বাড়িতে বাবার লাশ রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মাসুমা আক্তার (১৮) নামের এক শিক্ষার্থী। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে যশোরের বেনাপোল কলেজ কেন্দ্রে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে বাবার দাফন কাজে অংশ নেয় সে।
মাসুমা শার্শা উপজেলার বেনাপোল নামাজগ্রামের বিশিষ্ট আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সামাদের মেয়ে। তিনি শার্শা উপজেলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। তার বাবা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
সরেজমিনে সকালে বেনাপোল কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মাসুমা আক্তার অশ্রুসিক্ত চোখে পরীক্ষা দিচ্ছে। এক হাতে রুমাল দিয়ে বারবার চোখ মুছছে, অন্য হাতে কলম চালিয়ে যাচ্ছে। সহপাঠী ও কেন্দ্রের শিক্ষকেরা তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
মাসুমা বলে, ‘বাবা আমাকে অনেক ভালোবাসতেন। তিনি চাইতেন আমি যেন পড়াশোনা করে অনেক বড় হই। বাবার আত্মা যেন কষ্ট না পায়, সে জন্য এই কঠিন অবস্থাতেও আমি পরীক্ষা দিতে এসেছি।’
বেনাপোল কলেজের কেন্দ্রসচিব ও অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান শান্তি বলেন, ‘মাসুমার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা সকালেই জানতে পেরেছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম সে সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা দিক। সে খুবই ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে পরীক্ষা দিয়েছে।’ তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগেই খাতা জমা দিয়ে সে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
মাসুমার বড় ভাই আব্দুল গফুর জানান, তার বাবা আব্দুস সামাদ (৬৫) মেসার্স তাজমহল ট্রান্সপোর্ট ও হাজী মুছা করিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী ছিলেন। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, ‘বাবাকে হারানো যেকোনো সন্তানের জন্য বড় শোক। সেই শোক বুকে নিয়ে মাসুমা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আমরা তার পরীক্ষার সময় যতটা সম্ভব পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।’
দুপুর দুইটার দিকে মাসুমা বাড়ি পৌঁছানোর পর গ্রামের মসজিদে তার বাবার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন