সংবাদ

অস্ট্রেলিয়া-কানাডার ভিসার নামে প্রতারণা: গ্রেপ্তার ২


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

অস্ট্রেলিয়া-কানাডার ভিসার নামে প্রতারণা: গ্রেপ্তার ২
কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি

অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় উচ্চ বেতনের চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ভিসা, জাল কাগজপত্র ও নকল ভেরিফিকেশন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মারিফুল ইসলাম (২১) ও বাচ্চা বাউ ওরফে হাসিনুরকে (২৮) গ্রেপ্তার করে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী মো. ছায়েদুল হক অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি পাওয়ার আশায় আসামিদের কথায় বিশ্বাস করে বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে মেডিকেল ফি, ভিসা প্রসেসিং ফি, ডকুমেন্ট চার্জসহ বিভিন্ন খাতে ধাপে ধাপে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবি করা হলেও বিদেশে পাঠানোর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন প্রচার করে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করত। পরে বিদেশে চাকরি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে ধাপে ধাপে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করত।

বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীদের কাছে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা এপ্রুভাল লেটার, এলএমআইএ এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি একটি নকল ভিসা ভেরিফিকেশন ওয়েবসাইট ব্যবহার করত। ওই ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট নম্বর ইনপুট করলে ভিসা অনুমোদিত হয়েছে বলে বার্তা প্রদর্শিত হতো। এ কৌশলে অনেক চাকরিপ্রত্যাশী প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

অভিযানে তাদের হেফাজত থেকে ১টি ল্যাপটপ, ৭টি মোবাইল ফোন, ১৩টি সিম কার্ড এবং ৯টি ভুয়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দকৃত ডিজিটাল ডিভাইসের প্রাথমিক পরীক্ষায় প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত, বিভিন্ন ভুক্তভোগীর তথ্য ও মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের আলামত পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। চক্রটি এ পর্যন্ত ৭২ জনেরও বেশি ভুক্তভোগীর সঙ্গে একই ধরনের প্রতারণা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিদেশে চাকরির জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বা প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই করা জরুরি। শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন বা অপরিচিত ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে কোনো অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে ডিবি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


অস্ট্রেলিয়া-কানাডার ভিসার নামে প্রতারণা: গ্রেপ্তার ২

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় উচ্চ বেতনের চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ভিসা, জাল কাগজপত্র ও নকল ভেরিফিকেশন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মারিফুল ইসলাম (২১) ও বাচ্চা বাউ ওরফে হাসিনুরকে (২৮) গ্রেপ্তার করে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী মো. ছায়েদুল হক অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি পাওয়ার আশায় আসামিদের কথায় বিশ্বাস করে বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে মেডিকেল ফি, ভিসা প্রসেসিং ফি, ডকুমেন্ট চার্জসহ বিভিন্ন খাতে ধাপে ধাপে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবি করা হলেও বিদেশে পাঠানোর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন প্রচার করে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করত। পরে বিদেশে চাকরি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে ধাপে ধাপে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করত।

বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীদের কাছে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা এপ্রুভাল লেটার, এলএমআইএ এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি একটি নকল ভিসা ভেরিফিকেশন ওয়েবসাইট ব্যবহার করত। ওই ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট নম্বর ইনপুট করলে ভিসা অনুমোদিত হয়েছে বলে বার্তা প্রদর্শিত হতো। এ কৌশলে অনেক চাকরিপ্রত্যাশী প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

অভিযানে তাদের হেফাজত থেকে ১টি ল্যাপটপ, ৭টি মোবাইল ফোন, ১৩টি সিম কার্ড এবং ৯টি ভুয়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দকৃত ডিজিটাল ডিভাইসের প্রাথমিক পরীক্ষায় প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত, বিভিন্ন ভুক্তভোগীর তথ্য ও মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের আলামত পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। চক্রটি এ পর্যন্ত ৭২ জনেরও বেশি ভুক্তভোগীর সঙ্গে একই ধরনের প্রতারণা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিদেশে চাকরির জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বা প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই করা জরুরি। শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন বা অপরিচিত ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে কোনো অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে ডিবি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত