রাজধানীর তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও ঢাকা কলেজে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষ দাবি করেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ক্যাম্পাসগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা
হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে বিকেলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক (৫২) আহত হন। পরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তিনি বর্তমানে জরুরি বিভাগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একই ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামীম মাহমুদ (৩০), সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ (৩০) ও লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছার উদ্দিন রাব্বি (২৭) আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, হলের সিট অবৈধভাবে দখলের প্রতিবাদ করায় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অপরদিকে ছাত্রদলের দাবি, ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।
চকবাজার থানার ওসি মো. মামুন জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে ক্যাম্পাসের বাইরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের দাবি, সংঘর্ষে তাদের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরে আহতদের দেখতে ও খোঁজ নিতে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে জড়ো হন। একই সময় হাসপাতালের মূল ফটকের বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জবি ছাত্রশিবির-সমর্থিত ভিপি রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে ছাত্রদল হামলা চালায়। এতে আমাদের প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।’
অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের অপকর্ম আড়াল করতেই তারা এসব করছে। তারা মব সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘অনুষ্ঠান চলাকালে বাইরে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। জুলাইবিরোধী কোনো শক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।’
ঢাকা কলেজ
বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে আছে। ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওসমান গণি বলেন, ‘তিনটি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
এদিন সকালেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে একই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি ক্যাম্পাসে একই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে-পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে কিনা।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও ঢাকা কলেজে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষ দাবি করেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ক্যাম্পাসগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা
হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে বিকেলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক (৫২) আহত হন। পরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তিনি বর্তমানে জরুরি বিভাগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একই ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামীম মাহমুদ (৩০), সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ (৩০) ও লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছার উদ্দিন রাব্বি (২৭) আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, হলের সিট অবৈধভাবে দখলের প্রতিবাদ করায় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অপরদিকে ছাত্রদলের দাবি, ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।
চকবাজার থানার ওসি মো. মামুন জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে ক্যাম্পাসের বাইরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের দাবি, সংঘর্ষে তাদের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরে আহতদের দেখতে ও খোঁজ নিতে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে জড়ো হন। একই সময় হাসপাতালের মূল ফটকের বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জবি ছাত্রশিবির-সমর্থিত ভিপি রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে ছাত্রদল হামলা চালায়। এতে আমাদের প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।’
অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের অপকর্ম আড়াল করতেই তারা এসব করছে। তারা মব সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘অনুষ্ঠান চলাকালে বাইরে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। জুলাইবিরোধী কোনো শক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।’
ঢাকা কলেজ
বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে আছে। ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওসমান গণি বলেন, ‘তিনটি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
এদিন সকালেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে একই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি ক্যাম্পাসে একই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে-পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে কিনা।

আপনার মতামত লিখুন