আমেরিকায় বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি ডলার আত্মসাৎ করে বিলাসবহুল জীবনযাপন ও আগের গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের দায়ে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিনিয়োগ উপদেষ্টাকে দীর্ঘ ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। চাঞ্চল্যকর এই প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের তালিকায় নাম রয়েছে বিখ্যাত আমেরিকান ফুটবল তারকা এবং বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফটের স্বামী ট্র্যাভিস কেলসির।
আদালতের কৌঁসুলি শুনানিতে তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করলেও ঠিক কত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল, সেই নির্দিষ্ট তথ্য এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
মিসৌরি আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৮ বছর বয়সী অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ জাওহার বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সাড়ে তিন কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করলেও বাস্তবে বিনিয়োগ করেছিলেন নামমাত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট বিচারক জ্যাকারি এম ব্লুস্টোন গত মঙ্গলবার এক আদেশে জাওহারকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের প্রায় সাড়ে একত্রিশ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বিচারক এই বিশাল জালিয়াতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে আখ্যায়িত করে জানান, বিনিয়োগকারীদের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে এবং সময়মতো ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না করার বিষয়টি তার সাজা বৃদ্ধি করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০১০ সালে ‘সুইফটআর্ক ক্যাপিটাল এলএলসি’ নামের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গঠন করে তিনি প্রতারণার প্রাথমিক জাল বিস্তার করেন।
প্রথমে শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক লেনদেন করলেও পরবর্তীতে গ্রাহকদের প্রায় সব অর্থ ‘ফিলিপ মরিস পাকিস্তান’ নামক একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানে ঢালতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সেই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ব্যাপক দরপতন ঘটলেও তিনি তা গ্রাহকদের থেকে সম্পূর্ণ গোপন রেখে ভুয়া লভ্যাংশের বানোয়াট তথ্য দিয়ে আসছিলেন।
পনজি স্কিমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে জাওহার ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহার, বিলাসবহুল হোটেল বুকিং, অস্টিন ও নিউইয়র্কে দামি অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়সহ রাজকীয় জীবনযাপন করতেন।
এমনকি ২০২২ সালের জুনে টেক্সাস স্টেট সিকিউরিটিজ বোর্ড তার সব বিনিয়োগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও বন্ধের নির্দেশ দিলেও তিনি সেই নিষেধাজ্ঞার কথা সম্পূর্ণ গোপন রেখে নতুন বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলা অব্যাহত রাখেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি আরও ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেন।
দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ডিসেম্বরে গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি আদালতে অপরাধ স্বীকার করেন। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে ১১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের মুখোমুখি হলেন এই প্রতারক।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমেরিকায় বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি ডলার আত্মসাৎ করে বিলাসবহুল জীবনযাপন ও আগের গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের দায়ে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিনিয়োগ উপদেষ্টাকে দীর্ঘ ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। চাঞ্চল্যকর এই প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের তালিকায় নাম রয়েছে বিখ্যাত আমেরিকান ফুটবল তারকা এবং বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফটের স্বামী ট্র্যাভিস কেলসির।
আদালতের কৌঁসুলি শুনানিতে তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করলেও ঠিক কত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল, সেই নির্দিষ্ট তথ্য এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
মিসৌরি আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৮ বছর বয়সী অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ জাওহার বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সাড়ে তিন কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করলেও বাস্তবে বিনিয়োগ করেছিলেন নামমাত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট বিচারক জ্যাকারি এম ব্লুস্টোন গত মঙ্গলবার এক আদেশে জাওহারকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের প্রায় সাড়ে একত্রিশ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বিচারক এই বিশাল জালিয়াতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে আখ্যায়িত করে জানান, বিনিয়োগকারীদের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে এবং সময়মতো ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না করার বিষয়টি তার সাজা বৃদ্ধি করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০১০ সালে ‘সুইফটআর্ক ক্যাপিটাল এলএলসি’ নামের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গঠন করে তিনি প্রতারণার প্রাথমিক জাল বিস্তার করেন।
প্রথমে শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক লেনদেন করলেও পরবর্তীতে গ্রাহকদের প্রায় সব অর্থ ‘ফিলিপ মরিস পাকিস্তান’ নামক একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানে ঢালতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সেই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ব্যাপক দরপতন ঘটলেও তিনি তা গ্রাহকদের থেকে সম্পূর্ণ গোপন রেখে ভুয়া লভ্যাংশের বানোয়াট তথ্য দিয়ে আসছিলেন।
পনজি স্কিমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে জাওহার ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহার, বিলাসবহুল হোটেল বুকিং, অস্টিন ও নিউইয়র্কে দামি অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়সহ রাজকীয় জীবনযাপন করতেন।
এমনকি ২০২২ সালের জুনে টেক্সাস স্টেট সিকিউরিটিজ বোর্ড তার সব বিনিয়োগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও বন্ধের নির্দেশ দিলেও তিনি সেই নিষেধাজ্ঞার কথা সম্পূর্ণ গোপন রেখে নতুন বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলা অব্যাহত রাখেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি আরও ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেন।
দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ডিসেম্বরে গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি আদালতে অপরাধ স্বীকার করেন। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে ১১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের মুখোমুখি হলেন এই প্রতারক।

আপনার মতামত লিখুন