(কবি রেইনার মারিয়া রিরলকে-কে নিবেদিত)
রিলকের রহস্যময় সৌন্দর্যবোধের কাছে কিছু অবান্তর প্রশ্ন রয়ে গেছে অর্বাচীন এই আমার।
যেমন সুপ্রাচীন ম্যাগনোলিয়ার কথাই ধরা যাক, ওর মন মাতাল করা সৌরভ কোটি কোটি বছর ধরে পুঁতি গন্ধময় এই মৃত্যুপুরীতে একটুও হয়নি ম্লান কোন ইশারায়??
কিংবা কোন বিবেচনায় বোহেমিয়ার প্রাগে অথবা অন্য কোনো উদ্ভিদ উদ্যানে ফুটে থাকা যত চিত্তাকর্ষক লাল গোলাপের পেলব কোমল স্পর্শ পেতে সুতীক্ষ্ণ কাঁটার আঘাতকেও অবলীলায় অগ্রাহ্য করে যায় তাবৎ নির্বোধ প্রেমিক।
সুপ্রিয় রিলকে আর আমরাই বা কেন বলো তো, অগণন একচোখা চেনা মানুষের ভিড়ে হঠাৎ কোনো অপরিচিতের চোখে সহমর্মিতার এক বিন্দু টলটলে স্ফটিক জল দেখে ঊষর মরুতে বর্ষব্যাপী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাকে ভবিতব্য ভেবে নিয়েছি বিপুল মূঢ়তায়।
আর বৃক্ষরাজির প্রাত্যহিক গোপন প্ররোচনায় যে মৃদুমন্দ বাতাস আমাদের খোলা জানালায় এসে মিশ্র কলাবৃত্তে টোকা দেয়— সেও কি সকলের অলক্ষে আমাদের অভ্যন্তরে বহুকালব্যাপী বন্ধ হয়ে থাকা মহাজাগতিক সরাইখানার প্রতিটি অলৌকিক দরজা খুলে দেয় অধিবাস্তব এক ঝটকায়।
অথচ অগণিত কতো প্রিয়মুখ ভেসে গেছে সময় সাগরতীরে;
জানি না কতো যে প্রিয় সব নাম ছাই হয়ে মিলিয়ে যায় দিগন্তের ড্রইং খাতায় প্রতিটি গোধূলি সন্ধ্যায় নিত্যনতুন আবিরের রঙে;
বলো তো প্রিয় রেইনার, আমাদের দেয়া এতোসব বাহারি নামের ভিড়ে তোমার কোন সে কোমল নাম দেবদূত হয়ে আজ অবধি বাঁচিয়ে রেখেছে প্রতিটি
ধরিত্রীকে— যখন আর সকলেই নিঃস্ব রিক্ত বেদনাহত হয়ে এক নিমেষেই চুকিয়ে বুকিয়ে দিয়েছে শত জনমের অভিমানী প্রেম কালের ধুলায়।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
(কবি রেইনার মারিয়া রিরলকে-কে নিবেদিত)
রিলকের রহস্যময় সৌন্দর্যবোধের কাছে কিছু অবান্তর প্রশ্ন রয়ে গেছে অর্বাচীন এই আমার।
যেমন সুপ্রাচীন ম্যাগনোলিয়ার কথাই ধরা যাক, ওর মন মাতাল করা সৌরভ কোটি কোটি বছর ধরে পুঁতি গন্ধময় এই মৃত্যুপুরীতে একটুও হয়নি ম্লান কোন ইশারায়??
কিংবা কোন বিবেচনায় বোহেমিয়ার প্রাগে অথবা অন্য কোনো উদ্ভিদ উদ্যানে ফুটে থাকা যত চিত্তাকর্ষক লাল গোলাপের পেলব কোমল স্পর্শ পেতে সুতীক্ষ্ণ কাঁটার আঘাতকেও অবলীলায় অগ্রাহ্য করে যায় তাবৎ নির্বোধ প্রেমিক।
সুপ্রিয় রিলকে আর আমরাই বা কেন বলো তো, অগণন একচোখা চেনা মানুষের ভিড়ে হঠাৎ কোনো অপরিচিতের চোখে সহমর্মিতার এক বিন্দু টলটলে স্ফটিক জল দেখে ঊষর মরুতে বর্ষব্যাপী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাকে ভবিতব্য ভেবে নিয়েছি বিপুল মূঢ়তায়।
আর বৃক্ষরাজির প্রাত্যহিক গোপন প্ররোচনায় যে মৃদুমন্দ বাতাস আমাদের খোলা জানালায় এসে মিশ্র কলাবৃত্তে টোকা দেয়— সেও কি সকলের অলক্ষে আমাদের অভ্যন্তরে বহুকালব্যাপী বন্ধ হয়ে থাকা মহাজাগতিক সরাইখানার প্রতিটি অলৌকিক দরজা খুলে দেয় অধিবাস্তব এক ঝটকায়।
অথচ অগণিত কতো প্রিয়মুখ ভেসে গেছে সময় সাগরতীরে;
জানি না কতো যে প্রিয় সব নাম ছাই হয়ে মিলিয়ে যায় দিগন্তের ড্রইং খাতায় প্রতিটি গোধূলি সন্ধ্যায় নিত্যনতুন আবিরের রঙে;
বলো তো প্রিয় রেইনার, আমাদের দেয়া এতোসব বাহারি নামের ভিড়ে তোমার কোন সে কোমল নাম দেবদূত হয়ে আজ অবধি বাঁচিয়ে রেখেছে প্রতিটি
ধরিত্রীকে— যখন আর সকলেই নিঃস্ব রিক্ত বেদনাহত হয়ে এক নিমেষেই চুকিয়ে বুকিয়ে দিয়েছে শত জনমের অভিমানী প্রেম কালের ধুলায়।

আপনার মতামত লিখুন