সংবাদ

কূটনৈতিক দৌড়ে বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

কূটনৈতিক দৌড়ে বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ

  • ভৌগোলিক সীমারেখায় আটকে গেল আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদানের পথ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রভাবশালী আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সদস্য হওয়ার কূটনৈতিক দৌড়ে বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। বর্তমান নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন না আসলে বাংলাদেশের জন্য এই আন্তর্জাতিক জোটে যোগদানের সুযোগ কার্যত অসম্ভব বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন জোটের মহাসচিব কাও কিম হোর্ন।

শুধু বাংলাদেশ নয়, একই ভৌগোলিক কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ পাপুয়া নিউগিনির জন্যও এই জোটের দরজা আপাতত বন্ধ থাকছে।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আয়োজিত ১০ম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় জোটের এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন আসিয়ান মহাসচিব কাও কিম হোর্ন। তিনি সরাসরি জানান, ভৌগোলিক অবস্থানের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে না পারায় বাংলাদেশ এবং পাপুয়া নিউগিনি আসিয়ানের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে না।

আসিয়ান সনদের আইনি কাঠামোর উল্লেখ করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাও কিম হোর্ন বলেন, "তিমুর-লেস্তেকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আসিয়ানের সম্প্রসারণ কার্যত শেষ হয়েছে।"

তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, "আসিয়ান সনদ অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত স্বীকৃত ১১টি দেশই জোটের আওতায় রয়েছে। বাংলাদেশ পাপুয়া নিউগিনি এই ভৌগোলিক অঞ্চলের বাইরে অবস্থান করায় তাদের সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই।"

মূলত আসিয়ান সনদের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো নতুন কোনো দেশকে অবশ্যই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। কিন্তু ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় এবং পাপুয়া নিউগিনি ওশেনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সনদ অনুযায়ী তারা বাদ পড়ছে।

তবে ভবিষ্যতে কোনো পথ খোলা আছে কি না, সে বিষয়ে আলো ফেলে মহাসচিব কাও কিম হোর্ন বলেন, "বাংলাদেশ বা পাপুয়া নিউগিনিকে সদস্য করতে চাইলে প্রথমে আসিয়ান সনদ সংশোধন করতে হবে।"

এর জন্য জোটের সবকটি সদস্যদেশের সর্বসম্মত অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সনদে ভৌগোলিক সংজ্ঞা পরিবর্তন না হলে বর্তমান ১১টি দেশই আসিয়ানের সদস্য হিসেবে থাকবে।

দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর গত বছর আসিয়ানের সর্বশেষ সদস্যপদ পায় তিমুর-লেস্তে। ২০১১ সাল থেকে চলা এই দীর্ঘ জটিল প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ রসিকতা মিশিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা একসময় মন্তব্য করেছিলেন, "আসিয়ানে প্রবেশের চেয়ে যেন স্বর্গে যাওয়া সহজ!"

বাংলাদেশও বহু বছর ধরে আঞ্চলিক এই জোটে যুক্ত হতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে গত বছর মালয়েশিয়া আসিয়ানের চেয়ারম্যান থাকাকালে ঢাকার পক্ষ থেকে কুয়ালালামপুরের জোরালো সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছিল।

অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো প্রকাশ্যেই পাপুয়া নিউগিনির সদস্যপদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের কুয়ালালামপুর আসিয়ান বৈঠকে তিনি যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন, আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার সময়ে শক্তিশালী আসিয়ান গড়ে তুলতে পাপুয়া নিউগিনির অংশগ্রহণের প্রস্তাব বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু আসিয়ান প্রধানের সাম্প্রতিক এই স্পষ্ট বার্তার পর সনদ পরিবর্তন ছাড়া ঢাকার জন্য আসিয়ানের দ্বার উন্মোচিত হওয়া অত্যন্ত অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


কূটনৈতিক দৌড়ে বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

  • ভৌগোলিক সীমারেখায় আটকে গেল আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদানের পথ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রভাবশালী আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সদস্য হওয়ার কূটনৈতিক দৌড়ে বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। বর্তমান নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন না আসলে বাংলাদেশের জন্য এই আন্তর্জাতিক জোটে যোগদানের সুযোগ কার্যত অসম্ভব বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন জোটের মহাসচিব কাও কিম হোর্ন।

শুধু বাংলাদেশ নয়, একই ভৌগোলিক কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ পাপুয়া নিউগিনির জন্যও এই জোটের দরজা আপাতত বন্ধ থাকছে।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আয়োজিত ১০ম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় জোটের এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন আসিয়ান মহাসচিব কাও কিম হোর্ন। তিনি সরাসরি জানান, ভৌগোলিক অবস্থানের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে না পারায় বাংলাদেশ এবং পাপুয়া নিউগিনি আসিয়ানের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে না।

আসিয়ান সনদের আইনি কাঠামোর উল্লেখ করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাও কিম হোর্ন বলেন, "তিমুর-লেস্তেকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আসিয়ানের সম্প্রসারণ কার্যত শেষ হয়েছে।"

তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, "আসিয়ান সনদ অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত স্বীকৃত ১১টি দেশই জোটের আওতায় রয়েছে। বাংলাদেশ পাপুয়া নিউগিনি এই ভৌগোলিক অঞ্চলের বাইরে অবস্থান করায় তাদের সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই।"

মূলত আসিয়ান সনদের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো নতুন কোনো দেশকে অবশ্যই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। কিন্তু ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় এবং পাপুয়া নিউগিনি ওশেনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সনদ অনুযায়ী তারা বাদ পড়ছে।

তবে ভবিষ্যতে কোনো পথ খোলা আছে কি না, সে বিষয়ে আলো ফেলে মহাসচিব কাও কিম হোর্ন বলেন, "বাংলাদেশ বা পাপুয়া নিউগিনিকে সদস্য করতে চাইলে প্রথমে আসিয়ান সনদ সংশোধন করতে হবে।"

এর জন্য জোটের সবকটি সদস্যদেশের সর্বসম্মত অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সনদে ভৌগোলিক সংজ্ঞা পরিবর্তন না হলে বর্তমান ১১টি দেশই আসিয়ানের সদস্য হিসেবে থাকবে।

দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর গত বছর আসিয়ানের সর্বশেষ সদস্যপদ পায় তিমুর-লেস্তে। ২০১১ সাল থেকে চলা এই দীর্ঘ জটিল প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ রসিকতা মিশিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা একসময় মন্তব্য করেছিলেন, "আসিয়ানে প্রবেশের চেয়ে যেন স্বর্গে যাওয়া সহজ!"

বাংলাদেশও বহু বছর ধরে আঞ্চলিক এই জোটে যুক্ত হতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে গত বছর মালয়েশিয়া আসিয়ানের চেয়ারম্যান থাকাকালে ঢাকার পক্ষ থেকে কুয়ালালামপুরের জোরালো সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছিল।

অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো প্রকাশ্যেই পাপুয়া নিউগিনির সদস্যপদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের কুয়ালালামপুর আসিয়ান বৈঠকে তিনি যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন, আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার সময়ে শক্তিশালী আসিয়ান গড়ে তুলতে পাপুয়া নিউগিনির অংশগ্রহণের প্রস্তাব বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু আসিয়ান প্রধানের সাম্প্রতিক এই স্পষ্ট বার্তার পর সনদ পরিবর্তন ছাড়া ঢাকার জন্য আসিয়ানের দ্বার উন্মোচিত হওয়া অত্যন্ত অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত