সংবাদ

নদী দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপের বার্তা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

নদী দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপের বার্তা
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাপক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিআইডি

বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যাসহ ঢাকার চারপাশের নদী দূষণ প্রতিরোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘নদী দূষণ এখন দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ বিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার তথ্য দিয়েছেন তার উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

বৈঠকে ঢাকার চারপাশের নদী দূষণ রোধে একটি সমন্বিত ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় করবে এবং নির্ধারিত সময় অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

বৈঠকে পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কাজের সঙ্গে পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ।

বৈঠকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং রাজধানীসংলগ্ন অন্যান্য নদীর বর্তমান পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খালগুলোর নাব্যতা হ্রাস এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতাকে নদী দূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

নদী দূষণ রোধে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) কার্যকরভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, বিদ্যমান পরিবেশ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, দূষণ যাতে বৃদ্ধি না পায় তাই প্রতিটি কারখানায় ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হবে। যারা নির্দেশনা মানবেন না, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা নেভাল এরিয়া কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


নদী দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপের বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যাসহ ঢাকার চারপাশের নদী দূষণ প্রতিরোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘নদী দূষণ এখন দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ বিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার তথ্য দিয়েছেন তার উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

বৈঠকে ঢাকার চারপাশের নদী দূষণ রোধে একটি সমন্বিত ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় করবে এবং নির্ধারিত সময় অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

বৈঠকে পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কাজের সঙ্গে পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ।

বৈঠকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং রাজধানীসংলগ্ন অন্যান্য নদীর বর্তমান পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খালগুলোর নাব্যতা হ্রাস এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতাকে নদী দূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

নদী দূষণ রোধে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) কার্যকরভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, বিদ্যমান পরিবেশ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, দূষণ যাতে বৃদ্ধি না পায় তাই প্রতিটি কারখানায় ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হবে। যারা নির্দেশনা মানবেন না, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা নেভাল এরিয়া কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত