কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আড়িয়াল খাঁ নদীর তলদেশে থাকা পাইপলাইনে ছিদ্র (লিক) হয়ে অনবরত গ্যাস বের হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে এমন অবস্থা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপারের বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, নদীপারের একটি অবৈধ কারখানাকে নিয়মবহির্ভূত সংযোগ দিতে গিয়েই এই বিপত্তি ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও তিতাস গ্যাস কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাজীরচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর তলদেশ দিয়ে কিশোরগঞ্জে গ্যাস সরবরাহের মূল পাইপলাইনটি গেছে। মাসখানেক আগে পাইপলাইনের জয়েন্টে ছিদ্র দেখা দেয়। বর্তমানে নদী থেকে প্রবল বেগে গ্যাসের বুদবুদ উঠছে এবং আশপাশে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিক ও সোহেল রানা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে এই পাইপলাইনটি স্থাপন করা হয়েছিল। সম্প্রতি নদীপারের একটি কারখানায় অবৈধ সংযোগ দিতে গিয়ে পাইপলাইনে লিকেজ তৈরি হয়। গত মঙ্গলবার থেকে বুদবুদ ও গ্যাসের গন্ধ মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। বিষয়টি তিতাস কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা ধীরগতিতে কাজ করছে।
লিক মেরামতের কাজে নিয়োজিত তিতাস গ্যাসের ফোরম্যান রুহুল আমিন বলেন, ‘অবৈধ সংযোগ দিতে গিয়ে পাইপলাইনের ওয়েল্ডিংয়ে লিকেজ হয়েছে। ছিদ্রটি বড় হওয়ায় গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ করতে সময় লাগছে। ২০-২৫ জন কর্মী গত ২৫ দিন ধরে কাজ করছেন। একটি ড্রেজার প্রয়োজন, সেটি এলে ৪-৫ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।’
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে তিতাস গ্যাসের কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
আপনার মতামত লিখুন