বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। গত জুন শেষে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। প্রথমবারের মতো ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নামে গত মার্চে। এর আগে কখনো প্রবৃদ্ধি এতো নিচে নামেনি। বর্তমান সরকার প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী– দীর্ঘ সময় ধরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দুই অংকের ওপরে ছিলো। সর্বশেস ২০২৪ সালের জুলাইতে প্রবৃদ্ধি ছিলো ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ। এরপরের মাসে তা কমে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমে আসে। এর পর ধারাবাহিকভাবে কমতে–কমতে এ পর্যায়ে নেমে যায়। সব শেষ গতবছরের জুন শেষে প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে যায়। গতবছরের ডিসেম্বরে আরও কমে হয় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। অবশ্য বিগত সরকারের সময়ে বিতরণ করা ঋণের গুণগত মান নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিলো। বেনামে ঋণ নিয়ে বিপুল অর্থ পাচারের তথ্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এরই মধ্যে বিদেশে কারও কারও সম্পদ জব্দ হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। আর বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ৬ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। আর অর্থবছর শেষে ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। আগের মুদ্রানীতিতে গত জুন পর্যন্ত সাড়ে ৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে। মুদ্রা সরাবরাহের লক্ষ্যমাত্রা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ১১ শতাংশ। রিজার্ভ মানির প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ শতাংশে নামানো হবে। আর এ সব লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্প্রতি প্রধান নীতি সুদহার রেপোতে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। আর বিশেষ ধারে ব্যবহারিত এসএলএফ রেট কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ব্যাংকগুলোর টাকা রাখতে ব্যবহারিত এসডিএফ সাড়ে ৭ শতাংশে অপরির্তিত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী– ব্যাংকগুলোর কাছে এখন তারল্যের কোনো সঙ্কট নেই। গত মে পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিলো ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। তবে ব্যাংকগুলো বেসরকারি বিনিয়োগ করতে না পারায় এখন ট্রেজারি বিল–বন্ডে বেশি টাকা খাটাচ্ছে। গত অর্থবছর ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে রেকর্ড এক লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এর আগে কোনো এক বছরে সর্বোচ্চ এক লাখ ২২ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণের রেকর্ড ছিলো ২০২২–২৩ অর্থবছর।

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। গত জুন শেষে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। প্রথমবারের মতো ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নামে গত মার্চে। এর আগে কখনো প্রবৃদ্ধি এতো নিচে নামেনি। বর্তমান সরকার প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী– দীর্ঘ সময় ধরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দুই অংকের ওপরে ছিলো। সর্বশেস ২০২৪ সালের জুলাইতে প্রবৃদ্ধি ছিলো ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ। এরপরের মাসে তা কমে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমে আসে। এর পর ধারাবাহিকভাবে কমতে–কমতে এ পর্যায়ে নেমে যায়। সব শেষ গতবছরের জুন শেষে প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে যায়। গতবছরের ডিসেম্বরে আরও কমে হয় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। অবশ্য বিগত সরকারের সময়ে বিতরণ করা ঋণের গুণগত মান নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিলো। বেনামে ঋণ নিয়ে বিপুল অর্থ পাচারের তথ্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এরই মধ্যে বিদেশে কারও কারও সম্পদ জব্দ হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। আর বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ৬ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। আর অর্থবছর শেষে ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। আগের মুদ্রানীতিতে গত জুন পর্যন্ত সাড়ে ৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে। মুদ্রা সরাবরাহের লক্ষ্যমাত্রা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ১১ শতাংশ। রিজার্ভ মানির প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ শতাংশে নামানো হবে। আর এ সব লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্প্রতি প্রধান নীতি সুদহার রেপোতে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। আর বিশেষ ধারে ব্যবহারিত এসএলএফ রেট কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ব্যাংকগুলোর টাকা রাখতে ব্যবহারিত এসডিএফ সাড়ে ৭ শতাংশে অপরির্তিত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী– ব্যাংকগুলোর কাছে এখন তারল্যের কোনো সঙ্কট নেই। গত মে পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিলো ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। তবে ব্যাংকগুলো বেসরকারি বিনিয়োগ করতে না পারায় এখন ট্রেজারি বিল–বন্ডে বেশি টাকা খাটাচ্ছে। গত অর্থবছর ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে রেকর্ড এক লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এর আগে কোনো এক বছরে সর্বোচ্চ এক লাখ ২২ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণের রেকর্ড ছিলো ২০২২–২৩ অর্থবছর।

আপনার মতামত লিখুন