সংবাদ

সংকট থেকে মুক্তির চাবিকাঠি বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ

নবায়নযোগ্য শক্তিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

নবায়নযোগ্য শক্তিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান

দেশে চলমান মারাত্মক জ্বালানি সংকট, গ্যাসের ঘাটতি এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলায় বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানির (ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি) দ্রুত সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক খাতসংশ্লিষ্টরা।

তারা মনে করেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশকে স্বাবলম্বী করতে হলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সোলার হোম সিস্টেম, কৃষিতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যাটারি ব্যাকআপ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারকে কেবল নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি জোরদার সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

রবিবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) অডিটোরিয়ামে ইআরএফ এবং ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি প্ল্যাটফর্মের (ডিআরইপি) যৌথ আয়োজনেবিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সৌরবিদ্যুৎ সমাধানশীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে অংশ নিয়ে সিপিডির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মো. মেহেদী হাসান শামীম বলেন, "আমরা ২০২৫ সালের একটা জরিপ করেছিলাম, সেখানে দেখেছি ৪৫ শতাংশ সোলার নন ফাংশন হয়ে আছে।"

পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি রুফটপ সোলার সচল রাখতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজ নেট মিটারিং আবেদনের ওপর জোর দেন।

জটিলতা দূর করে সহজ অর্থায়নের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) কোম্পানি সেক্রেটারি এস এম মুনির বলেন, "আমরা চাই প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুমোদন না নিয়ে যে কোনো একটি জায়গা থেকে অনুমোদন নিতে হবে।"

তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, "ডিস্ট্রিবিউশন পর্যায়ে সোলার প্যানেল-ইনভার্টারসহ যেগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলো ট্যাক্স মওকুফ পায়নি। সৌরবিদ্যুৎ সেক্টরে প্রাইমারি একটা ফাইন্যান্সের প্রয়োজন হয়। স্থানীয় পর্যায়ে যারা -১০ লাখ টাকার প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে চায়, তারা স্থানীয় কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে কোনো সহায়তা পায় না।"

জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হাসান মেহেদী বলেন, "আমাদের সংকট একদিনের না, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এটা তৈরি করেছি। বিষয়টা এমন হয়েছে যে অনেকগুলো গাড়ি কিনে ফেলেছি, কিন্তু তেল নেই। এর সমাধান আমাদের গ্রামের মানুষ করতে পারবে।" রুফটপ সোলার জনপ্রিয় করতে নব্বইয়ের দশকের পরিচিত বিজ্ঞাপনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, "যেমন নব্বইয়ের দশকে একটা বিজ্ঞাপন তৈরি হয়েছিল- 'রাত ১২টা বাজে, এখন পাম্প চালাও সেচ দাও' ধরনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে রুফটপ সোলারকে জনপ্রিয় করতে হবে।"

খাতের নানা চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে অ্যাকশন-এইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন ম্যানেজার আবুল আজাদ বলেন, "আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের জন্য যে ইকোসিস্টেম প্রয়োজন, সেটি পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। সারাদেশে আমাদের প্রায় ৬৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম আছে। এখন সবমিলিয়ে হয়তো ২০ শতাংশ সোলার চালু আছে।"

আলোচনায় অংশ নিয়ে ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি প্ল্যাটফর্মের (ডিআরইপি) সমন্বয়ক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রফেসর রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, "নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে প্রথমে দরকার সামাজিক আন্দোলন। আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে বাসযোগ্য পৃথিবী আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে চাই। প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ জীববৈচিত্র রক্ষা করতে হবে, এজন্য সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন।"

সামাজিক চাহিদার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, "সমাজের ভেতর থেকে যদি চাহিদা না আসে তাহলে মানুষ গ্রহণ করবে না।"

বর্তমান গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "দারিদ্র্য আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে যেভাবে পেয়েছি, তেমনিভাবে খাতা-কলমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা শুনেছি। এই যে গ্যাস সংকট, সমাধানের সহজ উপায় হতো যদি রান্না ঘরে সোলার সিস্টেম ডেভেলপ করা যেতো। সরকার স্থানীয় উৎপাদনের ওপর জোর দিচ্ছে, এতে আমাদের অগ্রগতি বেশী হবে। সরকার এনার্জি মিক্স করতে চায়। খুঁজে বের করতে হবে কোন কোন জায়গায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করতে পারলে আমাদের এনার্জি ইমপোর্ট কম করা লাগবে। এজন্য সরকার এই খাতের কর কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে যা যা করা দরকার সরকার করবে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


নবায়নযোগ্য শক্তিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশে চলমান মারাত্মক জ্বালানি সংকট, গ্যাসের ঘাটতি এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলায় বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানির (ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি) দ্রুত সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক খাতসংশ্লিষ্টরা।

তারা মনে করেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশকে স্বাবলম্বী করতে হলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সোলার হোম সিস্টেম, কৃষিতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যাটারি ব্যাকআপ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারকে কেবল নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি জোরদার সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

রবিবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) অডিটোরিয়ামে ইআরএফ এবং ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি প্ল্যাটফর্মের (ডিআরইপি) যৌথ আয়োজনেবিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সৌরবিদ্যুৎ সমাধানশীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে অংশ নিয়ে সিপিডির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মো. মেহেদী হাসান শামীম বলেন, "আমরা ২০২৫ সালের একটা জরিপ করেছিলাম, সেখানে দেখেছি ৪৫ শতাংশ সোলার নন ফাংশন হয়ে আছে।"

পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি রুফটপ সোলার সচল রাখতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজ নেট মিটারিং আবেদনের ওপর জোর দেন।

জটিলতা দূর করে সহজ অর্থায়নের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) কোম্পানি সেক্রেটারি এস এম মুনির বলেন, "আমরা চাই প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুমোদন না নিয়ে যে কোনো একটি জায়গা থেকে অনুমোদন নিতে হবে।"

তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, "ডিস্ট্রিবিউশন পর্যায়ে সোলার প্যানেল-ইনভার্টারসহ যেগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলো ট্যাক্স মওকুফ পায়নি। সৌরবিদ্যুৎ সেক্টরে প্রাইমারি একটা ফাইন্যান্সের প্রয়োজন হয়। স্থানীয় পর্যায়ে যারা -১০ লাখ টাকার প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে চায়, তারা স্থানীয় কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে কোনো সহায়তা পায় না।"

জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হাসান মেহেদী বলেন, "আমাদের সংকট একদিনের না, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এটা তৈরি করেছি। বিষয়টা এমন হয়েছে যে অনেকগুলো গাড়ি কিনে ফেলেছি, কিন্তু তেল নেই। এর সমাধান আমাদের গ্রামের মানুষ করতে পারবে।" রুফটপ সোলার জনপ্রিয় করতে নব্বইয়ের দশকের পরিচিত বিজ্ঞাপনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, "যেমন নব্বইয়ের দশকে একটা বিজ্ঞাপন তৈরি হয়েছিল- 'রাত ১২টা বাজে, এখন পাম্প চালাও সেচ দাও' ধরনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে রুফটপ সোলারকে জনপ্রিয় করতে হবে।"

খাতের নানা চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে অ্যাকশন-এইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন ম্যানেজার আবুল আজাদ বলেন, "আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের জন্য যে ইকোসিস্টেম প্রয়োজন, সেটি পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। সারাদেশে আমাদের প্রায় ৬৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম আছে। এখন সবমিলিয়ে হয়তো ২০ শতাংশ সোলার চালু আছে।"

আলোচনায় অংশ নিয়ে ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি প্ল্যাটফর্মের (ডিআরইপি) সমন্বয়ক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রফেসর রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, "নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে প্রথমে দরকার সামাজিক আন্দোলন। আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে বাসযোগ্য পৃথিবী আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে চাই। প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ জীববৈচিত্র রক্ষা করতে হবে, এজন্য সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন।"

সামাজিক চাহিদার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, "সমাজের ভেতর থেকে যদি চাহিদা না আসে তাহলে মানুষ গ্রহণ করবে না।"

বর্তমান গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "দারিদ্র্য আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে যেভাবে পেয়েছি, তেমনিভাবে খাতা-কলমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা শুনেছি। এই যে গ্যাস সংকট, সমাধানের সহজ উপায় হতো যদি রান্না ঘরে সোলার সিস্টেম ডেভেলপ করা যেতো। সরকার স্থানীয় উৎপাদনের ওপর জোর দিচ্ছে, এতে আমাদের অগ্রগতি বেশী হবে। সরকার এনার্জি মিক্স করতে চায়। খুঁজে বের করতে হবে কোন কোন জায়গায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করতে পারলে আমাদের এনার্জি ইমপোর্ট কম করা লাগবে। এজন্য সরকার এই খাতের কর কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে যা যা করা দরকার সরকার করবে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত