সংবাদ

ভৈরবে জোড়া খুনের আসামি রুবেল গ্রেপ্তার


প্রতিনিধি, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রতিনিধি, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশ: ২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

 ভৈরবে জোড়া খুনের আসামি রুবেল গ্রেপ্তার
ছবি : সংবাদ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে সংঘর্ষে দুজন নিহতের ঘটনার মামলার আসামি রুবেল মিয়াকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২ আগস্ট (রোববার) রাত তিনটার দিকে ভৈরব ও বাজিতপুর থানা-পুলিশের এক যৌথ অভিযানে বাজিতপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রুবেল উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের আক্তার মিয়ার ছেলে।

ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর এলাকায় একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে গত ২৭ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ওই দিন মিরারচর গ্রামের মাসুদ রানা ও হিরণ মিয়া নামের দুই যুবক টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ঘটনার চার দিন পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ৯০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার রুবেল মিয়া এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

তদন্ত কর্মকর্তা লিমন বোস বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে রুবেলের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আজ রোববার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত তিন দশক ধরে এই বাজারের নামকরণ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এক পক্ষ চায় বাজারের নাম হবে ‘মিরারচর বাজার’, অন্য পক্ষ চায় ‘আকবরনগর বাজার’। আবার কেউ কেউ ‘আকবরনগর-মিরারচর বাজার’ নামটির পক্ষে। ১৫ বছর আগে এই নিয়ে বড় সংঘর্ষ হলেও ২০২৩ সালে আঞ্চলিক সড়কে একটি সাইনবোর্ড টাঙানোকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

২৬ জুলাই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তিনি ১০ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি করে তিন দিনের মধ্যে সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দেন। কিন্তু এর ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ২৭ জুলাই সকালে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে দুই গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

টানা ছয় ঘণ্টার সংঘর্ষে ওই দিন ১০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আহত হন অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ। জোড়া খুনের পর ক্ষুব্ধ মিরারচর গ্রামের লোকজন আকবরনগর এলাকার দুই শতাধিক বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


ভৈরবে জোড়া খুনের আসামি রুবেল গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে সংঘর্ষে দুজন নিহতের ঘটনার মামলার আসামি রুবেল মিয়াকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২ আগস্ট (রোববার) রাত তিনটার দিকে ভৈরব ও বাজিতপুর থানা-পুলিশের এক যৌথ অভিযানে বাজিতপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রুবেল উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের আক্তার মিয়ার ছেলে।

ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর এলাকায় একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে গত ২৭ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ওই দিন মিরারচর গ্রামের মাসুদ রানা ও হিরণ মিয়া নামের দুই যুবক টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ঘটনার চার দিন পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ৯০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার রুবেল মিয়া এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

তদন্ত কর্মকর্তা লিমন বোস বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে রুবেলের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আজ রোববার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত তিন দশক ধরে এই বাজারের নামকরণ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এক পক্ষ চায় বাজারের নাম হবে ‘মিরারচর বাজার’, অন্য পক্ষ চায় ‘আকবরনগর বাজার’। আবার কেউ কেউ ‘আকবরনগর-মিরারচর বাজার’ নামটির পক্ষে। ১৫ বছর আগে এই নিয়ে বড় সংঘর্ষ হলেও ২০২৩ সালে আঞ্চলিক সড়কে একটি সাইনবোর্ড টাঙানোকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

২৬ জুলাই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তিনি ১০ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি করে তিন দিনের মধ্যে সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দেন। কিন্তু এর ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ২৭ জুলাই সকালে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে দুই গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

টানা ছয় ঘণ্টার সংঘর্ষে ওই দিন ১০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আহত হন অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ। জোড়া খুনের পর ক্ষুব্ধ মিরারচর গ্রামের লোকজন আকবরনগর এলাকার দুই শতাধিক বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত