সংবাদ

সাভারে অভিযানে ছাত্রদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু, পীরগাছায় থানা ঘেরাও


প্রতিনিধি, পীরগাছা (রংপুর)
প্রতিনিধি, পীরগাছা (রংপুর)
প্রকাশ: ৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

সাভারে অভিযানে ছাত্রদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু, পীরগাছায় থানা ঘেরাও
সাভারে নিহত ছাত্রদল নেতার মরদেহ নিয়ে পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। ছবি : সংবাদ

রংপুরের পীরগাছায় সাভারে নিহত ছাত্রদল নেতা মোনারুল হোসেন বকশীর মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাও করেছেন তার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের সঙ্গে ‘ছদ্মবেশে’ সাধারণ মানুষ অভিযানে অংশ নিয়ে মোনারুলকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে মোনারুলের মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করে পীরগাছা থানার সামনে অবস্থান নেন। তারা এই মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

নিহত ২৯ বছর বয়সী মোনারুল হোসেন বকশী সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তার বাবা জাফর আলী সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে সাভারে পীরগাছা থানা পুলিশের অভিযানে মিন্টু মিয়া নামে এক ব্যক্তি ও তার শ্যালক অংশ নেন। তারা পুলিশের পোশাক পরে ওই অভিযানে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে মোনারুল তাদের চিনে ফেললে ধস্তাধস্তির পর তাকে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়।

মোনারুলের বোন শাহিনুর বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘মিন্টু মিয়া পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ নন। পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক ও এসআই কনক রঞ্জনের সহযোগিতায় তারা পুলিশের পোশাক পরে অভিযানে যান। সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছার মোংলাকুটি এলাকার মিন্টু মিয়ার মেয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরির (জিডি) প্রেক্ষিতে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জনের নেতৃত্বে একটি দল সাভারের বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযানে যায়। সাভার মডেল থানা পুলিশও এই অভিযানে সহযোগিতা করে।

পুলিশের দাবি, যে বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে সেখানে নিখোঁজ কিশোরীকে পাওয়া যায়নি। অভিযানের সময় মোনারুলের বাবার সঙ্গে কথা বলার মাঝেই ছাদ থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ শোনা যায়। পরে নিচে মোনারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক সাধারণ মানুষের পুলিশের পোশাক পরার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে রংপুরে সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আসিফা আফরোজ আদরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাভারে অভিযানে ছাত্রদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু, পীরগাছায় থানা ঘেরাও

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রংপুরের পীরগাছায় সাভারে নিহত ছাত্রদল নেতা মোনারুল হোসেন বকশীর মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাও করেছেন তার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের সঙ্গে ‘ছদ্মবেশে’ সাধারণ মানুষ অভিযানে অংশ নিয়ে মোনারুলকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে মোনারুলের মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করে পীরগাছা থানার সামনে অবস্থান নেন। তারা এই মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

নিহত ২৯ বছর বয়সী মোনারুল হোসেন বকশী সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তার বাবা জাফর আলী সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে সাভারে পীরগাছা থানা পুলিশের অভিযানে মিন্টু মিয়া নামে এক ব্যক্তি ও তার শ্যালক অংশ নেন। তারা পুলিশের পোশাক পরে ওই অভিযানে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে মোনারুল তাদের চিনে ফেললে ধস্তাধস্তির পর তাকে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়।

মোনারুলের বোন শাহিনুর বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘মিন্টু মিয়া পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ নন। পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক ও এসআই কনক রঞ্জনের সহযোগিতায় তারা পুলিশের পোশাক পরে অভিযানে যান। সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছার মোংলাকুটি এলাকার মিন্টু মিয়ার মেয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরির (জিডি) প্রেক্ষিতে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জনের নেতৃত্বে একটি দল সাভারের বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযানে যায়। সাভার মডেল থানা পুলিশও এই অভিযানে সহযোগিতা করে।

পুলিশের দাবি, যে বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে সেখানে নিখোঁজ কিশোরীকে পাওয়া যায়নি। অভিযানের সময় মোনারুলের বাবার সঙ্গে কথা বলার মাঝেই ছাদ থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ শোনা যায়। পরে নিচে মোনারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক সাধারণ মানুষের পুলিশের পোশাক পরার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে রংপুরে সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আসিফা আফরোজ আদরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত