দেড় শতাব্দী প্রাচীন কুষ্টিয়ার খোকসা রেলওয়ে স্টেশনটি এখন চরম জরাজীর্ণ ও অবহেলিত। প্রতিবছর এই স্টেশন থেকে সরকারের কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হলেও এর আধুনিকায়ন বা সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেই। বর্তমানে ব্রিটিশ আমলের তৈরি ভবন ও যাত্রী ছাউনি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে সামান্য বৃষ্টিতেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।
বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজবাড়ী অঞ্চল সূত্রে জানা যায়, ১৮৭১ সালের ১ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার জগতি থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন চালুর সময় এই খোকসা স্টেশনটি নির্মিত হয়েছিল। দেড় শ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক স্টেশনটিতে সর্বশেষ ২০০৫ সালে সামান্য সংস্কার কাজ করা হয়েছিল। এরপর গত দুই দশকে আর কোনো মেরামত করা হয়নি। বর্তমানে স্টেশন ভবনের ছাদ ও যাত্রী ছাউনির টিন ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি নামলেই সব ভিজে একাকার হয়ে যায়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, জনবলসংকট ও ট্রেন চলাচল কমে যাওয়ার অজুহাতে ২০২১ সালে স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের ২১ মে এটি পুনরায় চালু হয়। বর্তমানে এখানে ২ জন স্টেশন মাস্টারসহ মোট ১২ জন কর্মী কাজ করছেন। পুনরায় চালুর পর গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই স্টেশন থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে।
খোকসা স্টেশনের বর্তমান স্টেশন মাস্টার সুজন সরকার বলেন, ‘স্টেশনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যাত্রী ও কর্মীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। দ্রুত মেরামত না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।’
বর্তমানে এই স্টেশন দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, মধুমতী এক্সপ্রেস ও বেনাপোল এক্সপ্রেস নিয়মিত যাতায়াত করে। তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি এখানে থামে না। খোকসার সচেতন বাসিন্দারা অবিলম্বে সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রা বিরতি এবং ব্রিটিশ আমলের প্রাচীন ভবনটি ভেঙে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ মডেল স্টেশন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন