ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের আকবরনগর-মিরারচর বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে দু’জনের। দেড় শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও ৪ দিনেও মামলা করেনি কেউ।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের এই বাজারটি তিন দশক ধরে পরিচিত ‘মিরারচর বাজার’ নামে। অথচ সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) তিন বছর আগে সেখানে ‘আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড’ নামে সাইনবোর্ড লাগায়। আর এতেই ফুঁসে ওঠে মিরারচর গ্রামবাসী।
এর আগে জেলা পরিষদ পাঁচ বছর আগে সড়কের দুই পাশে ‘আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড’ নামে যাত্রী ছাউনি তৈরি করে। এসব ঘটনা দুই গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন বাড়িয়ে দেয়।
গত ২৬ জুলাই স্থানীয় এমপি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম দুই গ্রামের নেতাদের নিয়ে নামকরণ বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। তিনি ১০ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি করে তিন দিনের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেন। কিন্তু সেই আশ্বাসের ২৪ ঘণ্টা না যেতেই গত ২৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুই গ্রামের মানুষ।
ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে তারা সংঘর্ষে জড়ায়। জেলা পুলিশ, র্যাব ও দুই থানার পুলিশ ৬ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে মিরারচর গ্রামের মাসুদ রানা ও হিরণ মিয়া টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে ২৮ জন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। ৮ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।মিরারচর গ্রামের দুইজন নিহত হওয়ার পর মাইলপাশা-নয়াহাটির আকবরনগর এলাকার দেড় শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ৩০ জুলাই পর্যন্তও লুটপাট থামেনি। দুষ্কৃতিকারীরা পুলিশ দেখে দৌড়ে পালাচ্ছে।
ঘটনার ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডসহ বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুই গ্রামের কেউ মামলা করেনি।
নিহত হিরণ মিয়ার ভাই নয়ন মিয়া জানান, নিরপরাধীদের যেন আসামি না করা হয় সেজন্য সময় নিয়ে সঠিকভাবে মামলা করতে চেয়েছেন তারা।
বাজারের প্রায় চার শতাধিক দোকানপাট ৪ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আকবরনগর এলাকায় সুনসান নীরবতা, মিরারচর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বাজারের সবজি ব্যবসায়ী দ্বীন ইসলাম বলেন, 'বাজার নামকরণের জন্য আমাদের পেটে ভাত যাবে না। বাজার বন্ধ থাকলে না খেয়ে মরতে হবে। আমরা দ্রুত সমাধান চাই।'
বাজারটি মৌজাভিত্তিক ‘আকবরনগর’ হলেও স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ‘মিরারচর’ নামেই চেনেন। সওজের ভৈরব অফিস সহকারী হারুন উর রশীদ জানান, মৌজা অনুযায়ী নাম আকবরনগর হওয়ায় তারা ওই নামে সাইনবোর্ড টানিয়েছে। তবে স্থানীয়রা চাইলে ‘আকবরনগর-মিরারচর’ নামে নতুন সাইনবোর্ড দেওয়া সম্ভব।এ বিষয়ে ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস জানান, এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের আকবরনগর-মিরারচর বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে দু’জনের। দেড় শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও ৪ দিনেও মামলা করেনি কেউ।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের এই বাজারটি তিন দশক ধরে পরিচিত ‘মিরারচর বাজার’ নামে। অথচ সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) তিন বছর আগে সেখানে ‘আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড’ নামে সাইনবোর্ড লাগায়। আর এতেই ফুঁসে ওঠে মিরারচর গ্রামবাসী।
এর আগে জেলা পরিষদ পাঁচ বছর আগে সড়কের দুই পাশে ‘আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড’ নামে যাত্রী ছাউনি তৈরি করে। এসব ঘটনা দুই গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন বাড়িয়ে দেয়।
গত ২৬ জুলাই স্থানীয় এমপি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম দুই গ্রামের নেতাদের নিয়ে নামকরণ বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। তিনি ১০ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি করে তিন দিনের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেন। কিন্তু সেই আশ্বাসের ২৪ ঘণ্টা না যেতেই গত ২৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুই গ্রামের মানুষ।
ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে তারা সংঘর্ষে জড়ায়। জেলা পুলিশ, র্যাব ও দুই থানার পুলিশ ৬ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে মিরারচর গ্রামের মাসুদ রানা ও হিরণ মিয়া টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে ২৮ জন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। ৮ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।মিরারচর গ্রামের দুইজন নিহত হওয়ার পর মাইলপাশা-নয়াহাটির আকবরনগর এলাকার দেড় শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ৩০ জুলাই পর্যন্তও লুটপাট থামেনি। দুষ্কৃতিকারীরা পুলিশ দেখে দৌড়ে পালাচ্ছে।
ঘটনার ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডসহ বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুই গ্রামের কেউ মামলা করেনি।
নিহত হিরণ মিয়ার ভাই নয়ন মিয়া জানান, নিরপরাধীদের যেন আসামি না করা হয় সেজন্য সময় নিয়ে সঠিকভাবে মামলা করতে চেয়েছেন তারা।
বাজারের প্রায় চার শতাধিক দোকানপাট ৪ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আকবরনগর এলাকায় সুনসান নীরবতা, মিরারচর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বাজারের সবজি ব্যবসায়ী দ্বীন ইসলাম বলেন, 'বাজার নামকরণের জন্য আমাদের পেটে ভাত যাবে না। বাজার বন্ধ থাকলে না খেয়ে মরতে হবে। আমরা দ্রুত সমাধান চাই।'
বাজারটি মৌজাভিত্তিক ‘আকবরনগর’ হলেও স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ‘মিরারচর’ নামেই চেনেন। সওজের ভৈরব অফিস সহকারী হারুন উর রশীদ জানান, মৌজা অনুযায়ী নাম আকবরনগর হওয়ায় তারা ওই নামে সাইনবোর্ড টানিয়েছে। তবে স্থানীয়রা চাইলে ‘আকবরনগর-মিরারচর’ নামে নতুন সাইনবোর্ড দেওয়া সম্ভব।এ বিষয়ে ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস জানান, এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন