সংবাদ

খালের দখলদারিত্বে তলিয়ে গেল কৃষকের স্বপ্ন


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

খালের দখলদারিত্বে তলিয়ে গেল কৃষকের স্বপ্ন
জলাবদ্ধ মাঠে আবাদের অপেক্ষায় সাতক্ষীরার কৃষকেরা।। ছবি : সংবাদ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ঝুরঝুরি খালটি এখন নামেই কেবল খাল। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনায় এটি পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা হারিয়েছে। খালের মুখ বন্ধ করে প্রভাবশালী চক্রের মাছের ঘের তৈরির ফলে কয়েক মাসের স্থায়ী জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়েছেন শত শত কৃষক পরিবার।

বর্তমানে ভেটখালী, তারানীপুর ও মানিকখালী বিলের প্রায় হাজার বিঘা ফসলি জমি ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে। আবাদ করতে না পেরে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি ও উপচে পড়া পানি ঝুরঝুরি খালে গিয়ে জমে। কিন্তু খালের শেষ সীমানায় পটুয়াখালী-ভেটখালী প্রধান সড়ক এবং স্থানীয় কয়েকজনের বসতভিটা থাকায় পানি সরতে পারছে না। ফলে মাঠের পর মাঠ ফসল, বসতভিটা ও কাঁচা রাস্তা মাসের পর মাস পানিতে ডুবে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তারানীপুর গ্রামের সমসের, মজিদ কারিগর ও সোরা গ্রামের আশরাফ আলী মোল্যাসহ বেশ কয়েকজন খালের জমি দখল করে ঘেরের বেড়িবাঁধ দিয়েছেন। খালের পাশেই বসবাসকারী প্রান্তিক মুণ্ডা সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

তারানীপুর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঝুরঝুরি খাল দখল ও পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় আমরা প্রতি বছরই বর্ষায় নিঃস্ব হচ্ছি। এ বছর পানির জন্য ধানের বীজতলা পর্যন্ত তৈরি করতে পারছি না। বসতভিটার চারপাশ পানিতে থৈ থৈ করছে। এভাবে চলতে থাকলে এই অঞ্চলের কৃষকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যাবে এবং এলাকার দারিদ্র্য চরম রূপ নেবে।’

মুণ্ডা সম্প্রদায়ের প্রিয়তোষ মুণ্ডা বলেন, ‘বর্ষা এলেই আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। ধান ও সবজি সব নষ্ট হয়ে যায়, কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়ার উপক্রম হয়। শুধু তাই নয়, ঘরের চারপাশে থৈ থৈ পানির কারণে ছোট ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের সারাক্ষণ আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়।’

অভিযুক্ত সমসের আলীর দাবি, সরকার যদি খাল পুনঃখনন করে পানি সরানোর ব্যবস্থা করে, তবে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন বলেন, ‘পরিষদের উদ্যোগে আংশিক খনন করা হয়েছিল। তবে খালের ওপর সড়ক ও ব্যক্তিগত জমি থাকায় এটিকে মানিকখালী খালের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।’

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক জানান, 'উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরেজমিনে খালের বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং পানি নিষ্কাশন সুগম করতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


খালের দখলদারিত্বে তলিয়ে গেল কৃষকের স্বপ্ন

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ঝুরঝুরি খালটি এখন নামেই কেবল খাল। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনায় এটি পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা হারিয়েছে। খালের মুখ বন্ধ করে প্রভাবশালী চক্রের মাছের ঘের তৈরির ফলে কয়েক মাসের স্থায়ী জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়েছেন শত শত কৃষক পরিবার।

বর্তমানে ভেটখালী, তারানীপুর ও মানিকখালী বিলের প্রায় হাজার বিঘা ফসলি জমি ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে। আবাদ করতে না পেরে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি ও উপচে পড়া পানি ঝুরঝুরি খালে গিয়ে জমে। কিন্তু খালের শেষ সীমানায় পটুয়াখালী-ভেটখালী প্রধান সড়ক এবং স্থানীয় কয়েকজনের বসতভিটা থাকায় পানি সরতে পারছে না। ফলে মাঠের পর মাঠ ফসল, বসতভিটা ও কাঁচা রাস্তা মাসের পর মাস পানিতে ডুবে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তারানীপুর গ্রামের সমসের, মজিদ কারিগর ও সোরা গ্রামের আশরাফ আলী মোল্যাসহ বেশ কয়েকজন খালের জমি দখল করে ঘেরের বেড়িবাঁধ দিয়েছেন। খালের পাশেই বসবাসকারী প্রান্তিক মুণ্ডা সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

তারানীপুর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঝুরঝুরি খাল দখল ও পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় আমরা প্রতি বছরই বর্ষায় নিঃস্ব হচ্ছি। এ বছর পানির জন্য ধানের বীজতলা পর্যন্ত তৈরি করতে পারছি না। বসতভিটার চারপাশ পানিতে থৈ থৈ করছে। এভাবে চলতে থাকলে এই অঞ্চলের কৃষকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যাবে এবং এলাকার দারিদ্র্য চরম রূপ নেবে।’

মুণ্ডা সম্প্রদায়ের প্রিয়তোষ মুণ্ডা বলেন, ‘বর্ষা এলেই আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। ধান ও সবজি সব নষ্ট হয়ে যায়, কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়ার উপক্রম হয়। শুধু তাই নয়, ঘরের চারপাশে থৈ থৈ পানির কারণে ছোট ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের সারাক্ষণ আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়।’

অভিযুক্ত সমসের আলীর দাবি, সরকার যদি খাল পুনঃখনন করে পানি সরানোর ব্যবস্থা করে, তবে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন বলেন, ‘পরিষদের উদ্যোগে আংশিক খনন করা হয়েছিল। তবে খালের ওপর সড়ক ও ব্যক্তিগত জমি থাকায় এটিকে মানিকখালী খালের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।’

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক জানান, 'উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরেজমিনে খালের বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং পানি নিষ্কাশন সুগম করতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত