টানা ছয় দিন তীব্র সংকটের পর ফেনীতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ গ্রাহক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত আটটা থেকে জেলার গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্র ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস মিলতে শুরু করে।
বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাস সঞ্চালন কেন্দ্র (জিটিসিএল)-এর কার্যক্রম চালুর পর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত থেকে জেলার ১৪টি স্টেশনের মধ্যে ১০টিতে একযোগে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। ফলে রাত থেকেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ অপেক্ষা ছাড়াই যানবাহনগুলো গ্যাস নিতে পারছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেনী এলাকায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ ২৩ থেকে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সরবরাহ শতভাগে উন্নীত হবে এবং দূরবর্তী উপজেলাগুলোতেও সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে।
সরেজমিনে ফেনীর মহিপাল এলাকার হাজী নজির আহম্মদ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আগের মতো যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় নেই। চালকেরা অনায়াসেই গ্যাস নিতে পারছেন। ওই স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো. মাসুম জানান, রাত আটটা থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর গ্যাসের চাপও বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে।
মহিপাল এলাকার অটোরিকশা চালক আবদুল করিম বলেন, ‘গত কয়েক দিন পাম্পে পাম্পে ঘুরেও ঠিকমতো গ্যাস পাই নাই। লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ট্রিপ ধরতে পারিনি, দিনশেষে জমার টাকাই উঠত না। এখন কোনো ভিড় ছাড়াই গ্যাস পাচ্ছি।’ আরেক চালক মো. হাছান বলেন, গ্যাসের চাপ ভালো থাকায় একবার সিলিন্ডার ভরে সারাদিন নিশ্চিন্তে গাড়ি চালানো যাচ্ছে।
দূরপাল্লার সিএনজি চালক আবুল কাশেম জানান, গত কয়েক দিন মালিকের জমা আর নিজেদের রুটি-রুজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তারা। এখন সরবরাহ ঠিক থাকায় সেই শঙ্কা কেটেছে।
বিজিডিসিএল ফেনীর উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই এ সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হবে।
এর আগে, টানা ছয় দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ও তীব্র স্বল্পতার কারণে জেলায় যানবাহন চলাচল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছিল।
আপনার মতামত লিখুন