ্লেষণ করি, তবে দেখতে পাবো— প্রধান চরিত্র সুদীপ্ত শাহীন তার প্রত্যক্ষ বয়ানে কখনো প্রশ্ন, কখনো উত্তর বা কখনো নিজেই নিজের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন।
অর্থাৎ নায়ক নিজের সাথেই নিজে দ্বান্দ্বিকতায় জড়িয়েছেন। এখানে বলাই যায়— উপন্যাসের পুরো শরীর জুড়ে পাক-হানাদার বাহিনীর প্রতি তার তীব্র ঘৃণা লক্ষ্য করলেও তাকে তেমন ঝলসে উঠতে দেখি না। তবে উপন্যাসটির যবনিকাপাতের পূর্বমুহূর্তে জামাল এবং বুলাদির সংস্পর্শে এসে বুঝতে পারলেন— ‘বাঙালি দুর্জয়’। সুদীপ্ত শাহিন খুঁজে পেলেন নিজের ভেতরের শক্তি সূর্যপ্রদীপ।
এখানে এসে তিনি বাঙালি সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধের রণপ্রস্তুতি প্রত্যক্ষ করলেন এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি শুনতে পেলেন। সহসাই তার মধ্যে বীরত্বপূর্ণ এক অভূতপূর্ব সৌন্দর্য্যের আখ্যান অনুভূত হলো। তিনি অকপটে বললেন— “পুরোনো জীবনটা সেই পঁচিশের রাতেই লয় পেয়েছে। আহা তাই সত্য হোক। নতুন মানুষ, নতুন পরিচয় এবং নতুন একটি প্রভাত। সে আর কতো দূরে। বেশি দূরে হ'তে পারে না। মাত্র এই রাতটুকু তো! মা ভৈঃ। কেটে যাবে।”
আমাদের কারো আর বুঝতে বাকি থাকে না যে, সুদীপ্ত শাহিনের এই কথাগুলোই মূলত লেখক আনোয়ার পাশার। এ কথা যথার্থই বলা যায় যে, তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে উপন্যাসটির নামকরণে প্রাজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। মনে করি— ‘রাইফেল, রোটি, আওরাত’ বলতে তিনি বাংলার দামাল ছেলেদের উদ্দেশ্যে বলেছেন— “রাইফেল হাতে নাও, রক্ষা করো মুখের গ্রাস, মুক্তি দাও মাতৃভূমির।” এখানে লেখক ‘রাইফেল’ পাক-হানাদার বাহিনীর প্রতিরোধ, ‘রোটি’ ক্ষুধা মুক্তি এবং ‘আওরাত’ জন্মদায়িনী সত্তা মাতৃভূমি অর্থে ব্যবহার করেছেন। অতএব, বলতেই হবে— ‘রাইফেল, রোটি, আওরাত’ এই ত্রিমাত্রিক শব্দগুলোর মধ্যেই যেন নিহিত রয়েছে সেই অগ্নিঝরা স্লোগান ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।’
পরিশেষে বলবো— “রাইফেল, রোটি, আওরাত” মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে এক অনন্য সংযোজন। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়— স্বাধীনতা শুধু পতাকা ও মানচিত্র নয়; স্বাধীনতা মানে ক্ষুধামুক্তি, মানবিক মর্যাদা ও নারীর নিরাপত্তা। মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্যিক পুনর্মূল্যায়নে এই উপন্যাস তাই আজও প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে, কিছু কিছু চরিত্র পূর্ণ বিকাশ লাভ করেনি। তা কেবল লেখকের বক্তব্য বহনের মাধ্যম হিসেবেই থেকে গেছে। তাছাড়া গ্রন্থটিতে স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি। অন্ততপক্ষে এটি এই গ্রন্থের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্য বহন করতো বলেই আমার বিশ্বাস। তবুও বলতেই হবে— ভবিষ্যতের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে আনোয়ার পাশার সাহসের জুড়ি মেলা ভার। তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর তীব্র প্রতাপের মুখে থেকেও স্বপ্ন দেখেছেন যে, বাংলার দামাল ছেলেরা বীরদর্পে যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনবে। অতএব বলা যায়— এটি শুধু একটি উপন্যাস নয়, বরং অবরুদ্ধ সময়ের এক শক্তিশালী স্বর ও প্রামাণ্য দলিল হিসেবে যুগে যুগে জ্বলজ্বল করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির
নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম
প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ
কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আপনার মতামত লিখুন