সংবাদ

খাল খননে বাঁচল ১৭ লাখ টাকা


প্রতিনিধি, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী)
প্রতিনিধি, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী)
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

খাল খননে বাঁচল ১৭ লাখ টাকা
ছবি : সংবাদ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে উদ্বৃত্ত ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় বরাদ্দের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়নি, ফলে সেই উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের সাধুখালী মই বিলে কানাই মণ্ডলের পুকুরচালা থেকে সাধুখালী শরিষার বিল হয়ে সাধুখালী মাধুরীর বাড়িসংলগ্ন সেতু থেকে বহলাকুণ্ডু রতনের পুকুরচালা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এবং জামালপুর ইউনিয়নের খামার মাগুরায় রফিকের বাড়ি থেকে হাতিমোহন হয়ে মাশালিয়া খাল পর্যন্ত তিন কিলোমিটার—মোট ছয় কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অনুকূলে মোট এক কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ১৪ মে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২২ জুন।

জঙ্গল ইউনিয়নের খাল খনন শেষে অবশিষ্ট চার লাখ ৪৩ হাজার ৮৪০ টাকা এবং জামালপুর ইউনিয়নের খাল পুনঃখনন শেষে অব্যয়িত ১২ লাখ ৬৯ হাজার ৮১০ টাকা—দুই প্রকল্পে মোট ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যায়। দুটি প্রকল্পে উপকারভোগী ছিলেন ২৯৭ জন। প্রকল্পের অংশ হিসেবে খাল দুটির পাড়ে তিন হাজার ৪০০টি গাছ লাগানো হয়েছে।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পুনঃখননের ফলে খাল দুটির পানি ধারণক্ষমতা ও নাব্যতা বেড়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিজমিতে সেচ-সুবিধা বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল কুমার ও আরব আলী বলেন, আগে বর্ষায় খালে পানি জমে থাকায় আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হতো। খাল পুনঃখননের পর পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে তারা আশা করছেন। এতে সময়মতো ধান, পাট, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ সহজ হবে এবং বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ বাড়বে বলে জানান তারা।

জঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কল্লোল কুমার বসু বলেন, খাল খনন ও পুনঃখননের ফলে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের জলাবদ্ধতা কমতে শুরু করেছে। সংযোগ খালগুলোও পুনঃখনন করা গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান বলেন, জঙ্গল ও জামালপুরের খাল পুনঃখননে এলাকার কৃষকেরা উপকৃত হবেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে উপজেলার আরও খাল পুনঃখননের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদনে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুফল মিলতে পারে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রকল্পের কাজের মান বজায় রেখে সরকারি অর্থের সাশ্রয় নিশ্চিত করা হয়েছে। অব্যয়িত ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা দীর্ঘমেয়াদে খাল খনন ও পুনঃখননের সুফল পাবেন।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


খাল খননে বাঁচল ১৭ লাখ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে উদ্বৃত্ত ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় বরাদ্দের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়নি, ফলে সেই উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের সাধুখালী মই বিলে কানাই মণ্ডলের পুকুরচালা থেকে সাধুখালী শরিষার বিল হয়ে সাধুখালী মাধুরীর বাড়িসংলগ্ন সেতু থেকে বহলাকুণ্ডু রতনের পুকুরচালা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এবং জামালপুর ইউনিয়নের খামার মাগুরায় রফিকের বাড়ি থেকে হাতিমোহন হয়ে মাশালিয়া খাল পর্যন্ত তিন কিলোমিটার—মোট ছয় কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অনুকূলে মোট এক কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ১৪ মে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২২ জুন।

জঙ্গল ইউনিয়নের খাল খনন শেষে অবশিষ্ট চার লাখ ৪৩ হাজার ৮৪০ টাকা এবং জামালপুর ইউনিয়নের খাল পুনঃখনন শেষে অব্যয়িত ১২ লাখ ৬৯ হাজার ৮১০ টাকা—দুই প্রকল্পে মোট ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যায়। দুটি প্রকল্পে উপকারভোগী ছিলেন ২৯৭ জন। প্রকল্পের অংশ হিসেবে খাল দুটির পাড়ে তিন হাজার ৪০০টি গাছ লাগানো হয়েছে।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পুনঃখননের ফলে খাল দুটির পানি ধারণক্ষমতা ও নাব্যতা বেড়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিজমিতে সেচ-সুবিধা বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল কুমার ও আরব আলী বলেন, আগে বর্ষায় খালে পানি জমে থাকায় আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হতো। খাল পুনঃখননের পর পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে তারা আশা করছেন। এতে সময়মতো ধান, পাট, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ সহজ হবে এবং বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ বাড়বে বলে জানান তারা।

জঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কল্লোল কুমার বসু বলেন, খাল খনন ও পুনঃখননের ফলে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের জলাবদ্ধতা কমতে শুরু করেছে। সংযোগ খালগুলোও পুনঃখনন করা গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান বলেন, জঙ্গল ও জামালপুরের খাল পুনঃখননে এলাকার কৃষকেরা উপকৃত হবেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে উপজেলার আরও খাল পুনঃখননের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদনে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুফল মিলতে পারে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রকল্পের কাজের মান বজায় রেখে সরকারি অর্থের সাশ্রয় নিশ্চিত করা হয়েছে। অব্যয়িত ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা দীর্ঘমেয়াদে খাল খনন ও পুনঃখননের সুফল পাবেন।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত