সংবাদ

ভারতের ২৫ টাকার মরিচ দেশে ঢুকেই ১৬০, কেন?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

ভারতের ২৫ টাকার মরিচ দেশে ঢুকেই ১৬০, কেন?
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধির মধ্যে দুইদিনে ৩৮ হাজার ৪২০ কেজি ভারতীয় কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে। ভারত থেকে ২৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে মরিচ কেনা হলেও দেশের ক্রেতার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত কেজিপ্রতি ১৩৫ টাকা থেকে ১৬০ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়। মঙ্গলবার প্রবেশ করেছে ২৯ হাজার ২২০ কেজি। আর সোমবার প্রবেশ করে ৯ হাজার ২০০ কেজি মরিচ।

সীমান্তের ওপারে আরও কয়েক ট্রাক কাঁচা মরিচ নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সরকারি ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সেগুলো বন্দরে প্রবেশ করবে বলে জানান তিনি। এসব চালানের আমদানিকারক শিমু এন্টারপ্রাইজ ও রয়েল ইন্টারপ্রাইজ।

আমদানিকারকরা জানান, আমদানিকৃত ইনভয়েজে প্রতি কেজির দাম ২৫ থেকে ৪০ টাকা উল্লেখ থাকলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রতি কেজি ০.৫০ ডলারে শুল্কায়ন করায় মূল্য দাঁড়ায় ৬১.৭৮ টাকা। এরপর ইন্স্যুরেন্স, ল্যান্ডিং চার্জ ও ডিউটি দিয়ে প্রতি কেজি মরিচের দাম পড়ে ৬৪ থেকে ৭৯ টাকা।

তারপর ভারতীয় রপ্তানিকারকের খরচ, ট্রাক ভাড়া, এলসি ওপেন ব্যাংক খরচ, ডলার মূল্য সমন্বয়, লেবার, কাস্টমস, পোর্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট খরচ ও ঢাকায় পাঠানোর ভাড়া বাবদ আরও ৭০ থেকে ৮০ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে প্রতি কেজি মরিচের দাম দাঁড়ায় ১৩৫ থেকে ১৬০ টাকা।

মরিচ আমদানিকারক শাহাজান কবির জানান, ‘সামান্য লাভ রেখে মরিচ বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম কমে আসবে। তবে পরিবহন, কাস্টমস, বন্দর, খালাসসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে আমরা লোকসানের মুখে পড়ছি।’

আরেক আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভারত থেকে ২৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে কিনে আনি। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেটার মিনিমাম মূল্য করেছে ৬১.৭৮ টাকা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি ক্রয় মূল্যের ওপর শুল্ক নিত, তবে আমরা আরও কম দামে বাজারে কাঁচা মরিচ সরবরাহ করতে পারতাম।’

বেনাপোল বাজারের কাঁচামালের পাইকারি ব্যবসায়ী ইছাহাক আলী জানান, দুইদিন আগেও বাজারে কাঁচা মরিচ ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকালে প্রতি কেজি ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও বিকেলের দিকে ২৫০-২৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন। আমদানি বাড়তে থাকলে বাজারে দাম আরও কমতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: বিডিনিউজ

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


ভারতের ২৫ টাকার মরিচ দেশে ঢুকেই ১৬০, কেন?

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধির মধ্যে দুইদিনে ৩৮ হাজার ৪২০ কেজি ভারতীয় কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে। ভারত থেকে ২৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে মরিচ কেনা হলেও দেশের ক্রেতার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত কেজিপ্রতি ১৩৫ টাকা থেকে ১৬০ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়। মঙ্গলবার প্রবেশ করেছে ২৯ হাজার ২২০ কেজি। আর সোমবার প্রবেশ করে ৯ হাজার ২০০ কেজি মরিচ।

সীমান্তের ওপারে আরও কয়েক ট্রাক কাঁচা মরিচ নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সরকারি ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সেগুলো বন্দরে প্রবেশ করবে বলে জানান তিনি। এসব চালানের আমদানিকারক শিমু এন্টারপ্রাইজ ও রয়েল ইন্টারপ্রাইজ।

আমদানিকারকরা জানান, আমদানিকৃত ইনভয়েজে প্রতি কেজির দাম ২৫ থেকে ৪০ টাকা উল্লেখ থাকলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রতি কেজি ০.৫০ ডলারে শুল্কায়ন করায় মূল্য দাঁড়ায় ৬১.৭৮ টাকা। এরপর ইন্স্যুরেন্স, ল্যান্ডিং চার্জ ও ডিউটি দিয়ে প্রতি কেজি মরিচের দাম পড়ে ৬৪ থেকে ৭৯ টাকা।

তারপর ভারতীয় রপ্তানিকারকের খরচ, ট্রাক ভাড়া, এলসি ওপেন ব্যাংক খরচ, ডলার মূল্য সমন্বয়, লেবার, কাস্টমস, পোর্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট খরচ ও ঢাকায় পাঠানোর ভাড়া বাবদ আরও ৭০ থেকে ৮০ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে প্রতি কেজি মরিচের দাম দাঁড়ায় ১৩৫ থেকে ১৬০ টাকা।

মরিচ আমদানিকারক শাহাজান কবির জানান, ‘সামান্য লাভ রেখে মরিচ বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম কমে আসবে। তবে পরিবহন, কাস্টমস, বন্দর, খালাসসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে আমরা লোকসানের মুখে পড়ছি।’

আরেক আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভারত থেকে ২৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে কিনে আনি। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেটার মিনিমাম মূল্য করেছে ৬১.৭৮ টাকা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি ক্রয় মূল্যের ওপর শুল্ক নিত, তবে আমরা আরও কম দামে বাজারে কাঁচা মরিচ সরবরাহ করতে পারতাম।’

বেনাপোল বাজারের কাঁচামালের পাইকারি ব্যবসায়ী ইছাহাক আলী জানান, দুইদিন আগেও বাজারে কাঁচা মরিচ ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকালে প্রতি কেজি ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও বিকেলের দিকে ২৫০-২৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন। আমদানি বাড়তে থাকলে বাজারে দাম আরও কমতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: বিডিনিউজ


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত